জঙ্গিবাদ রুখতে সালাফী-মওদুদীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার
দেশব্যাপী মানব হত্যা, গুম, জঙ্গিবাদ, সিরিয়াল কিলিংয়ের প্রতিবাদে ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে মানবন্ধন আয়োজন করেছে ইসলামী ছাত্রসেনা ঢাকা মহানগর।
মঙ্গলবার (২১ জুন) ঢাকা প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত এই মানবন্ধনে ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি ছাত্রনেতা এম মনির হোসাইন বলেন, জঙ্গিবাদকে রুখতে হলে সালাফী-মওদুদীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। সরকার ও জনগণ একসাথে হয়ে তাদের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতাবোধ সৃষ্টি করতে হবে।
জঙ্গিবাদের কারণে আজ সিরিয়া,আফগানিস্তানের অবস্থা শোচনীয়। সবাইকে বুঝতে হবে কোন মতাদর্শ এই জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে! আই.এস, আল কায়েদা, বোকো হারাম, সিরিয়ান সালাফী সহ বিশ্বের সকল জঙ্গি গোষ্ঠীই ভ্রান্ত ওহাবী আকিদায় বিশ্বাসী এবং বাংলাদেশের তাদেরই অনুসারী আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটই), জামাতুল মুজাহিদ বাংলাদেশ (জেএমবি), হরকাতুল জিহাদ (হুজি), হিজবুত তাওহিদ, সালাফী, আহলে হাদিসরাই এই ওহাবী মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এবং ভ্রান্ত মওদুদীবাদ প্রচারক্বারি দেশদ্রোহী রাজাকার জামাত-শিবিররা তাদের সহযোগিতা করছে। যারা তাদের মতের বিপক্ষে বিশ্বাসী,তাদের কে হত্যা করা তারা জায়েজ এবং পুণ্যের কাজ মনে করে।
এক সময়ের পিস টিভির আলোচক,আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসীম রহমানী বিভিন্নভাবে ওয়াজে মাহফিলে এমনভাবে বক্তব্য দিত যে উপস্থিত সকল জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট হত। যদিও সরকারের সক্রিয়তার ফলশ্রুতিতে তিনি জেলখানায় আছেন। কিন্তু তার মতো পিস টিভির আরও অনেক আলোচক আছেন যারা এখনো এই ধরনের উসকানি মুলক বক্তব্য দিয়েই যাচ্ছেন। যেমন, মুজাফফর বিন মহসিন, যাকে শাইখ নুরুল ইসলাম ফারুকি হত্যাকাণ্ডের জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং তাকে রিমান্ডেও নেয়া হয়েছিল।
পিস টিভির আরেকজন আলোচক ইউসুফ বিন রাজ্জাক,যিনি জেএমবি প্রতিষ্ঠাতা শায়েখ আব্দুর রহমানের অন্যতম অনুসারী এবং বর্তমানে তিনি তার বক্তব্যে,জুমার খুতবাতে নানা উসকানি মূলক কথা বলেন, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পবিত্র হাদিস শরীফ নিজের মনগড়া ভাবে উপস্থাপন করেন, যেখানে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর শানে বেয়াদবি হচ্ছে। এবং যারা তার অনুসারিরাও জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। তাই সরকারের নিকট দাবী থাকবে জঙ্গি গোষ্ঠীর চ্যানেল পিসটিভি অবিলম্বে বন্ধ করে দেয়া হক,যাতে সমাজে ফিতনা সৃষ্টি না হয় এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা এই জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে, প্রচার করছে, তাদেরকেও আইনের আওতায় এনে যথাযথশাস্তি প্রদান করা হক।
প্রয়োজনে আমাদের আলেম সমাজ,পীর মাশায়েখদের সাথে নিয়ে একসাথে কাজ করতে হবে জানান তিনি।
মানববন্ধনে প্রধান বক্তা ইসলামী ছাত্রসেনা সম্মিলিত বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার সভাপতি এবিএম আরাফাত বলেন, বর্তমানে সমাজে হত্যা, ধর্ষণ বেড়েই চলছে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে যথাযথ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা। ফলশ্রুতিতে আইনের শাসনের প্রয়োগের অভাবে দিন দিন তা আরো বেড়েই চলছে। কিছুদিন পূর্বে তনু হত্যা হল, তার হত্যাকারী কে এখনো গ্রেফতার করা হলনা, কয়দিন আগে চট্টগ্রামে সাহসী পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা মিতু নৃশংসভাবে হত্যা হল, তার হত্যাকারীও এখনো গ্রেফতার হলনা। আমরা ফিরে যেতে চাই ২০১৪ সালে ২৭ আগস্ট, যেদিন নির্মমভাবে হত্যা হয়েছিল বিশিষ্ট ইসলামী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাইখ নুরুল ইসলাম ফারুকি কে! যিনি জঙ্গি সালাফীদের বিরুদ্ধে কথা বলতেন, অথচ এখনো তার হত্যাকারীদেরকে গ্রেফতার করা হলনা।
কিন্তু ঠিকি জঙ্গিবাদ মতবাদপন্থীরা তাদের ওহাবী মতবাদ প্রচার করেই যাচ্ছে। তাই আগেও বলেছি, এখনো বলছি অবিলম্বে শাইখ নুরুল ইসলাম ফারুকির হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হোক বলে জানান তিনি।
এই মানবন্ধনের সভাপতি ইসলামী ছাত্রসেনা ঢাকা মহানগর সভাপতি ছাত্রনেতা শেখ ফরিদ মজুমদার বলেন,বাংলাদেশ এক দিকে চলছে ইসলাম বিরোধী শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন,ইসলাম বিদ্বেষীদের নগ্ন হস্তক্ষেপ,আর অন্য দিকে দলছে জঙ্গিবাদ। এই দেশ থেকে ইসলাম কে মুছে ফেলার জন্য দেশ-বিদেশে বিভিন্ন চক্রান্তকারীদের ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা ইসলামী ছাত্রসেনা কোরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছি। আমরা যখন ছোট ছিলাম,তখন কোরআন-সুন্নাহ’র অনুসারে সমাজের মানুষ চলার চেষ্টা করত, তখন না ছিল নাস্তিক্যবাদের এতো আগ্রাসন, না ছিল জঙ্গিবাদের এতো উপদ্রব। তখন আমাদের মা-বোনেরা আদবের সাথে চলাফেরা করতেন, আমাদের সমাজ অনেক শান্তির ছিল। আর এখন, পাশ্চাত্য শিক্ষা,ভারতীয় সংস্কৃতির ভয়াল আগ্রাসনে জাঁতাকলে পিষ্ট বাংলার ইসলাম প্রিয় কোটি কোটি মুসলিম জনতা।
ভারতীয় সিরিয়াল দেখে বাড়ছে হত্যা,আত্মহত্যা,ধর্ষণ। কি অপরাধ এই দেশপ্রেমিক ইসলাম প্রিয় মানুষদের? তাদের হাজার বছরের সংস্কৃতিকে বাদ দিয়ে পাশ্চাত্য ও ভারতীয় সংস্কৃতিকে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে,তাদের বিশ্বাসের উপর আঘাত দেয়া হচ্ছে, অপরদিকে তাদেরকেই আবার হত্যা করা হচ্ছে, গোপনে গুম করা হচ্ছে! স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হওয়ার উপলব্ধি কোথায় পাচ্ছি?
সরকারের প্রতি আমাদের বিনীত আবেদন,দয়া করে এই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিশ্বাসের উপর আঘাত হানবে এমন কাজ করবেন না এবং জঙ্গিবাদ কে শক্তহাতে দমন করুন। যারা জঙ্গিবাদ কে প্রশ্রয় দিচ্ছে, পৃষ্ঠপোষকতা করছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনুন। জঙ্গিরা যে আকিদা বিশ্বাসী,সেই ওহাবী আকিদা,মতবাদ প্রচারকারী পিসটিভি নিষিদ্ধ করুন। বলে জানান তিনি।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রসেনা ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক সামিউল শুভ ও সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ আলী আকবর,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক এস.এম. মোস্তফা কামাল,লালবাগ থানার সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান,মুগদা থানা সভাপতি নূর হোসেন তুষার,কেরানীগঞ্জ থানার সভাপতি শফিকুল ইসলাম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


