রাজাকার তাহের-ননী ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায়
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ের জন্য নেত্রোকোণার মো. ওবায়দুল হক ওরফে আবু তাহের এবং সদস্য আতাউর রহমান ননীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নিরস্ত্র মানুষকে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ এবং হত্যার ছয় অভিযোগ রয়েছে এই দুই আসামির বিরুদ্ধে। রমনা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (পেট্রোল) এসএম ইমানুল হক জানান, তাহের ও ননীকে মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালে পৌঁছানোর পর যুদ্ধাপরাধ মামলার এই দুই আসামিকে রাখা হয়েছে হাজতখানায়।
ইমানুল হক বলেন, যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে ট্রাইব্যুনাল এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিচারপতি আনোয়ারুল হক নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী। গতবছর ২ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধাপরাধ মামলার বিচার শুরু হয় ট্রাইব্যুনালে। দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে আদালত গত ১০ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখে।
নেত্রোকোণার মুক্তিযোদ্ধা আলী রেজা কাঞ্চন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০১০ সালে ননী ও তাহেরসহ ১২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করলে পরে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে আসে। ২০১৩ সালের ৬ জুন এ দুই আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে প্রসিকিউশনের তদন্ত সংস্থা। এক বছর চার মাস ২৮ দিন তদন্তের পরে ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর দেওয়া হয় ৬৩ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন। প্রসিকিউশনের আবেদনে আদালত পরোয়ানা জারি করলে ওইবছর ১২ অগাস্ট দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে নেত্রকোণার পুলিশ। পরদিন তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পাঠানো হয় কারাগারে। প্রসিকিউশন এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। এরপর গতবছর ২ মার্চ এ মামলায় অভিযোগ গঠন হয়।


