আ.লীগের নৌকা জামায়াতের ঘরে! টাকা থাকলে আদর্শের বালাই নেই.
জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার দেওঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন মো. চাঁন মিয়া নামে এক ব্যক্তি। তার হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে নৌকা প্রতীক।
তবে দলীয় কর্মীদের অভিযোগ, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চাঁন মিয়া জামায়াতে ইসলামের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। জামায়াতের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
আরো অভিযোগ উঠেছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ‘সাজানো তৃণমূল নির্বাচন’ দেখিয়ে ওই ব্যক্তির হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রমতে, দেওঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে গত ১৬ এপ্রিল উপজেলা সদরে ভোটের আয়োজন করা হয়। এতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৮ জন প্রার্থী।
দেওঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা ভোট দিয়ে দলীয় প্রার্থী নির্বাচন করেন। এসময় ১৮টি ভোটের মধ্যে চাঁন মিয়া পান ১২টি ভোট, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইব্রাহিম মিয়া পান ৫ ভোট আর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাফতান মিয়া পান মাত্র এক ভোট।
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী খন্দকার আবু সুফিয়ান বলেন, ‘কালো টাকার বিনিময়ে তৃণমূল ডেলিগেটরা তাদের ভোট বিক্রি করেছেন। টাকার দাপটে আওয়ামী লীগের নৌকা চলে গেছে জামায়াতের ঘরে।’ তিনি বলেন, ‘সারাজীবন আওয়ামী লীগ করেও দলের মনোনয়ন পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। টাকা থাকলে এখন আর কোনো আদর্শের বালাই নেই।’
দেওঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন নিউজ আইকে বলেন, ‘চাঁন মিয়া কখনো আওয়ামী লীগ করেননি। আওয়ামী লীগে তার কোনো পদও নেই। এক সময় জামায়াতে ইসলামের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। এটা সবাই জানেন। শুধু টাকা দিয়ে কিনে তিনি নৌকার প্রার্থী হতে যাচ্ছেন।’ ভোট বিক্রির জন্য তাকেও মোটা অংকের টাকা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তৃণমূলের ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. চাঁন মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি দশ টাকাও খরচ করিনি। ভোট কেনা তো দূরের কথা। জামায়াত করি এটা ঠিক না।’ তবে তার দাবি, তিনি দেওঘর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল আছেন।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম জেমস বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী চাঁন মিয়া জামায়েতের সাথে সংশ্লিষ্ট, এ ধরণের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। তবে, তিনি ৫/৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।’
আগামী ২৮ মে পঞ্চম ধাপে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


