‘খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরানোর চক্রান্ত’
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে তার বিরুদ্ধে একের পর এক ‘মিথ্যা মামলা’ দিচ্ছে।এটা দেশ নেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার হীন চক্রান্ত।’ তিনি অবিলম্বে এসব মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
আজ শুক্রবার (১৩ মে) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। ফখরুল অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী ও কয়েকজন মন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্য করে চলেছেন এবং একজন ফাঁসি চেয়েছেন। এই ধরনের মন্তব্য তাদের দায়িত্বহীনতার পরিচয় বহন করে। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি এটি দলের চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে এবং ভিন্ন মতের সব রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র। দেশ নেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চিরস্থায়ী করার নীল নকশা মাত্র।’ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়ার নিন্দা জানান তিনি। দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকা অবস্থায় আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ওই মামলায় সম্পৃক্ত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ের অ্যাকাউন্টে ৩০০ মিলিয়ন ডলার সম্পর্কে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত বিষয় জাতির সামনে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।’ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে সুপরিকল্পিত নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে বলেও দাবি করে তিনি। বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা এবং নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই প্রচারণা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। ইউপি নির্বাচন একটি প্রহসন ও তামাশায় পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে প্রায় ৬০ জন মানুষ সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছে অসংখ্য। সহিংসতায় ভোট ডাকাতি, মনোনয়নপত্র জমা দিতে না দেওয়া, ফলাফল পাল্টে দেওয়ার মধ্যদিয়ে আবার প্রমাণিত হয়েছে যে, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে না।’ তিনি অবিলম্বে এই নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করেন। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করার আহ্বান জানান। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের দুঃশাসনে দেশে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং দেশে স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিকল্প নেই।’ এ সময় খালেদা জিয়ার সংলাপের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বানও জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, এয়ার ভাইস মার্শাল (অবসরপ্রাপ্ত) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, দপ্তর সহসম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা প্রমুখ ছিলেন।


