English Version
আপডেট : ১৬ জুন, ২০১৬ ০৪:০৬

পাল্টে গেছে বিএনপি! মধ্যবর্তী নির্বাচনও চাইছে না

অনলাইন ডেস্ক
পাল্টে গেছে বিএনপি! মধ্যবর্তী নির্বাচনও চাইছে না

আগামী ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চে সরকার মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে পারে ধরে নিয়ে রাজনীতিতে নতুন করে বিপাকে পড়েছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এখন এ মধ্যবর্তী নির্বাচন এড়িয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে দলটি! একদিকে সাংগঠনিক অগোছালো অবস্থা, কাউন্সিলের পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে না পারা, আবার যতটুকু গোছানো সম্ভব হয়েছে তা নিয়েও রয়েছে কোন্দল। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সুনিশ্চিত সমর্থন না পাওয়ায় মধ্যবর্তী নির্বাচন না করে উল্টো সময় ক্ষেপণের কৌশল নিতে যাচ্ছে বিএনপি। নির্বাচন নয় বরং চুপ করে থাকার নীতি গ্রহণ করেছে তারা।

বিএনপির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা, নীতি নির্ধারকের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা জানান, তাদের কাছে তথ্য আছে আগামী বছরের শুরুর দিকে হঠাৎ করেই একটি নির্বাচন ঘোষণা করতে চায় মহাজোট সরকার। অগোছালো দল নিয়ে সে নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও সুবিধা করতে পারবে না, এ আলোচনা বিএনপির অভ্যন্তরেই চলছে। বিএনপি আশঙ্কা করছে, মধ্যবর্তী কোনো নির্বাচন হলে সে নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেন অংশ নিতে না পারেন সে ব্যবস্থা করতে চায় সরকার। বরং ২০ দলীয় জোট ভেঙে শুধু বিএনপির একটি অংশকে নির্বাচনে আনার চেষ্টা চলছে বলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের কয়েকজন শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন। জোট নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখেই ২০ দলীয় জোটের শরীক একাধিক নেতাকে এখন থেকেই সরকার পক্ষ নানান লোভনীয় প্রস্তাব দিচ্ছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা এখন পুরোপুরি দল গোছানোর কাজ করছি। এই অবস্থায় সরকার কোনো সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, সরকার তখনই নির্বাচনের ঘোষণা দেবে যখন তারা নিশ্চিত থাকবে যে আবার ক্ষমতায় আসতে পারছে। সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে বিএনপি নির্বাচন সম্পর্কিত প্রস্তুতি নিতে যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের নেতাদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ এর জুনে বিএনপির সিনিয়র নেতারা বক্তৃতা বিবৃতিতে নিয়মিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সে নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের জন্য হরতাল অবরোধসহ সারা দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সভা সমাবেশ করেছিলেন। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম। মধ্যবর্তী নির্বাচন বা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির কোনো কর্মসূচি নেই।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানান, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরও বেশ কিছু দিন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ অনেকটাই প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছিল বিএনপির অবস্থানকে। এখন সে অবস্থার অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। ভারত, চীন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ এখন অনেকটাই আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। এ অবস্থায় নির্বাচন হলে বিএনপির পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন নিয়ে এগিয়ে যাওয়া অনেকটাই অসম্ভব।

অন্যদিকে গত ১৯ মার্চ দলের জাতীয় কাউন্সিলের পর নেতাকর্মীদের মধ্যে যে চাঙ্গাভাব দেখা গিয়েছিল তাও পরে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে চুপসে গেছে। এখন পর্যন্ত কমিটির যে কয়েকজনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে তা দলে আরও অসন্তোষ তৈরি করেছে এবং সিনিয়র বেশ কয়েকজন নেতাকে নিস্ক্রিয় করে দিয়েছে বলে দলের ভেতরই কঠোর সমালোচনা আছে। এ অবস্থায় বিএনপির পক্ষে কোনো ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয় বলে বিএনপি নেতারা মনে করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের শরীক একটি দলের প্রধান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপির এখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। তারাও জানেন যে খালেদা-তারেক বিহীন বিএনপিকে আওয়ামী লীগ দ্রুত একটি নির্বাচনে নিয়ে বিরোধী দলে বসাতে চায়।

মধ্যবর্তী নির্বাচন ইস্যুতে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেন, আমরা যেকোনো সময় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য শতভাগ তৈরি। তিনি এই মুহূর্তেই নির্বাচন দাবি করেন। অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেই কেবল সে নির্বাচনে অংশ নেব।

মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সরকারের কোনো চিন্তা-ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।