English Version
আপডেট : ৩১ মে, ২০১৬ ১২:২৭

রেহানাকে সাথে নিয়ে হাসিনা কি ভুল করলেন?

অনলাইন ডেস্ক
রেহানাকে সাথে নিয়ে হাসিনা কি ভুল করলেন?

ইতিহাসে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি তেমন দেখার আর সুযোগ কোথায়? আর তা যদি হয় অনভিপ্রেত- সেটির পুনরাবৃত্তি না হলেই ভাল। ক্রীড়াঙ্গনে দুটি দল বা দেশের মধ্যকার খেলার ফলাফল বহু বছর পর এক ও অভিন্ন হওয়ার মতো দেখা মিললেও রাজনৈতিক হত্যা কিংবা অযাচিত কিছুর আবার ফিরে আসাকে- কে আর প্রত্যাশা করে? বাংলাদেশ প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কথাই ধরা যাক। শাসন ব্যবস্থায় অনেকের কাছেই জোর করে ক্ষমতায় থাকলেও একজন নেতা হিসাবে তাঁর মান বেড়েছে- এটি এখন আর কেও অস্বীকার করে না। আছে শত্রুও। 

প্রতিপক্ষ শক্তির অনেকেই প্রত্যাশা করেন তাঁকে হত্যা করতে পারলেই নিজেদের গদিতে বসার সুযোগ সৃষ্টি হয়। শেখ হাসিনা তাই প্রায় বলে থাকেন, আমিও প্রস্তুত আছি। হাসিনা যদি এই মুহূর্তে স্বৈরাচারী হন, তবে রাষ্ট্রনায়ক হিসাবেও কদর বাড়ছে তাঁর। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে তাঁর সরকারের কাজগুলো একেবারে চোখে পড়ছে না- তা জোর করে এখন কেহই বলতে পারছে না। সম্প্রতি জাপান সফর করেছিলেন তিনি। বিশ্ব নেতাদের একটি সম্মেলনে যোগও দিলেন। সফরসঙ্গী করেছিলেন একমাত্র বোন শেখ রেহানাকে। কিন্তু তিনি কি ভুল করলেন?

ভুল তিনি করেছেন কিনা সে বিষয়ে এখনই কিছু বলা না গেলেও তাঁর বোন কে নিয়ে জাপানে গিয়েছিলেন তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানও। ১৯৭৩ সালে শেখ রেহানাকে নিয়ে সফর সাজালেও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে পৃথিবী ছাড়তে হয়। আজ সেই মুজিব কন্যা বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী। হ্যাঁ, প্রায় টানা ৭ বছর ধরেই আছেন। আবার সেই জাপান সফর! সঙ্গী সেই বোন শেখ রেহানা। একই ঘটনার পরম্পরায় নিষ্ঠুর ভাগ্য যেন তাকেও বরন না করতে হয় !

এদিকে ‘সেদিনের জাপান সফরে যারা এসেছিলেন তাদের মধ্যে একমাত্র শেখ রেহানাই জীবিত রয়েছে, তাই তাকে নিয়ে এসেছি’। এ কথা বলতেই কণ্ঠ ধরে এলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। বললেন, ‘জাপানে বাংলাদেশের নিজস্ব চ্যান্সারি ভবন হয়েছে, তার উদ্বোধনে শেখ রেহানাকে থাকতেই হবে। জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সম্পর্কের যে ভিত ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৈরি করে গিয়েছিলেন, তা যে শেখ রেহানা সেদিন দেখেছে।’

১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর জাপান সফরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সঙ্গে তার দুই ছেলে-মেয়ে শেখ রেহানা ও শেখ রাসেল এসেছিলেন। সে কথাই স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় বাকরুদ্ধ হয়ে আসে তার। ভাঙা কণ্ঠে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবাইকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা দু’টি বোন দেশের বাইরে ছিলাম বলেই প্রাণে বেঁচে গেছি।’

শনিবার (২৮ মে) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের অত্যাধুনিক নকশার নতুন চ্যান্সারি ভবন উদ্বোধন করছিলেন বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে জাপান আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলো। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়তে জাপানের সহযোগিতার কথা বাংলাদেশ চিরকাল স্মরণ করবে। সহযোগিতার কারণে এ দেশের মানুষকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে ১৯৭৩ সালে জাপান সফর করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন তার সফর সঙ্গী হয়ে এসেছিলো শেখ রেহানা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ এখানে বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব চ্যান্সারি ভবন হয়েছে, দিনটি আমার কাছে অত্যন্ত আনন্দের। এই আনন্দ ভাগ করে নিতে আমি আমার ছোট বোন শেখ রেহানাকেও নিয়ে এসেছি।

রাজনৈতিক পাড়ায় অন্ধকারের নানা মিশনে একজন শেখ হাসিনার জীবন নিয়ে অনেক কথাই চাউর রয়েছে। প্রতিপক্ষ ২০ দলীয় জোটের অধিকাংশ নেতার একান্ত মত ও অভিলাষ, তাঁকে দুনিয়া থেকে সরাতে পারলেই তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ থাকে! সে লক্ষ্যে হয়তো চলছে নানা মিশনও। বঙ্গবন্ধু, শহীদ জিয়া- দুজনাই ছিলেন মান সম্পন্ন নেতা। 

খানিকটা মান এখন শেখ হাসিনারও রয়েছে। বেড়েছে তাই আন্তর্জাতিক শত্রুও। আবার সেই জাপান সফর, আবার সেই শেখ রেহানা। ইতিহাস যেন ফিরে না আসে তেমনটি করে। হাসিনার দেশীয় প্রতিপক্ষদেরও ভাবা দরকার, কাউকে হত্যা করে নয়, জনগণের জন্য কাজ করে বুদ্ধি বৃত্তিক রাজনীতি করেই হাসিনাকে পরাস্ত করার উদ্যোগে থাকা শ্রেয়- এমন মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। কিন্তু জাপান সফরের ইতিহাস যেন হাসিনার জীবনে কাল বৈশাখী ঝড় না হয়ে আসে- সেটি নিয়ে আলোচনার খোরাক বা প্রেডিকশন কিন্তু থেকেই যায়!