English Version
আপডেট : ১৫ জুন, ২০১৬ ০৪:০১

প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেতেই ১৪ দলে বিএনএ জোট

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেতেই ১৪ দলে বিএনএ জোট

প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেতেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন ৩১-দলীয় জোট বিএনএ ও তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। তিনি বলেন, আমি ক্ষমতার লোভে এ জোটে আসিনি। একটি বিশেষ কৌশলে জোটবদ্ধ হয়েছি। গণতন্ত্র, জাতীয় স্বার্থ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ১৪ দলের সঙ্গে আমার সংহতি প্রকাশ। এটা বিএনপিতে থেকে সম্ভব নয়।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে সুপ্রিম কোর্টের নিজ চেম্বারে আমাদের সময়ের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এ কথা বলেন। গত সোমবার তিনি ও তার জোট বিএনএ আনুষ্ঠানিকভাবে ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে।

তা হলে কি ক্ষমতার লোভে সরকারি দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়াÑ প্রশ্নে নাজমুল হুদার সাফ জবাব, সেটা হলে এতদিন ক্ষমতায় থাকতাম। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার যোগাযোগ আরও আগে থেকে। আমার জন্য এমপি-মন্ত্রী হওয়া বিষয় নয়, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছি। তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। উদ্দেশ্য ক্ষমতা নয়। ক্ষমতার কাছাকাছি থেকে দেশের মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। বিএনপির সঙ্গে থেকে উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারিনি। আমি তখন বারবার বলেছি দুই নেত্রীকে এক টেবিলে বসতে হবে। জাতীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। সদিচ্ছার অভাব, নিজস্ব ইগো ও ঝগড়া করার টেনডেন্সি থেকে তারা জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনায় বসেননি। আমি এখনো সে স্ট্যান্ডেই আছি। তবে কৌশল পরিবর্তন করেছি। আমি এখন বলছি সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই। শেখ হাসিনা চাইলে নিজেই সংলাপ দিতে পারেন। আমি মনে করি, তার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন জনগণের যে ক্ষমতায়ন তা বাস্তবায়ন করতে পারেন। তিনি জননেত্রী, দেশরতœ, তিনি যদি তার বাবার এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন তা হলে দেশে গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়। সরকার গণতন্ত্রের পথ কিছুটা সুগম করলে আগামীতে জোটবদ্ধ নির্বাচনও করতে পারি। তবে সেটা সময়ই বলে দেবে।

তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদ বিএনপির ট্রেডমার্ক নয়। এটা সবার। আমি দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ হিসেবে জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করি। দেশের মঙ্গলে কাজ করি। এটা আওয়ামী লীগেও আছে। আমি এখন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটও সে আদর্শে বিশ্বাসী। আমার দল তৃণমূল বিএনপিকে একই আদর্শে গড়ে তুলছি। লক্ষ্য এক থাকলে অনেক সমস্যাই সমাধান করা সম্ভব যেটা বিএনপিতে থেকে পারিনি। আমি বিভিন্ন দল ও জোট গঠন করেছি শুধু দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে। না পেরে সর্বশেষ সিদ্ধান্তÑ ক্ষমতাসীন জোটে থেকেই এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হবে।

নাজমুল হুদা বলেন, গণতন্ত্রের মধ্যে রাজনীতি ঢুকে গেছে। গণতন্ত্র বিসর্জন দিয়ে হলেও শাসকগোষ্ঠী টিকে থাকার চেষ্টা করছে, এটা স্বাভাবিক। আমরা জোটভুক্ত হলে চেষ্টা করব মিনিমাম গণতন্ত্র মেনে যেন শাসনব্যাবস্থা চলে। দুই জোট মিলে যে কোনো জাতীয় সমস্যায় ডাক দিতে পারি। সেখানে পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষজন থাকবে। আমরা সরকারকে জাতীয় কোনো ইস্যু বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে পারি। আমি অচিরেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসব। সেখানে জাতীয় সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলব। এ লক্ষ্যে আগামী ২১ জুন ১৪ দলের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করেছি।