English Version
আপডেট : ১০ মে, ২০১৬ ০০:৪৭

অবৈধ সরকার দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়

ষ্টাফ রিপোর্টার
অবৈধ সরকার দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়

অবৈধ সরকার দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যই ‘ষোড়শ সংশোধনী’ বাতিল করে দেয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরোধিতা করছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (০৯ মে) বাদ আসর রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফখরুল।

তিনি বলেছেন, ‘বিচার বিভাগ যখন তাদের স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য রায় দিচ্ছেন, সরকার তখন এর বিরোধিতা করছে। কারণ, তারা দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করতে চায় না তারা।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সুস্থতা কামনায় সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, ওয়ারী, কোতয়ালী ও বংশাল থানা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

প্রসঙ্গত, একটি রিট আবেদনে দেয়া রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের বিশেষ বেঞ্চ ‘বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী’ অবৈধ ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত বলেন, ‘সংসদের মাধ্যমে বিচারকগণের অপসারণ প্রক্রিয়া ইতিহাসের একটি দুর্ঘটনা।’

অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক সঙ্কটের সঙ্গে দেশ সাংবিধানিক সঙ্কটেও পড়েছে এমন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এই অবস্থা থেকে উত্তোরণে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বারবার আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু তারা (সরকার) কর্ণপাত করছে না। সেজন্য খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামতে হবে। আর আন্দোলনের মাধ্যমেই ক্ষমতাসীনদের নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে হবে, যে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’

এ লক্ষ্যে মির্জা ফখরুল বিএনপির মহানগর শাখাকে আরো সংগঠিত হয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আগামীর আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক কাজী আবুল বাশার, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান, প্রথম যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ আজিজুল ইসলামসহ সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, ওয়ারী, কোতয়ালী ও বংশাল থানা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।