English Version
আপডেট : ১০ মে, ২০১৬ ১২:৪৭

নিজামীর প্রাণভিক্ষা নিয়ে রাজনীতি!

ষ্টাফ রিপোর্টার
নিজামীর প্রাণভিক্ষা নিয়ে রাজনীতি!

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামির আমির মাওলানা নিজামীর প্রাণভিক্ষা নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়েছে। দণ্ডকার্যকরের আগে একমাত্র রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারেন নিজামী। কিন্তু জামায়াত ও নিজামীর পরিবার বলছেন তিনি আল্লাহর কাছে ছাড়া কারো কাছেই প্রাণভিক্ষা চাইবেন না।

তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেছেন, ‘প্রাণভিক্ষা নিয়ে জামায়াত রাজনীতি করতে চায়। এজন্যই এখতিয়ার না থাকলেও তারা দলীয়ভাবে বক্তব্য দিচ্ছে’।

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, ‘ক্ষমা চাইবেন কিনা এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দল বা পরিবার বক্তব্য, বিবৃতি দিলে সেটা হবে অহেতুক। এর ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই’। 

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘ইজ্জত রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে জামায়াত ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ার চেষ্টা করছে। কারণ, তাদের নেতারা যে অপরাধী সেটা দেশের মানুষ জানতো। এবার আদালতেও প্রমাণ হয়েছে সব। কেবল রাষ্ট্রপক্ষ নয়, অপরাধ স্বীকার করেছে খোদ নিজামীর আইনজীবীরাও। এই অবস্থায় কর্মী-সমর্থকদের কাছে মুখরক্ষার উপায় খুঁজছে জামায়াত। এর অংশ হিসেবেই নিজামী ক্ষমা চাইবেন না বলে আগ বাড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছে জামায়াত’। 

অপরদিকে ২৯ এপ্রিল কাশিমপুর কারাগারে নিজামীর সঙ্গে দেখা করেন তার পরিবারের ১০ সদস্য। সাক্ষাত শেষে তার পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি (নিজামী) তাদেরকে জানিয়েছেন, প্রাণ ভিক্ষা চাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। একইদিন জামায়াত এক বিবৃতি জানিয়েছেন, মতিউর রহমান নিজামী প্রাণভিক্ষা চাইবেন না।   এরপর ২ মে একই দাবি করেন নিজামীর আইনজীবী তাজুল ইসলামও

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, নিজামীর মামলায় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ শেষ হয়েছে। এখন যে কোনও সময় দণ্ড কার্যকর করতে পারবে সরকার। তবে এর আগে তিনি চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে পারবেন।রাষ্ট্রপতি সেই দাবি গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষমতা রাখেন।