English Version
আপডেট : ১০ মে, ২০১৬ ১২:২৯

নিজামীর অপেক্ষায় ৮ জল্লাদ

অনলাইন ডেস্ক
নিজামীর অপেক্ষায় ৮ জল্লাদ
নিজামী ফাইল ফটো

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আট জল্লাদকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করেছেন রাজু ও সাত্তার রয়েছেন। তবে ওই সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধান জল্লাদ শাহজাহান ও জনিকে এবার দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে না।

প্রাণ ভিক্ষার আবেদন এবং পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতসহ আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে চকবাজারের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারেই নিজামীকে ফাঁসির মঞ্চে ঝোলানো হতে পারে। নির্ভরযোগ্য একাধিক কারা সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কারাগারের ফাঁসির মঞ্চসহ আশপাশ পরিষ্কার করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে জল্লাদ হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারে এমন আটজনকে বাছাই করা হয়েছে। 

কারা সূত্র জানিয়েছে, এবার রাজু ও সাত্তারই হচ্ছেন নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের প্রধান জল্লাদ। তালিকায় আছেন- আবুল, হযরত, ইকবাল, মাসুদ, মোক্তার ও মনি নামের আরও ছয় দন্ডপ্রাপ্ত আসামি। তবে শেষ মুহূর্তে দণ্ড কার্যকরের জল্লাদ চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

এদিক অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, মাওলানা নিজামী বর্তমানে কনডেম সেলে আছেন। রায় পড়ে শোনানোর পর থেকে তাকে অত্যন্ত বিমর্ষ দেখাচ্ছে। তবে তিনি নিয়মিত নামাজ পড়ে ও সামান্য খাবার এবং ওষুধ খেয়েছেন।  

দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে যারা ফঁসি কার্যকর করেন, তাদের জল্লাদ বলে। ফাঁসির আসামিকে জম টুপি পরিয়ে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে গলায় দড়ি পরিয়ে দেয়া এবং পরে রুমাল ফেলে দেয়া নির্দেশনায় পায়ের নিচ থেকে প্যাডেল সরিয়ে ফেলাই তাদের দায়িত্ব। এসব কাজের মাধ্যমে জল্লাদদের শাস্তিও কমে।

এরআগে গত ৫ মে (বৃহস্পতিবার) আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ট্রাইব্যুনালে নিজামীর বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৬টি অভিযোগের মধ্যে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতাসহ আটটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। 

২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের একটি মামলায় মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেপ্তার করার পর একই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।