English Version
আপডেট : ১৯ জুলাই, ২০২১ ১৬:০৬

স্কুলছাত্রী হত্যায় হাইকোর্টে খালাসপ্রাপ্ত ফাঁসির দুই আসামির রায় স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক
স্কুলছাত্রী হত্যায় হাইকোর্টে খালাসপ্রাপ্ত ফাঁসির দুই আসামির রায় স্থগিত

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বুখাইতলা বান্ধবপাড়ার হাতেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণির ছাত্রী ৯ বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার ইতি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করা হয়েছে।

আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান সোমবার এ আদেশ দিয়েছেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ। আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও মোমতাজউদ্দিন ফকির।

হাইকোর্ট গত ৩০ জুন এক রায়ে মেহেদি হাসান স্বপন (২২) ও সুমন জমাদ্দারকে (২০) খালাস দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ জানান, হাইকোর্ট খালাস দিলেও ওই দুই আসামি এখনও কারাবন্দি।

মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামের ফুলমিয়ার ৯ বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার ইতিকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে নিহতের পিতা ফুল মিয়া ওই বছরের ২০১৪ সালের ৬ অক্টোবর মামলা করে। এ মামলায় আসামি সুমন জমাদ্দারকে গ্রেপ্তারের পর সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। এরপর বিচার শেষে ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি রায় দেয় পিরোজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এ রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স ও কারাবন্দি আসামিদের আপিলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট আসামিদের খালাস দেন। হাইকোর্টে আসামি সুমন জমাদ্দারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনিরের যুক্তি ছিল, ঘটনার সময় এই আসামি শিশু ছিল। তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর। তাই আইন অনুযায়ী তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে না। কিন্তু পিরোজপুর আদালত আসামিকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ড দেয়। যা আইনগতভাবে সঠিক হয়নি।