English Version
আপডেট : ২১ জুন, ২০২১ ১৫:৪২

ঘর পেয়ে কাঁদলেন বীরাঙ্গনা, কাঁদালেন প্রধানমন্ত্রীকে

অনলাইন ডেস্ক
ঘর পেয়ে কাঁদলেন বীরাঙ্গনা, কাঁদালেন প্রধানমন্ত্রীকে

‘আমি ঘর পেয়ে খুবই খুশি। আগে রাস্তার ভিখারি ছিলাম, এখন আমি সচ্ছল। শুধু বঙ্গবন্ধু কন্যার জন্য আমি এ পর্যায়ে আসতে পেরেছি। ভগবান আপনাকে (প্রধানমন্ত্রী) দীর্ঘজীবী করুক।’ এভাবেই ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর সামনে কান্নাভরা কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন মৌলভীবাজারের বীরাঙ্গনা শিলা গুহ। এসময় শিলা গুহের কান্নায় নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।

রোববার (২০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মাজদিহি পাহাড়ের দৃষ্টিনন্দন এলাকায় নির্মিত ৩’শ ঘর ও দলিল ভূমিহীন, গৃহহীন পরিবারের মধ্যে হস্তান্তর করেন।

এ সময় উপকারভোগীদের মধ্যে শিলা গুহ বক্তব্য দেন। জমির মালিকানাসহ আধাপাকা ঘর পেয়ে নিজের অভিব্যক্তি তুলে ধরেন মৌলভীবাজারের কালাপুর ইউনিয়নের মাইজদিহি গ্রামের এই বীরাঙ্গনা। এসময় তার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে খুশির অশ্রু।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২য় পর্যায়ে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জমি ও গৃহ দান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলে সবার কাড়েন বীরাঙ্গনা শিলা গুহ। শিলা গুহর কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। কথা বলা শেষে চশমা খুলে চোখ মুছতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বীরাঙ্গনা শিলা গুহ কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আমার মা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের আত্মা যেন শান্তি পায়, আমি সেই কামনা করি। তারা যেন স্বর্গ থেকে দেখতে পান, আমরা সুখী হয়েছি।’

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩০০ পরিবারের ৬০০ শিশুসহ মোট দুই হাজার ১০০ জন এ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগী। তাদেরই একজন মাইজদিহি গ্রামের শিলা গুহ।

বীরাঙ্গনা শিলা তার নতুন ঘরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, ‘আমি এখনো প্রতিদিন আপনার জন্য বাতি জ্বালাই। আমার বোন যেন সুখী থাকে। আমার বোনকে যেন করোনাভাইরাস আক্রান্ত করতে না পারে। আমার বোন যেন হাজার বছর বাচেঁ- সেই কামনা করি।’

বীরাঙ্গনা শিলা গুহ বলেন, ‘আমি যুদ্ধের সময়ও ভাবতে পারিনি যে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধ বয়সেও আমাকে দেখে রাখবে। তাই আমি ভীষণ ভীষণ খুশি হয়েছি তার প্রতি। বঙ্গবন্ধুকন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আমার একটা দাবি, আমায় যে ঘর দিয়েছেন, সেই ঘরে একবার আসবেন। আমি আপনাকে সাতকরা দিয়ে তরকারি রান্না করে খাওয়াব।’

বীরাঙ্গনা শিলার কথার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নেবেন। আমি যদি সুযোগ পাই, নিশ্চয়ই আপনার ঘরে যাওয়ার চেষ্টা করব। আপনাদের যে অবদান, আত্মত্যাগ- সেই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই তো আমাদের স্বাধীনতা অর্জন। আত্মত্যাগ কিন্তু বৃথা যায় না। আপনারা যারা ঘর পেয়েছেন, সবাই ভালো থাকেন এই কামনা করি।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, বীরাঙ্গনা শিলা গুহের কান্না ও কথা শুনে প্রধানমন্ত্রীর চোখে জল এসেছে। সেই সঙ্গে সারা দেশের মানুষের চোখ ভিজেছে। তবে শিলা গুহের আজকের কান্না ছিল আনন্দ অশ্রু। দেশের জন্য শিলা গুহ যে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেই ক্ষত পূরণ হওয়ার নয়। তবে আমরা প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের কারণে তার মাথা রাখার জন্য একটি ঘর দিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছি।

তিনি বলেন, শিলা গুহর পাশে আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং জেলা প্রশাসন আজীবন পাশে থাকবে। যখনই তার কোনো প্রয়োজন আমরা জানতে পারব পাশে দাঁড়াব।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর ও দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহিদ, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিছবাউর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নজরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. ফজলুর রহমান, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।