English Version
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২১ ১৫:২৯

পবিত্র আশুরা আজ, মুসলিম উম্মাহর শোকাবহ দিন

অনলাইন ডেস্ক
পবিত্র আশুরা আজ, মুসলিম উম্মাহর শোকাবহ দিন

আজ শুক্রবার। ২০ আগস্ট। ১০ মহররম ১৪৪৩। আজকের এই দিনেই হজরত মুসা আলাইহিস-সাল্লাম ও তার জাতি ইসরাইল ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি লাভ করেন। ফেরাউন বিশাল সৈন্য-সামন্তসহ নীল নদে ডুবে প্রাণ হারায়। দিনটি মুসলমানদের কাছে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠারও দিন। তাই সবকিছু ছাপিয়ে কারবালার মর্মন্তুদ সকরুণ শোকগাথা এই দিবসকে গভীর কালো রেখায় উৎকীর্ন করে রেখেছে। ৬১ হিজরি সালের এই দিনে হযরত মোহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাণ প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার পরিবারের সদস্যরা ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে কারবালার ময়দানে শহীদ হন। পবিত্র আশুরা তাই মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাৎপর্যময় ও শোকাবহ দিন।

এই পবিত্র দিনটিকে শুধু মুসলমান জাতি নয়, খ্রিষ্টান-ইহুদিসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছে দিনটি অবিস্মরণীয়। ইতিহাসে বিশাল জায়গা অধিকার করে আছে পবিত্র আশুরা দিবস। এই আশুরা ইসলামের ইতিহাসে এক অসামান্য তাৎপর্যে উজ্জ্বল। ইবাদত-বন্দেগির জন্যও দিবসটি অতুলনীয়। ইসলামি ইতিহাসে হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখকে আশুরার দিন বলা হয়। ৬১ হিজরি সালের এ দিনে মহানবী (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.) কারবালার ময়দানে নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন। এই শোক ও স্মৃতিকে স্মরণ করে সারা বিশ্বে মুসলিমরা আশুরাকে ত্যাগ ও শোকের দিন হিসেবে পালন করেন। দেশে শিয়া সম্প্রদায় মুহররম মাসের প্রথম দশদিন শোক স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করেন। আশুরার দিনে তাজিয়া বের করা হয় শোকের আবহে, যা করোনার কারণে বিগত বছর হয়নি। এদিকে, এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২০ আগস্ট) পবিত্র আশুরা যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে দিনটি পালিত হবে আমাদের দেশেও। করোনা ভাইরাসের কারণে সংক্রমণরোধ পরিস্থিতি বিবেচনায় আশুরায় তাজিয়া মিছিল, শোভাযাত্রা বন্ধ ঘোষণা করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সকল ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ইতোপূর্বে আরোপিত বিধি-নিষেধ বহাল থাকবে। একই সঙ্গে পবিত্র মুহাররম উপলক্ষে সকল প্রকার তাজিয়া মিছিল, শোভাযাত্রা, মিছিল ইত্যাদি বন্ধ থাকবে। তবে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব অনুসরণপূর্বক আবশ্যক সকল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান প্রতিপালিত হবে।

অপরদিকে, আশুরা উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপিসহ অনেকেই বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ কারবালা প্রান্তরে শাহাদত বরণকারী সব শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলার প্রেরণা জোগায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র আশুরার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে জাতীয় জীবনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কাজে অংশ নিয়ে বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।