English Version
আপডেট : ১১ জুন, ২০১৬ ১৩:৪৬

আড়ালে চলে যাচ্ছে প্রকৃত খুনিরা

অনলাইন ডেস্ক
আড়ালে চলে যাচ্ছে প্রকৃত খুনিরা

দোষারোপের রাজনীতি আগেও ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। পৃথিবীর সব দেশে রাজনীতিবিদদের মধ্যে কমবেশি এ চর্চা লক্ষণীয়। কিন্তু তার পরিসীমা আছে। এক দল আরেক দলের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও দুর্নীতি নিয়ে কথা বলে। প্রশ্ন তোলে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে। কিন্তু কোনো দল বা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতা কখনও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একে অপরকে দোষী বা জড়িত বলে মন্তব্য করে না। তদন্তে কিংবা বিচারে প্রমাণিত হওয়ার পর সমালোচনা করে। কিন্তু ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশের রাজনীতি। এখানে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটলেই খুব কম সময়ের মধ্যে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি বিরোধী দলের কাজ। বিপরীতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের দমন করতে এ হত্যাকাণ্ড সরকার ঘটিয়েছে। যা একেবারে গৎবাঁধা কিছু কথা। 

দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি যে, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর সব গুপ্তহত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এমন দায়িত্বহীন মন্তব্য করতে শোনা যাচ্ছে। চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী মিতুসহ গত কয়েকদিনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যে ক’টি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সে বিষয়ে সরকারের একেবারে উচ্চপর্যায় থেকে সংবাদ সম্মেলন করে পরোক্ষভাবে বিএনপি ও জামায়াতের ওপর দোষ চাপানো হয়েছে। কোনো রাখঢাক না রেখে কয়েকজন মন্ত্রী সরাসরি বিএনপি ও জামায়াতকে দায়ী করেন। অপরদিকে বিএনপির শীর্ষপর্যায় থেকে পাল্টা বক্তব্য দিয়ে এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য সরকারকে দায়ী করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বুধবার গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত গুপ্তহত্যা ও টার্গেট কিলিং সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘গুপ্তহত্যার বিষয়ে আমার কাছে অনেক তথ্য আছে। একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না, আমি হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট। সরকার প্রধান হিসেবেই বিভিন্ন সংস্থার তথ্য আমার কাছে আসে। তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলতে পারি না। তবে গুপ্তহত্যাকারী ও সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এদের কেউ ছাড় পাবে না।’ তিনি বলেন, ‘এদের হত্যা করার প্রক্রিয়া একই রকম। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট এবং দেশের অগ্রগতি ব্যাহত করার জন্যই একের পর এক গুপ্তহত্যা ঘটানো হচ্ছে।’ এসময় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘তারা যখন মানুষ পুড়িয়ে মারছিল তখন দেশবাসী যেভাবে জেগে উঠেছিল, ঠিক সেভাবেই আবার জেগে উঠতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের একদিন পর মুখ খোলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক আলোচিত সব গুম-খুনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা জড়িত। তাদের গ্রেফতার করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এসপি’র স্ত্রী হত্যায় কারা জড়িত তা এখনও কেন বের করা গেল না? হাসিনার সঙ্গে যারা আছেন তারাই হলেন গুম-খুনের ওস্তাদ। পেট্রলবোমার আবিষ্কারক।’

খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে শুক্রবার ১৪ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘খালেদা বলেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা নাকি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এর মাধ্যমে তিনি খুনিদের প্রকাশ্যে প্রটেকশন দিচ্ছেন। তার এ চরিত্র নতুন নয়। এর আগে তিনি এবং তার স্বামী যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে চেয়েছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া নগ্নভাবে, ঘোমটা খুলে নিয়েছেন খুনিদের রক্ষা করতে। যারা মারা গেছেন, তাদের পরিবারকে সমবেদনা না জানিয়ে খুনিদের তিনি প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এর নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই।’

প্রশ্ন হল, এভাবে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেয়া হলে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাজটা কী হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুক্রবার বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, আইন বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধির মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ অবস্থায় দোষারোপের রাজনীতি পরিহার করে সরকারের উচিত মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, মৃত্যু উপত্যাকায় পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিদিনই লাশ পড়ছে। কোন দল এর জন্য দায়ী- তার চেয়েও বড় কথা, ঘাতকদের চিহ্নত করা। দুঃখের বিষয়, এখন পর্যন্ত একটি হত্যাকাণ্ডেরও রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। ঘাতক চিহ্নিত হয়নি। এতে করে জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। সরকারের উচিত এ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূর করে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। 

বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, দেশ পরিচালনায় যখন জনগণের অংশগ্রহণ হ্রাস পায়, অর্থাৎ গণতন্ত্র শুধু নামেই থাকে, তখন সব ধরনের অপরাধ এবং অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যায়। দুর্নীতি বাড়ে, নির্বাচনে সহিংসতা বাড়ে। কালোবাজারি-সিন্ডিকেটও বেড়ে যায়। হত্যা-ডাকাতিও বাড়বেই। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের অভাব দেখা দিলে দেশ ঠিকমতো পরিচালিত হয় না। আর তখনই বহিঃপ্রকাশ ঘটে পরস্পর দোষারোপের অপসংস্কৃতি। বিশেষ করে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরকে অপবাদ দিতে শুরু করে, যা এখন চলছে।

ড. শাহদীন মালিক আরও বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রহীনতা এবং দেশের মধ্যে স্বল্প গণতন্ত্র চলছে। যার কারণে অপবাদের অপসংস্কৃতি থামছে না। তিনি মনে করেন, এ সংস্কৃতি শুধু চলতেই থাকবে না, বাড়তেও থাকবে। কারণ দলগুলো শিগগিরই গণতান্ত্রিক হবে না। আর সেই কারণে দেশের গণতন্ত্রও দুর্বল থাকবে। তিনি বলেন, একের পর এক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। পুলিশ এসব অপরাধে ক্রসফায়ার ছাড়া অন্য কোনো সুরাহা করতে পারছে না। তাদের পারার সম্ভাবনা কম। কারণ পুলিশ এখন জনগণের নিরাপত্তা দেয়ার চেয়ে সরকারি দলের নেতাসহ ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সুবিধা এবং নিরাপত্তা বিধানে বেশি ব্যস্ত। এর ফলে অপরাধ বাড়ছে। জনগণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আর অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

শাহদীন মালিক বলেন, দেশে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিদেশী কূটনীতিক, দাতাসংস্থার প্রতিনিধিসহ আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তারা মনে করছে, বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। এ মনোভাব দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। মনে রাখতে হবে, শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন দিয়ে এসব সমস্যার সমাধান কোনো দেশই করতে পারেনি। সমস্যার সমাধান চাইলে দোষারোপের সংস্কৃতি পরিহার করতে হবে। প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সামনে আরও ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করবে।

কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশে একের পর এক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এসব হত্যাকাণ্ড ষড়যন্ত্রের অংশ। অন্যদিকে তার সরকারেরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, এসব হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, কার কথা সত্য? প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি সব জানেন। যদি তার সব তথ্য জানাই থাকে তাহলে খুনিদের বিরুদ্ধে তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে বাধাটা কোথায়? একের পর এক খুন হচ্ছে। দুই দলই সব জানে, অথচ আজ পর্যন্ত একজন খুনিকেও খুঁজে বের করা গেল না। কেন?

তিনি বলেন, আসলে দলীয় ক্ষমতার স্বার্থে এবং রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে বিষয়টি নিয়ে দুই বুর্জুয়া দলই খেলছে। পাল্টাপাল্টি দোষারোপের এ রাজনীতির কারণে দেশের সর্বনাশ হয়ে গেলেও এ নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। 

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আরও বলেন, দেশে যে সিরিজ খুন হচ্ছে তা অবশ্যই গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। বিদেশী ষড়যন্ত্রকারী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তিসহ যারা এ ষড়যন্ত্রের অংশ; কিন্তু দুই দলের দোষারোপের রাজনীতির কারণে তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীরাও আড়ালে থেকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় জনগণের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া আরা কোনো বিকল্প নেই। জনগণকেই রুখে দাঁড়াতে হবে।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) একাংশের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, যারা বলছেন তারা সব জানেন, তাহলে পুলিশসহ তদন্তকারী কর্মকর্তাদের উচিত তাদের জিজ্ঞাসা করা। 

তিনি আরও বলেন, দেশে নষ্ট রাজনীতি ভ্রষ্ট পথে পরিচালিত হচ্ছে। যে কারণে দেশের শাসন-প্রশাসন ব্যবস্থায় অরাজকতা বিরাজ করছে। দেশে বিভিন্ন মাত্রায় এখন হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। মানুষ প্রত্যক্ষ সাক্ষী হলেও ভয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছেন না। কারণ পুলিশ প্রশাসনের ওপর মানুষের আস্থা কমে গেছে। আবার পুলিশও ক্ষমতাসীনদের চাপে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। হত্যা-গুম থেকে শুরু করে নানাভাবে সাধারণ জনগণ নিরাপত্তা নিয়ে শংকায় রয়েছে। কখন কার যে কী হয়, এ নিয়ে জনজীবনে আতংক বিরাজ করছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, দেশে কিছু ঘটলেই প্রধানমন্ত্রী এর দায়ভার বিএনপি-জামায়াতের ওপর চাপান। তিনি সবসময় বড়াই করে এ কাজটি করছেন। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, তিনি সরকার প্রধান, দেশে যেসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে- এর সব ধরনের তথ্যপ্রমাণ তার কাছে রয়েছে। 

তাহলে এসব তথ্যপ্রমাণ তিনি প্রকাশ্যে উপস্থাপন করছেন না কেন? তা না করে ঢালাওভাবে বিএনপি-জামায়াতের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঢালাও মন্তব্যের কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। বিশিষ্ট লেখক-কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি অতীতের যে কোনো সময়ের চাইতে ভয়াবহ। এরকম অবস্থায় দায়িত্বশীল পদের প্রতিটি মানুষের প্রত্যেকটি কথাই অর্থবহন করে। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি দলের নেতারা প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের দায় বিএনপি-জামায়াতের ওপর চাপাচ্ছেন। ঢালাওভাবে প্রতিপক্ষের ওপর এভাবে দোষ চাপানো স্রেফ আত্মপ্রতারণা। একইভাবে বিএনপি নেতারাও বিচার বিবেচনা না করে দোষ চাপাচ্ছেন সরকারের ওপর। এ ধরনের দোষারোপ স্রেফ কথার কথা মনে করা যায় না।

তিনি বলেন, আসলে জনগণ আজ ক্ষমতাবানদের খেলার পুতুলে পরিণত হয়েছে। তাদের জীবন নিয়ে খেলা চলছে। একপক্ষ অন্যপক্ষের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ছেন। কিন্তু উচিত হল, অপরাধীকে খুঁজে বের করা। এখন পর্যন্ত একটি হত্যাকাণ্ডেরও প্রকৃত কারণ এবং এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত তা চিহ্নিত করা যায়নি এই দোষারোপের সংস্কৃতির কারণে। সৈয়দ আবুল মকসুদ আরও বলেন, যারা দায়িত্ব পালন না করে দায়িত্ব জ্ঞানহীন কথা বলছেন তাদের ক্ষমা নেই। ইতিহাসেন কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতেই হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, গোয়েন্দা তৎপরতা একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো হত্যাকাণ্ডকেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করা হবে মারাত্মক ভুল।

পর্যবেক্ষক মহলের মতে, একটি মোটরসাইকেল। তিনজন আরোহী। টার্গেটকৃত ব্যক্তির ওপর হামলে পড়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করছে। মাঝেমাঝে ব্যবহৃত হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র। রাজধানীর কূটনৈতিক ও স্পর্শকাতর এলাকা গুলশানে ইতালির নাগরিক তাভেলা সিজারকে হত্যার মাধ্যমে এভাবে মোটরসাইকেলে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার মিশন শুরু হয়। এরপর একে একে রংপুরে জাপানের নাগরিক হোশি কোনিও, ঝিনাইদহে হোমিও চিকিৎসক মীর সানাউর, রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী, চট্টগ্রামে এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন মিতু, নাটরে খ্রিস্টান ব্যবসায়ী সুনীল গোমেজ,

ঝিনাইদহে পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী এবং সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের প্রথমদিনে পাবনার হেমায়েতপুরে আশ্রমের সেবায়েত নিত্যরঞ্জন পান্ডেকে একই কায়দায় খুন করা হয়। এর আগে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কথিত নাস্তিক ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যায় নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয় চাপাতি গ্রুপ। এরপর বেশ কয়েকজন ব্লগারকে তারা নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। অনেকটা ধারাবাহিকভাবেই চলছে তাদের কিলিং মিশন।