লড়াই অব্যাহত থাকবে : ফের শপথ
নিজস্ব প্রতিবেদক
যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে 'লড়াই অব্যাহত থাকবে' বলে শপথ পাঠ করলেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় বহাল থাকার দিন বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক গণঅবস্থান কর্মসূচিতে এ শপথ পড়ান তিনি।
এ সময় একাত্তরের সকল যুদ্ধাপরাধী এবং ফেরত পাঠানো ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত 'লড়াই' অব্যাহত রাখার শপথ করেছেন মুক্তিযোদ্ধাসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। 'আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার' ব্যানরে এই অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, আওয়ামী লীগ নেতা শাজাহান খান যার আহ্বায়ক।
নিজামীর ফাঁসি বহাল থাকায় কর্মসূচির শুরুতেই আদালত ও আইনজীবীদের ধন্যবাদ জানান শাজাহান খান। তিনি বলেন, 'আমরা জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি। ইতোমধ্যে চারজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। বাকি সবার রায়ও বাস্তবায়ন হবে।'
শপথে বলা হয়, 'আমরা শপথ করছি, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি- রাজাকার, আল বদর, জামায়াতে ইসলামীসহ যারা অপরাধ করেছিল সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এবং ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনা, যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে, দুই লাখ মা-বোনকে ধর্ষণ করেছে, আমাদের সম্পদ লুট করেছে, অগ্নিসংযোগ করেছে- সেই পাকিস্তানি সৈন্যদের বিচার করতে না পারব; ততদিন পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।'
শপথের পর ৭ থেকে ৯ জানুয়ারি যুদ্ধাপরাধী ও পাকিস্তানি সেনাদের বিচারের দাবিতে গণসংযোগ, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের জাতীয় কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ, ১৭ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন, ২০ জানুয়ারি ‘শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের’ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশের ঘোষণা দেন।
অন্যদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, জাসদ নেত্রী শিরীন আখতার, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সহসভাপতি ইসমত কাদির গামা, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী এই অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।


