English Version
আপডেট : ১৫ জুন, ২০১৬ ০৩:৫৯

তথ্য থাকলে খুনিদের গ্রেপ্তার করছেন না কেন?

অনলাইন ডেস্ক
তথ্য থাকলে খুনিদের গ্রেপ্তার করছেন না কেন?

দেশে গুম খুনের সঙ্গে কারা জড়িত প্রধানমন্ত্রী যদি জানেনই তাহলে কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, এমন প্রশ্ন করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সরকার সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় এমন মন্তব্য করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা গুম, খুনে অভিজ্ঞ তাদের সরকারে রাখায় দেশ অস্থিতিশীল। আর প্রকৃত খুনিদের  বিদেশে পাঠিয়ে দিয়ে সাঁড়াশি অভিযানের বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করে বাণিজ্য করা হচ্ছে।  মঙ্গলবার রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন।  বিএনপিপন্থী পেশাজীবী সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) এই ইফতারের আয়োজন করে। সাম্প্রতিক সময়ের গুপ্তহত্যার ঘটনায় দুটি রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না, আমি হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট (সরকারপ্রধান)। সব তথ্য নিশ্চয়ই আমার কাছে আছে। সরকার বসে নেই। গোয়েন্দা সংস্থাও বসে নেই। তদন্তের স্বার্থে হয়তো সব কথা, সব তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।’

প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, “কাগজ খুললেই আজ শুধু মৃত্যু, মৃত্যু আর মৃত্যুর খবর। অথচ হাসিনা বলেছে, সে সবকিছু জানে। সে যদি সবকিছুই জানে, তাহলে সে তাদের (খুনি) ধরছে না কেন?”

জঙ্গি দমনে সাঁড়াশি অভিযানের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন,  “পবিত্র রমজান মাসেও মানুষ ঠিকমতো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারছে না। তারা কষ্টের মধ্যে রয়েছে, আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। সাঁড়াশি অভিযানের নামে একদিকে চলছে গণহারে গ্রেপ্তার, আর অন্যদিকে চলছে গণহারে চাঁদাবাজি। গ্রেপ্তারের পর টাকা-পয়সা দিয়ে লেনদেন করে তাদের ছাড়াতে হয়।”

খালেদা জিয়া বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) বিদেশিদের আশ্বস্ত করতে চান তিনি নাকি এদেশে সন্ত্রাস দমন করবেন। তিনি সন্ত্রাস দমন করবেন না। তিনি সারা দেশে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিয়ে এখানে জঙ্গিদের উত্থান ঘটিয়ে এই দেশে একটা অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করে দিতে চান।’ জাসদ সম্পর্কে খালেদা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন একসঙ্গে স্বাধীনতা যুদ্ধে ছিল, এরাই কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। বিএনপির জন্মও তখন হয়নি। এই দলের লোকজন তখন আওয়ামী লীগের লোকজনকে খুন করতো, গুম করতো। তাদের নেতার সম্পর্কে কী খারাপ ভাষায় বক্তব্য দিত, যে খারাপ ভাষা ব্যবহার করত, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করত, সেগুলোকে এখন তিনি ভুলে গিয়ে নিজের দলের লোকজনকে মূল্যায়ন না করে এই খুনি-অত্যাচারীদের মূল্যায়ন করছে। তার ফলেই দেশের এই অবস্থা হচ্ছে।’ অ্যাবের কারাবন্দি সভাপতি প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানকে তিন বছর ধরে বিনা বিচারের আটক রাখা হয়েছে অভিযোগ করে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানান খালেদা জিয়া। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে প্রকৌশলীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জানান তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, দেশটাকে কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। সমস্ত জায়গায় দুর্নীতিতে ভরে গেছে। আজ দেশের মানুষ এই দুর্নীতিবাজ, জুলুমবাজ, খুনি, অত্যাচারীদের সরকারের হাত থেকে মুক্তি চায়। তাই এই রমজান মাসে আমরা সবাই দোয়া করবো, আল্লাহ তায়ালা এই জালিম সরকার যারা গুম-খুন করেছে, তাদের বিচার করেন, তাদের শাস্তি দেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার পর খালেদা জিয়া বিভিন্ন টেবিল ঘুরে অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন।

ইফতারের মূল মঞ্চে খালেদা জিয়ার সঙ্গে একই টেবিলে বসে ইফতার করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এ ছাড়া ছিলেন অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, ঢাবির শিক্ষক অধ্যাপক সদরুল আমিন।

আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ২০ দলীয় জোটের শরিক এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, অ্যাব-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী আ ন হ আখতার হোসেইন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হাছিন আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার, সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক প্রমুখ।

প্রকৌশলী মহসিন আলী, খন্দকার রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, শফিউল আলম তালুকদার, মিয়া মো. কাইয়ুম, আবদুল হালিম মিঞা, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, জসিমউদ্দিন আহমেদসহ আট শতাধিক প্রকৗশলী ইফতারে অংশ নেন।

ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা