English Version
আপডেট : ১৯ মে, ২০১৬ ১৬:১৪

শিক্ষককে অামি শাস্তি দেইনি

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষককে অামি শাস্তি দেইনি

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে শাস্তি দেইনি। বরং ধর্ম নিয়ে কটূক্তির বিচার হয়েছে বলে জানান সাংসদ সেলিম ওসমান।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলন কক্ষে দলের শতাধিক নেতা-কর্মী এসময়ে উপস্থিত ছিলেন।

সাংসদের কাছে সাংবাদিকেরা জানতে চান, আপনি ক্ষমা চাইবেন কিনা? এতে সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করে সাংসদ বলেন, ‘আমি কার কাছে ক্ষমা চাইব? আল্লাহর কটাক্ষকারীর সাজা হয়েছে। আমি যদি মরেও যাই তাও ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

ঈমানদার মুসলমানেরা শিক্ষকের শাস্তি চেয়েছিলেন দাবি করে তিনি সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান, আমরা কি ইবলিসের রাজত্বে বাস করছি? আপনারা জবাব দেন।

শুক্রবারের ঘটনা প্রসঙ্গে সেলিম ওসমান বলেন, শুক্রবার (১৩ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় স্কুল শিক্ষককে গণপিটুনী দিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশ এসে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে স্কুলের একটি কক্ষে আটকে রাখে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পারছিল না। দুপুর ১২টায় আমাকে ফোন করা হয়। তখন আমি স্থানীয়দের জানাই তোমরা আমার উপর আস্থা রাখতে পারবে কিনা। উত্তরে তারা হ্যাঁ জানায়। আমি জুমআর নামাজের পর রওনা দিয়ে বিকেল ৪টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছাই। তখন সেখানে গিয়ে দেখি ৫ হাজারের মতো লোকজন বৃষ্টিতে ভিজে সেখানে উপস্থিত রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার নারীও ছিল। অনেকেই সেদিন দুপুরে নামাজ পড়তে যাই নাই।

আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পর লোকজন আমাকে বলে ‘এমপি সাহেব শিক্ষক যেন ঘর থেকে বের হতে না পারে। মাস্টারকে আপনি আমাদের উপর ছেড়ে দিন। আমরা তাকে কেটে কুচি কুচি করে খাওয়াবো। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গিয়ে আমি বদ্ধঘরে থাকা হেড মাস্টারের কাছে কারণ জানতে চাই। এবং ধর্ম নিয়ে কোনো কটূক্তি করেছে কিনা সেটা জানতে চাই। উত্তরে প্রধান শিক্ষক আমাকে বলেন, ‘হয়তো আমার মাথা ঠিক ছিল না। আমার মাথা নষ্ট। কটূক্তি করলেও করতে পারি। আমি তিন কন্যার বাবা, আমি একজন কন্যাদ্বায়গ্রস্থ পিতা। আপনি আমাকে রক্ষা করেন। তখন তাকে আমি জিজ্ঞেস করি আপনি এখন কী করবেন, তখন প্রধান শিক্ষক স্বেচ্ছায় কানে ধরে উঠবস করার কথা স্বীকার করেন।

পরে আমি তাকে ঘর থেকে বের করে আনি। তখন হেড মাস্টার কানে ধরে উঠবস করে। হ্যাঁ তখন আমি এলাকাবাসীর জন্য পরিস্থিতি সামাল দিতে আঙ্গুল দিয়ে উঠবস করতে বলেছিলাম।

ওই সময়ে সেলিম ওসমান বলেন, ‘আমার লোকজন কী হাতে চুড়ি পরে আছে’। প্রশ্ন ছুড়তেই সংবাদ সম্মেলনে থাকা সেলিম ওসমানের অনুগামী লোকজন চিৎকার করে উঠেন ‘আমরা আছি, শুধু অর্ডার দেন।’

তখন সেলিম ওসমান পাল্টা উত্তরে বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করতে চাই না। বন্দরের ঘটনার কারণে যদি আমার ফাঁসিও হয় তাহলে কেউ কোনো প্রতিবাদ করবে না। যে শাস্তি হোক আমি মাথা পেতে নিব।’