English Version
আপডেট : ১৫ এপ্রিল, ২০১৬ ১৮:২৫

‘দেশে গণতন্ত্রের জন্য তীব্র ভূকম্পন অনুভূত হচ্ছে’

ষ্টাফ রিপোর্টার
‘দেশে গণতন্ত্রের জন্য তীব্র ভূকম্পন অনুভূত হচ্ছে’
গয়েশ্বর সহ নেতৃবৃন্দ

দেশের গণতন্ত্র ফিরে আনার জন্য মানুষের মনেও তীব্র ভূমিকম্প হচ্ছে। আর এই ভূমিকম্প একখন মনের ভিতর থেকে বাহির হবে তা আমি বলতে পারছিন না। সেই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান যে কতো হবে তা সরকার অুনমান করতে পারছে না। যদি অনুমান করতে পারতো তাহলে সকলকে নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজতো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।   শুক্রবার দুপুরে  জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপ লাউঞ্জে গণসংস্কৃতি দলের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

নিজ দলের নেতাদের সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, দুর্নীতিবাজ লোক নিয়ে আন্দোলন করলে তা সফল হবে না। আমাদের সুশৃঙ্খল লাখ লাখ কর্মী থাকার পরও আমরা কেন আন্দোলন করতে পারছি না তার জবাব খুঁজে বের করতে হবে। কারণ দলে পদ পাওয়াটাই মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুলশান-বনানীতে না থাকলে যাদের রাতের ঘুম হয় না তাদের দিয়ে আন্দোলন হবে না।

তিনি বলেন, সরকার মনে করছে বিএনপি আর রাজপথে নামতে পারবে না। আমিও জানি না, কবে আন্দোলনে নামবো। কিন্তু দেশবাসীর জাতীয়তাবাদী মনের ভূমিকম্প কখন কোন অবস্থায় হবে, এর ক্ষয়ক্ষতি কী হবে, তা সরকার বুঝতে পারছে না। আমরাও বুঝতে পারছি না।   তিনি আরও বলেন, বলেছেন, বর্তমান দেশে নির্বাচনের নামে খুন ও হত্যার মহাউৎসব চলছে। এজন্য জনগণ এ নির্বাচন চায় না বলার পর আবার নির্বাচনে যেতে হবে কেন?' বিএনপির নির্বাচন বর্জনের গণ-ডাক দিয়ে কেনো নির্বাচনে অংশগ্রহন করলো? আবার নির্বাচনে যাওয়ার পর, নির্বাচন বৈধ হচ্ছে না বলে কেনো কান্না করছে ?   বিএনপির যে সকল নেতাকর্মীরা দলকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সরকার নির্বাচন সুষ্ঠ হওয়ার গেরান্টি দেয়নি। কিন্তু এরপরও কেনো নির্বাচনে যাওয়া ঘোষণা দিলেন। আবার নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে বলে, কেনো কান্না করছেন। আর অপরদিকে সম্পদ ভাগাভাগি করবেন। তাহলে তো কিছু হবে না।   পহেলা বৈশাখ ও নববর্ষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পহেলা বৈশাখের আগে ঘোষণা দিলেন তিনি ইলিশ খাবেন না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি একদিনের জন্য কেনো ইলিশ ছাড়লেন? আর আপনি (শেখ হাসিনা) ভোট চুরি ও ভোট ডাকাতি বন্ধ করে গণতন্ত্র খাওয়া বন্ধ করবেন কি না, তা জাতি জানতে চায়।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা ইমতিয়াজ হোসেন চপলের সভাপতিত্বে সভা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক ড. সুকোমল রড়ুয়া, জাসাসের সভাপতি এম এ মালেক, গণ সংস্কৃতি দলে প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক এস আল মানুষসহ প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।