English Version
আপডেট : ১ জানুয়ারি, ২০২২ ১৩:৩৭

সময় এখন বাংলাদেশের, কথাটি মনে রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
সময় এখন বাংলাদেশের, কথাটি মনে রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‌‌সময় কিন্তু এখন আমাদের, সময় বাংলাদেশের; একথাটি মনে রাখতে হবে এবং সেই সুযোগটি আমাদের নিতে হবে।

২৬তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা-২০২২ আমাদের সক্ষমতার বার্তা আরও জোরালোভাবে পৌঁছে দেবেও বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। শনিবার (১ জানুয়ারি) ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই মেলার উদ্বোধন ও আইসিটি পণ্য সেবাকে বর্ষপণ্য-২০২২ ঘোষণা করে এ আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় রফতানি খাতের ভূমিকা অনেক বেশি। বিশেষ করে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র বিমোচন এবং বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে এগিয়ে নিয়ে যাবে এই অর্থনৈতিক অগ্রগতি। 

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের সময় মোট রফতানি আয় আমি পেয়েছিলাম ১৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত ১৩ বছরে আমরা অর্জন করেছি ৪৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এই ব্যাপক উন্নতি আমরা করতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদের আগামী প্রজন্ম পাবে একটা সুন্দর সমাজ, সুন্দর দেশ, উন্নত দেশ; যে দেশ হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আত্ম নির্ভরশীল, আত্মমর্যাদাশীল, উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

এসময় প্রধানমন্ত্রী আইসিটি পণ্য সেবাকে বর্ষপণ্য-২০২২ ঘোষণা করে বলেন, রপ্তানি নীতি অনুযায়ী প্রতিবছর একটি পণ্যকে বর্ষপণ্য বা প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করি। এবার আইসিটি পণ্য বা সেবাকে বর্ষপণ্য ২০২২ ঘোষণা করছি।

মেলার নতুন ভেন্যু সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা স্থায়ী মেলার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। (নতুন ভেন্যুতে) প্রথম আয়োজন করছেন, কিছু কিছু সমস্যা থাকতে পারে। আমি তো কাঠামো করে দিয়েছি, বাকিগুলো আপনারা ব্যবসায়ীরা সমাধান করে নেন। এই মেলার ফলে পণ্যের চাহিদা জানা ও সে আলোকে পণ্য তৈরি ও বাজারজাতকরণের আইডিয়া পাওয়া যাবে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সির সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ ও এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন।

দেশের রপ্তানি পণ্যের প্রবৃদ্ধি ও বাজার বৈচিত্রের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং অন্যান্য সহায়ক সংস্থা এই মেলার আয়োজন করছে বাণিজ্যমেলার নতুন এই ভেন্যুতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ২৩টি প্যাভিলিয়ন, ২৭টি মিনি প্যাভিলিয়ন, ১৬২টি স্টল ও ১৫টি ফুড স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এক্সিবিশন সেন্টারের ১৪ হাজার ৩৬৬ বর্গমিটার (প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার বর্গফুট) আয়তনের দুটি হলে সব স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। মেলা কমপ্লেক্সের বাইরে (সামনে ও পেছনে) প্যাভিলিয়ন, মিনি প্যাভিলিয়ন ও ফুড স্টল নির্মাণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাসব্যাপী এই মেলা সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তা রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে।