English Version
আপডেট : ১১ মে, ২০১৬ ০০:১০

নিজামীর ফাঁসি কার্যকর

ষ্টাফ রিপোর্টার
নিজামীর ফাঁসি কার্যকর
জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর

মানবতাবিরোধী অপরাধে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে ১২টা ১০ মিনিটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন আব্দুল মালেক মৃধা।

পরে সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির কারাগার থেকে বের হয়ে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের বলেন, ‘১২টা ১০ মিনিটে নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে।’

ফাঁসি কার্যকর করার সময় উপস্থিত ছিলেন: ঢাকা জেলা প্রশাসক (ম্যাজিস্ট্রেট) সালাউদ্দিন আহমেদ, সিভিল সার্জন আব্দুল মালেক মৃধা, ডিএমপির পক্ষে ডিসি ডিবি উত্তর শেখ নাজমুল আলম, সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির, ডিসি লালবাগ মফিজ উদ্দিন। 

দণ্ডকার্যকরকে কেন্দ্র করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশে ৮ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এনিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় র‌্যাব-পুলিশি পাহারায় তার লাশ কারাগার থেকে বের করে সরকারি এ্যাম্বুলেন্স যোগে গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার সাঁথিয়ার মনমথপুর গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে।

এরআগে আজ সন্ধ্যা নিজামীর সঙ্গে তার পরিবারের ২৬ সদস্য দেখা করে প্রায় ২ঘণ্টা শেষ বারের মত কথা বলেন।

গত ৫ মে নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় গতকাল সোমবার কারাগারে পৌঁছানোর পর ফাঁসি কার্যকরে প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। নিজামীকে রায় পড়ে শোনানো হয়েছে। এখন নিজামী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন না করার সিদ্ধান্ত নিলে সরকারের নির্ধারণ করা সময়ে কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর যাবতীয় প্রস্তুতি নিতে থাকেন।

  গত ৫ মে (বৃহস্পতিবার) আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।   রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, মতিউর রহমান নিজামী আলবদর বাহিনীর প্রধান হিসেবে বাহিনীর সঙ্গে তিনি নিজে শুধু অংশগ্রহণ করেননি বরং দলের নেতাকর্মীদের উত্সাহিত করেছেন। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে রিভিউর নথি পর্যালোচনা করা হয়েছে। কিন্তু রিভিউ গ্রহণ করার মতো কোনো যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। মতিউর রহমান নিজামী যে তিনটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পেয়েছিলেন, সেই তিনটি অভিযোগেই শুধু রিভিউ করেছেন এবং দণ্ড কমানোর আবেদন করেছেন। কিন্তু রিভিউ গ্রহণ করার মতো ব্যতিক্রমী কোনো যুক্তি পাওয়া যায়নি। বরং বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে তার সরাসরি অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণেই তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।   গত ২৯ মার্চ মতিউর রহমান নিজামী রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। এরপর ৩ মে আবেদনের শুনানি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শেষ হয়। ৫ মে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি করে সর্বোচ্চ আদালত।   হত্যা, গণহত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবরে নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ঐ রায়ের বিরুদ্ধে নিজামী আপিল করার পর, গত ৬ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে আপিল বিভাগ। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেফতার করা হয়।

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে এখন পর্যন্ত চার জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ফাঁসি কার্যকর করা হয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লাকে। ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এরপর জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় একই দিনে, গত বছরের ২১ নভেম্বর।