English Version
আপডেট : ৫ জুন, ২০১৬ ১৪:১৫

আ. লীগের সম্মেলনে ব্যয় হবে ৪ কোটি টাকার বেশি

অনলাইন ডেস্ক
আ. লীগের সম্মেলনে ব্যয় হবে ৪ কোটি টাকার বেশি

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে চার কোটি টাকার বেশি খরচ হবে। ১০ ও ১১ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত উপকমিটিগুলোর কাজের পেছনে এ অর্থ ব্যয় হবে। সম্মেলন প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল সকালে অর্থ উপকমিটির সঙ্গে বৈঠকে আয়োজন ও খরচের এ ধারণা দিয়েছেন চারটি উপকমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত উপকমিটিগুলোর মধ্যে পাঁচটির পেছনে বেশি অর্থ ব্যয় হবে। এ উপকমিটিগুলো হচ্ছে খাদ্য, মঞ্চ ও সাজসজ্জা, প্রচার ও প্রকাশনা, অভ্যর্থনা ও স্বাস্থ্য। এগুলোর মধ্যে খাদ্য এবং প্রচার ও প্রকাশনায় খরচ হবে প্রায় দুই কোটি টাকা। স্বাস্থ্য উপকমিটির ব্যয় হবে ৪০-৫০ লাখ। এখন পর্যন্ত মঞ্চ ও সাজসজ্জা, অভ্যর্থনা উপকমিটির ব্যয় চূড়ান্ত না হলেও এ দুটির পেছনে প্রায় দুই কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানা গেছে।

সম্মেলনে উপকমিটিগুলোর আয়োজন ও ব্যয় নিয়ে গতকাল অর্থ উপকমিটির সঙ্গে বৈঠক হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপকমিটির আহ্বায়ক কাজী জাফর উল্যাহ। উপস্থিত ছিলেন প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির আহ্বায়ক এইচ টি ইমাম, স্বাস্থ্যবিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, অভ্যর্থনা উপকমিটির সদস্য ফারুক খান, খাদ্য উপকমিটির আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ড. আবদুর রাজ্জাক, অসীম কুমার উকিল, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেন, ‘মূলত খাদ্য, অভ্যর্থনা, প্রচার ও প্রকাশনা, মঞ্চ ও সাজসজ্জা এবং স্বাস্থ্য এ পাঁচটি উপকমিটির সঙ্গে আমাদের বৈঠকের কথা ছিল। এর মধ্যে মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপকমিটি অনুপস্থিত ছিল। তারা দুই দিন সময় নিয়েছে। অন্য উপকমিটিগুলোর কী আয়োজন থাকবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করি ৮ জুনের মধ্যে সব উপকমিটি তাদের আয়োজন ও খরচের তালিকা চূড়ান্ত করে জমা দেবে। ১১ জুন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলের সভাপতির কাছে ওই তালিকা উপস্থাপন করব।’

সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকে খাদ্য উপকমিটির আয়োজন ও ব্যয় নিয়ে আলোচনা হয়। কাউন্সিলের দুই দিনে মোট ৩০ হাজার খাবারের প্যাকেট সরবরাহের সিদ্ধান্ত হয়। উদ্বোধনী দিনে ২০ হাজার ও পরের দিন দুই বেলায় ১০ হাজার প্যাকেট সরবরাহ করা হবে। প্রতি প্যাকেটের জন্য ব্যয় হবে ৩০০ টাকার মতো। এতে লাগবে ৯০ লাখ টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাদ্য উপকমিটির এক নেতা জানান, এরই মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটারার্স মূল্য তালিকা দিয়েছে। প্রতি প্যাকেটে সর্বনিম্ন ২৭৫ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত দর দিয়েছে তারা। এর মধ্য থেকে ৩০০ টাকা দরের একটি ক্যাটারার্সকে খাবার সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

বৈঠকে প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি জানিয়েছে, তাদের ৭০-৮০ লাখ টাকা খরচ হবে। দুই লাখ পোস্টার ছাড়াও সম্মেলনের দিন নানা প্রকাশনা ও উপহার সামগ্রীর পেছনে এ টাকা ব্যয় হবে।

জানতে চাইলে প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির আহ্বায়ক এইচ টি ইমাম বলেন, ‘এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। ব্যয় ৭০-৮০ লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে। সম্মেলনের দিন অতিথিদের একটি পাটের ব্যাগে আওয়ামী লীগ সভাপতির বাংলা ও ইংরেজি বক্তব্য, আওয়ামী লীগের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে পৃথক প্রকাশনা সরবরাহ করা হবে। ব্যাগে থাকবে উন্নয়ন ও বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস নিয়ে পৃথক ভিডিও সিডি। এ ছাড়া কাউন্সিলরদের সাধারণ সম্পাদকের সাংগঠনিক রিপোর্টের কপি দেওয়া হবে। প্রতিটি প্রকাশনার কোনোটিই ১০ হাজার কপির কম হবে না। এ ছাড়া সম্মেলনে আগতদের জন্য ব্যাজ, টুপি, পানির বোতল ও হালকা নাশতার ব্যবস্থা থাকবে।’

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি খরচ হবে মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপকমিটির কাজে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনস্থলে মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ, বসার জন্য ৩০-৩৫ হাজার চেয়ারের বন্দোবস্ত করা, উদ্যানের প্রবেশপথগুলোতে ও ঢাকা শহরকে সুসজ্জিত করতে তোরণ নির্মাণে এক কোটি টাকার ওপরে ব্যয় হবে।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, স্বাস্থ্য উপকমিটি যে আয়োজন রাখছে তাতে ৪০-৫০ লাখ টাকা প্রয়োজন।

জানতে চাইলে ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, ‘৮ জুনের মধ্যে আমরা বাজেট চূড়ান্ত করে অর্থ উপকমিটির কাছে জমা দেব।’

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, সম্মেলনে বিদেশি অতিথিদের পেছনে একটি বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হবে। তাদের সোনারগাঁও হোটেলে থাকা ও খাওয়ার বন্দোবস্ত করা হবে। অতিথিদের বিজনেস ক্লাসের রিটার্ন বিমান টিকিট দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত বিদেশি অতিথিকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। ফলে এ কাজে অন্তত অর্ধ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

জানতে চাইলে অভ্যর্থনা উপকমিটির সদস্য ও আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘আমরা বিদেশি অতিথিদের ১৫ জুনের মধ্যে তাঁরা আসবেন কি না জানাতে বলেছি। ফলে এর আগে বলা যাচ্ছে না ঠিক কতজন আসবেন। তাই কত খরচ হবে তাও এখনই বলা সম্ভব নয়।’