English Version
আপডেট : ১৩ জুন, ২০১৬ ১০:৪৫

ইফতারে বিএনপি জামায়াত নেতাদের চুম্বন দৃশ্যে নিয়ে তোলপাড়

অনলাইন ডেস্ক
ইফতারে বিএনপি জামায়াত নেতাদের চুম্বন দৃশ্যে নিয়ে তোলপাড়

চুম্বন দৃশ্যের রগরগে সিনেমার কাহিনী নয়। ঘটেছে তা, দেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপির ইফতার মাহফিলে। প্রচলিত আছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে জামায়াতেবাদী দল হয়ে পড়া বিএনপির আসল শক্তি ওই জামায়াত শিবিরই। কিন্তু বিএনপি নেতাদের কপালে জামায়াত নেতা কর্তৃক চুম্বনে চুম্বন হতে হবে প্রকাশ্যে- তা বোধ হয় এভাবে কেউ দেখেনি। উপরন্ত বিতর্কিত এক নারী বিদিশার উপস্থিতিতে রাজনীতির সুস্থ পথে কতটা আছে, তা নিয়েও চলছে হাস্যরসের নানা কাহিনী।

এদিকে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ লোকের উপস্থিতিতে চরম বিশৃঙ্খলা আর হট্টগোল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে শনিবার শেষ হলো রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইফতার মাহফিল। শনিবার সন্ধ্যায় বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশনের সিটির নবরাত্রি হলে এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, বসুন্ধরা কনভেনশনের নবরাত্রি হলের আসন সংখ্যা ১ হাজার ৬০০। আর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এর চেয়ে অনেক বেশি রাজনীতিবিদকে। ফলে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ লোকের উপস্থিতিতে ইফতার মাহফিলে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

বিকেল সোয়া ৪টার দিকে নবরাত্রি হলের ভেতরে প্রবেশের জন্য গেটের সামনে এসে রাজনীতিবিদরা অপেক্ষা করতে থাকেন। দূর-দূরান্ত থেকে আগত রোজাদাররা আমন্ত্রণপত্র প্রদর্শন করলেও অজ্ঞাত কারণে তখন তাদেরকে ভেতরে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। এ সময় অনেকের সঙ্গে খারাপ আচরণও করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

একপর্যায়ে ইফতার মাহফিলের অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পদস্থ দায়িত্বশীলদের ওপর ক্ষিপ্ত হতে দেখা যায়। টেবিলে টেবিলে গিয়ে নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তাতে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। পরে নিরুপায় হয়ে মূল স্টেজে চলে যান তিনি।

অন্যদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আহ্বানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে দলটির নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়কালে বিএনপি নেতাদের কপালে চুম্বন করেন জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কপালে এই চুম্বনভাগ্য জোটে! কিন্তু হঠাৎ মুজিবুরের এমন চুম্বন কাণ্ড দেখে অনেক নেতাকে মুখ টিপে হাসতে দেখা গেছে।

রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন হলে ইফতারের কিছু সময় আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছিলেন। এ সময় মঞ্চের সামনের দিকে বসা জামায়াতের নেতাদের দিকে এগিয়ে যান ফখরুল। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান মির্জা ফখরুলের সঙ্গে মোলাকাত করে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এরপর ফখরুলের কপালে চুম্বন করেন। যদিও তখন মির্জা ফখরুলের চেহারায় অসন্তোষ ফুটে ওঠে।

অপরদিকে, ২০ দলীয় জোটের একজন কেন্দ্রীয় নেতা ইফতার মাহফিলের হলের ভেতরে প্রবেশ করে আসন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন। পরে জোটের অন্য নেতাদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে বসেন তিনি। ইফতারিও ভাগাভাগি করে খেতে হয় তাকে। শুধু তিনি একা নন, জোটের আরো অনেক নেতাকেই আজ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

ইফতার মাহফিলে সকল রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এইচএম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির কোনো প্রতিনিধি আসেননি।

২০ দলীয় জোটের বাইরে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতীক, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার এবং এইচএম এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদ ইফতার মাহফিলে অংশ নেন। পুরো ইফতার মাহফিলে ২০ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতা ছাড়া দেশের ডাকসাইটের কোনো নেতাকে দেখা যায় নাই। 

বিদিশা যখন বিএনপির নব্য ক্ষমতাবান এক যুব নেত্রীর পাশে বসেন- তখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়। দুজনাই কম বেশী বিতর্কিত হওয়ায় এবং জামায়াতের চুম্বন প্রেক্ষাপট পুনরায় বিএনপিকে রাজনৈতিক ভাবে ছোট করেছে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। যখন রবিবার ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমাদের প্রকাশ্য নয়, সিক্রেট শত্রু রয়েছে। জামায়াতের সাথে বিএনপির নেতাদের শারীরিক উষ্ণ কুশল বিনিময়- অনেক ক্ষেত্রেই ওবায়দুল কাদেরদের বক্তব্যকে অর্থবহ করে বলেও মত রাজনৈতিক ধারাভাষ্যকারদের।