English Version
আপডেট : ১৪ জুলাই, ২০২১ ১২:১৪

অনলাইনে মিলছে না ট্রেনের টিকিট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইনে মিলছে না ট্রেনের টিকিট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। ট্রেনে বাড়ি যেতে টিকিটের জন্য অধীর আগ্রহে আছেন বহু যাত্রী। করোনা মহামারি বিবেচনায় অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে ট্রেন পরিচালনা করা হবে। শুধু কমিউটার ট্রেন ছাড়া সব ধরনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি হবে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) বিকেল থেকে টিকিট বিক্রি শুরুর কথা থাকলেও তা আজ সকাল ৮টায় শুরু হয়েছে। তবে অনলাইন থেকে টিকিট কাটতে না পারার অভিযোগ সাধারণ যাত্রীদের।

ভুক্তভোগী গ্রাহক রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা রাসেল গণমাধ্যমকে বলেন, টিকেটের পাওয়ার জন্য আজ সকাল ৮টা থেকে চেষ্টা করেছি। বারবার ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপসে প্রবেশ করতে পারেনি।

শাকিল নামে একজন যাত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, রাজশাহী যাওয়ার জন্য অনলাইনে টিকিট কাটার চেষ্টা করেছি কিন্তু যতবারই রেলের ওয়েবসাইটে গিয়েছি ততবারই ‘নো ট্রেন ফাউন্ড’দেখাচ্ছে।

কোরবানির ঈদের ছুটিতে চট্রগ্রামে যাবো। অনলাইনে টিকিটের জন্য সকাল ৮টা ৫ বার চেষ্টা করেছি কিন্তু সোনার হরিণখানা এখনো মিলে নাই। রুবাব নামে এক যাত্রী এমন তথ্য জানান।

রেলওয়ে বলছে, তারা স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন মাত্র একদিনের জন্য অগ্রিম টিকিট বিক্রি করতেন। কিন্তু আজ একসঙ্গে চার দিনের জন্য টিকিট দেওয়া হচ্ছে। সে হিসেবে ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ জুলাইয়ের টিকিট আজ একসঙ্গে অনলাইনে দেওয়া হয়েছে। যে কারণে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে সার্ভারে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। ফলে হিট বেশি পড়ায় এই সমস্যাটি হচ্ছে। তবে অনেকেই এর মধ্যেও টিকিট পেয়েছে বলেও দাবি রেলওয়ের।

জানতে চাইলে কমলাপুর রেল স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, আজ সকাল ৮টায় অনলাইনের সব টিকিটি দেওয়া হয়েছে। কোনও টিকিট কাউন্টার থেকে বিক্রি হবে না। সুতরাং সবাইকে নিশ্চিত থাকা দরকার তারা অনলাইন থেকেই টিকিট পাবেন।

তিনি বলেন, এখন ঘটনাটা হচ্ছে আগে আমরা অগ্রিম একদিনের জন্যে টিকিট বিক্রি করতাম। কিন্তু আজ একসঙ্গে চার দিনের অগ্রিম টিকিট ছাড়া হয়েছে। মানুষও ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য একসঙ্গে সার্ভারে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। যে কারণে আমাদের সার্ভার সবসময় লোড নিতে পারছে না। তবে একটি টিকিটও কাউন্টারে দেওয়া হবে না। অনলাইনের মাধ্যমেই সব টিকিট দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে একবার না পেলে বার বার চেষ্টা করার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন আমাদের ৭২টি ট্রেন যাওয়া আসা করবে। এখন এই ট্রেনগুলোতে যাওয়া ও আসার টিকিটের জন্য সবাই একসঙ্গে চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস সার্ভারে হিটের সংখ্যা কমলেই সবাই টিকিট পাবে।

এদিকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকটি ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে। মধ্যরাতের পর থেকে তারা যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা দিবেন। স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ জানান, তারা সব ধরণের প্রস্তুতি শেষ করেছেন। মাস্ক ছাড়া কোনও যাত্রীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্যবিধি পালন করতে সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।