English Version
আপডেট : ১০ মে, ২০১৬ ০০:১৩

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি প্রায় চূড়ান্ত, সম্ভাব্য কমিটিতে যারা থাকছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি প্রায় চূড়ান্ত, সম্ভাব্য কমিটিতে যারা থাকছেন

ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের প্রাধান্য দিয়ে যুবদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। ঘোষণা আসতে পারে যে কোনো দিন। চূড়ান্ত ঘোষণার আগে ভবিষ্যতের নানা সমীকরণের হিসাব মেলাতে হচ্ছে বিএনপির হাই কমান্ডকে।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন কমিটি ঘোষণায় ‘যদি-কিন্তু’র বিষয়-আসয় ভালো করে পরখ করা হচ্ছে। এক ব্যক্তি একাধিক সংগঠনের বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। জটিলতা যাই থাক শিগগিরই যুবদলের নতুন ঘোষণা আসছে বলে জানান বিএনপি নেতারা।

যুবদলের শীর্ষ পদের জন্য বিবেচনায় থাকা অনেক নেতাকে স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সম্পাদকীয় কিংবা সহ-সম্পাদকীয় পদেও দেখতে চায় দলের হাই কমান্ড। তবে নেতাকর্মীদের আশা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামসহ সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার-বিশ্লেষণ করে যোগ্যদের দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন যুবদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।

এদিকে, যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও ঢাকা মহানগর কমিটি এবার পৃথকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। চার ভাগের আলোচনা থাকলেও ঢাকা মহানগরীতে দুই ভাগেই (উত্তর ও দক্ষিণ) বিভক্ত থাকছে যুবদল।

২০১০ সালের ১ মার্চ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে সভাপতি এবং সাইফুল আলম নীরবকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে মামুন হাসানকে সভাপতি ও এস এম জাহাঙ্গীরকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যবিশিষ্ট ঢাকা মহানগর উত্তর এবং হামিদুর রহমান হামিদকে সভাপতি ও রফিকুল আলম মজনুকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যবিশিষ্ট নগর দক্ষিণের কমিটিও ঘোষণা করা হয়।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, যুবদলের কমিটির মেয়াদ তিন বছর। কিন্তু ছয় বছরেরও অধিক সময় ধরে সংগঠনটির বর্তমান কমিটি (কেন্দ্রীয় ও মহানগর উত্তর-দক্ষিণ) বহাল রয়েছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য ছাত্রদলের সাবেক নেতারাই প্রথম পছন্দ বিএনপির। তবে যুবদলের বর্তমান নেতাদের একটি অংশ চাচ্ছেন, তাদের মধ্য থেকেই যেন সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব বেছে নেয়া হয়। সে হিসেবে বর্তমান কমিটির অনেক নেতাও নেমেছেন পদের লড়াইয়ে।

সম্ভাব্য যুবদল কমিটি : যুবদলের সভাপতির পদে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর নাম এখন সর্বাধিক আলোচিত হচ্ছে। তবে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব পদের সংখ্যা আরো দুই-তিনটি বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। সেক্ষেত্রে এ্যানী যুগ্ম-মহাসচিব পদ পেতে পারেন। সেটা হলে যুবদলের সমীকরণও পাল্টে যাবে।

যুবদলের ভেতর থেকে সভাপতি পদের লড়াইয়ে বর্তমান সেক্রেটারি সাইফুল আলম নীরবের নাম সবার প্রথমে রয়েছে। এ্যানী যুগ্ম মহাসচিব হলে যুবদলের সভাপতি পদে তখন নীরব সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবেন। নীবর যুবদলের সভাপতি হলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সেক্রেটারি শফিউল বারী বাবুকে চান। তবে যুবদলে বিএনপির সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ব্যাপারে নীরবের অনীহা রয়েছে।

এদিকে, এ্যানী যুবদলের সভাপতি হলে সাংগঠনিক দক্ষতা বিবেচনায় নীরবকে স্বপদে (সেক্রেটারি) বহাল রাখা হতে পারে। তবে কোনো কারণে নীরব যুবদলের শীর্ষ পদ (প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি) না পেলে তাকে বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক কিংবা অন্য সম্পাদকীয় পদে পদায়ন করা হবে।

যুবদলের সভাপতি অথবা সেক্রেটারি হতে চান সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তবে তার ব্যাপারে যুবদল নেতাকর্মীদের অনীহা রয়েছে। আর দু’টির মধ্যে কোনটি না হলে টুকু বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকের পদ প্রত্যাশা করেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়।

যুবদলের সেক্রেটারি পদের আলোচনায় শফিউল বারী বাবুও রয়েছেন। তিনি একইসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি পদেরও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। বর্তমান সেক্রেটারি মীর সরফত আলী সপুও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হতে চান। 

জানা যায়, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক একজন সভাপতি যিনি বর্তমানে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে অধিষ্ঠিত, তিনি ও তার বলয়ের লোকজন সপুকে সংগঠনটির সভাপতি বানাতে উঠেপড়ে লেগেছেন। সপু স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হলে বাবু ওই সংগঠনের সেক্রেটারি হতে আগ্রহী নয় বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়। সেক্ষেত্রে বাবুকে যুবদলের সেক্রেটারি করা হতে পারে। 

সেক্রেটারি পদ প্রত্যাশা করেন যুবদলের প্রথম যুগ্ম-সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজও। তবে তাকে সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হতে পারে। সেক্রেটারি পদের আলোচনায় থাকা যুবদলের বর্তমান সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদুরু সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হতে পারেন। 

সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে যুবদলের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ম মোজাম্মেল হোসেনের নামও শোনা যাচ্ছে। অন্য আরেকটি সূত্র বলছে, মোজাম্মেলকে যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা না হলে তাকে বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে জায়গা করে দেয়া হবে।

ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক কামরুজ্জামান রতনও যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রত্যাশী। যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাকও সেক্রেটারি হতে আগ্রহী। যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মামুন হাসান এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম-সম্পাদক কাজী রফিকও নতুন কমিটিতে সেক্রেটারি পদ প্রত্যাশা করেন। মামুন হাসান সাধারণ সম্পাদক না হলে তাকে যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক করা হতে পারে।

যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদের আলোচনায় আরো রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সেক্রেটারি হাবিবুর রশিদ হাবিব। তবে তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক কিংবা বিএনপির সহ-সম্পাদকীয় পদেও যেতে পারেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ (দুই ভাগ হলে) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদেও প্রতিদ্বন্দ্বী হাবিব।ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুনও যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন। তবে তাকে সংগঠনটির প্রথম যুগ্ম-সম্পাদকও করা হতে পারে। 

ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন সাংগঠনিক সম্পাদক পদ প্রত্যাশী। এ পদের আলোচনায় আরো রয়েছেন যুবদলের বর্তমান সহ-সাধারণ সম্পাদক ভিপি হারুন-অর রশিদ হারুনও। তবে তাকে সংগঠনটির প্রথম যুগ্ম-সম্পাদকও করা হতে পারে।

সূত্র মতে, এ্যানী-নীরব, নীরব-বাবু, এ্যানী-টুকু, নীরব-টুকু এই ফরমেটেই যুবদলের কমিটি গঠিত হতে পারে। 

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, যুবদলের নতুন কমিটিতে বর্তমান কমিটির ‘সক্রিয়’ নেতাদের কেউ বাদ পড়লে তাদেরকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অথবা বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটিতে স্থান দেয়া হবে। কাউকে কাউকে যোগ্যতা অনুযায়ী মহানগর বিএনপিতেও পদ দেয়া হবে। 

যুবদল উত্তরের সম্ভাব্য কমিটি যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হিসেবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীরের নাম সর্বাগ্রে রয়েছে। এ পদে তিতুমীর কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ‘ভিপি হানিফ’র নামও শোনা যাচ্ছে।

উত্তরের সভাপতি হিসেবে বর্তমান সহ-সভাপতি কফিল উদ্দিন ভুঁইয়ার নামও আলোচনায় আছে। তবে তাকে সাধারণ সম্পাদকও করা হতে পারে। সেক্রেটারি পদের আলোচনায় উত্তরের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান দুলাল এবং পল্লবী থানা যুবদলের সভাপতি শফিকুর রহমান মিল্টনের নামও রয়েছে।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে উত্তরের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম-সম্পাদক নূর-উল ইসলাম সোহেলের নাম সর্বাগ্রে রয়েছে। এ পদে উত্তরের বর্তমান যুগ্ম-সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজের নামও শোনা যাচ্ছে। 

এদিকে, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও যুগ্ম-সম্পাদক মহানগর উত্তরের অধীন বিভিন্ন থানার সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদকদের মধ্য থেকে মনোনীত করা হতে পারে।

যুবদল দক্ষিণের সম্ভাব্য কমিটি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি পদের আলোচনায় সর্বাগ্রে রয়েছেন বর্তমান সেক্রেটারি রফিকুল আলম মজনুর নাম। এ পদে দক্ষিণের বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদ আহমেদ মিলনের নামও শোনা যায়।

দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সহ-সভাপতি শরিফ হোসেন।এ পদের আলোচনায় আরো রয়েছেন-দক্ষিণের বর্তমান সহ-সভাপতি রফিক আহমেদ ডলার, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান নয়ন, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবিএম পারভেজ রেজা, জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গোলাম মওলা শাহীন ও সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ আজিজুল ইসলাম। 

এদিকে, নতুন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি, যুগ্ম-সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মহানগর দক্ষিণের অধীন বিভিন্ন থানার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্য থেকে আসতে পারেন।

যুবদলের কমিটি গঠন প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মধ্যে তুলনামূলক কম বয়সী, যারা মেধাসম্পন্ন ও স্বেচ্ছাসেবী, তাদেরকে যুবদলের দায়িত্ব দেয়ার জন্য চেয়ারপারসন (খালেদা জিয়া) বেশি চিন্তা-ভাবনা করছেন। এ ছাড়া তুলনামূলকভাবে একটু সিনিয়র হওয়ার কারণে ছাত্রদল থেকে বাদ পড়ে যারা বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে যাওয়ার জন্য অপেক্ষমান তাদের মধ্যে থেকেও অনেকে আসবেন।’