English Version
আপডেট : ১২ এপ্রিল, ২০১৬ ১৯:৫৫

‘চাপে পড়ে পরিসংখ্যান ব্যুরো মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছে’

ষ্টাফ রিপোর্টার
‘চাপে পড়ে পরিসংখ্যান ব্যুরো মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছে’

 

বর্তমান অবৈধ সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) সরকার চাপ প্রয়োগ করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য মিথ্যা রিপোর্ট প্রকাশ করতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। আজ মঙ্গলবার (১২এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর রিপোর্ট বিভ্রান্ত মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ৭.০৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। এটা অলিক। জনগণকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতায় টিকে থাকাই সরকারের উদ্দেশ্য। সরকার এ পরিসংখ্যানের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে বিভ্রান্ত করছে। ‘পৃথিবীর অনেক দেশে বাংলাদেশের বিশাল অংকের পুঁজি পাচার হচ্ছে। পুঁজি পাচার জাতীয় অর্থনীতিকে রক্তশূণ্য করে ফেলছে। সরকার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাড়িয়ে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ ঘাটতি পূরণের কৌশল নিয়েছে।’

জনগণের প্রতি আহবান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের পরিসংখ্যানের চমকে বিভ্রান্ত হবেন না।’ জনগণের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, আপনাদের জীবন-মানের পরিপ্রেক্ষিতে আপনারাই জানেন আপনারা কেমন আছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী মাথা পিছু আয় গত অর্থবছরের ১৩১৬ ডলার থেকে চলতি অর্থ বছরের ১৪৬৬ মার্কিন ডলারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাথা পিছু আয় ব্যাপক জনগোষ্ঠির প্রকৃত কল্যাণের সূচক নয়। এর জন্য জানা প্রয়োজন আয় বৈষম্যেও সূচক। বাংলাদেশে আয় বৈষম্য বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জতীয় আয় নির্ধারণে ভিত্তি বছর পরিবর্তন করার ফলে বর্তমান দলীয় সরকারের আমলে ২০০৯ সালে মাথাপিছু আয় ১২১ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছিলো, যা নেহায়েতই পরিসংখ্যানগত চমক। বাস্তবে সাধারণ মানুষের অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। একারণেই পরিসংখ্যানের চমকে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি আরো বলেন, দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে না। একারণে ব্যাংকে অলস টাকা পড়ে আছে। সর্বক্ষেত্রে সন্ত্রাসী, চাদাঁবাজি ও সরকারের অব্যবস্থাপনায় দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে না। দেশে বিনিয়োগ না থাকায় দেশের টাকা বাহিরে চলে যাচ্ছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকার যে ৭.০৫ প্রবৃদ্ধি দাবি করছে তা সঠিক নয়। এটা উদ্দেশ্যমূলক। সরকার পরিসংখ্যান ব্যুরোকে চাপ দিয়ে এ পরিসংখ্যান প্রস্তুত করেছে। পন্য ও সেবার মান বাড়লে প্রবৃদ্ধি বাড়বে কিন্তু বাস্তবে পন্য ও সেবার মান বাড়েনি। তাই প্রবৃদ্ধি বাড়ার দাবি সঠিক নয়।     

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ড. ওসমান ফারুক, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী , সহ দফতর সম্পাদব আব্দুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ।