উন্নয়ন ও সক্ষমতার বাজেট দিয়েছেন শেখ হাসিনা
স্বাধীনতা অর্জনের ৫০তম বছরে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থমন্ত্রী ৩ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করলেন, যা বাংলাদেশের ৫০তম। তিনি প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট। টানা তৃতীয় মেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের বাজেট নিত্যনতুন ইতিহাস তৈরি করে যাচ্ছে, এবারও করেছে। আমরা যেভাবেই বলি সব অর্থে এটা সমৃদ্ধির বাজেট। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য গর্ব ও গৌরবের বিষয়।
দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৩৬১তম পর্বে শনিবার (৫ জুন) আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন- সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ বিভাগের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহা। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল দাস।
গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার বলেন, আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় হচ্ছে সমৃদ্ধির বাজেট নিয়ে। স্বাধীনতা অর্জনের ৫০তম বছরে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থমন্ত্রী ৩ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করলেন, যা বাংলাদেশের ৫০তম। তিনি প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছেন, যা ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট। ৫০ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন অর্থনীতির সক্ষমতা। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়নসহ বেশ কিছু সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। করোনা মহামারিতে অর্থনৈতিক গতি একটু মন্থর হলেও এখনও এশিয়ার যেকোনো দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। বর্তমানে সারা বিশ্ব করোনা মহামারির কবলে দিশেহারা হয়ে আছে। পুরো পৃথিবীকেই প্রায় স্থবির করে রেখেছে এই দুর্যোগ। করোনার মধ্যেও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি, মানব উন্নয়ন সূচক ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ ইতিবাচক ধারায়। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশের মানুষের জন্য জনমুখী বাজেট দিচ্ছেন। এই বাজেটের মাধ্যমে দেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। শিক্ষাখাতকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে বাজেটে শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক দশক ধরে, পুরো বিশ্ব বাংলাদেশের অর্থনীতির অভূতপূর্ব অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বেশিরভাগ লক্ষ্য অর্জনে দেশটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এমডিজির আওতায় বেশিরভাগ সামাজিক সূচকের লক্ষ্য অর্জনে আমাদের দেশ প্রতিবেশী ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে। জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ সেøাগানে যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, তা উন্নয়ন ও জনবান্ধব। এই বাজেটকে স্বাগত জানাই। বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ফলে ব্যাপকহারে দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে। অসচ্ছল, প্রতিবন্ধী ভাতা, বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও দুস্থ মহিলা ভাতা, মাতৃকালীন ভাতাসহ সকল প্রকার ভাতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে। এই করোনা কালীন সময়ে বাজেট উপস্থাপনকে ঘিরে তিনি যে সাহস দেখিয়েছেন সেটাকে আমি সাধুবাদ জানায় কারণ আমাদের টার্গেট থাকতে হবে, কারণ টার্গেট না থাকলে আমাদের লক্ষ্যমাত্রায় আমরা পৌছাতে পারবো না।
অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, এটা আসলে একটা বিস্ময়কর ঘটনা যেখানে সারা বিশ্ব আজকে এমন একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সেখানে নিজেদের যে সাহস, যে শক্তিমত্তা প্রমাণ করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা এবারের সর্বকালের সেরা বাজেট হাজির করে। করোনার যে বিষয়টি আছে সেটাকে এই বাজেটে ব্যাপকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সে সঙ্গে শরীরের সঙ্গে ক্ষতিকর যে ধূমপান সেটাকেও এই বাজেটে ব্যাপকভাবে ডিস্ক্রেডিট করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রজ্ঞা ও দক্ষ নেতৃত্বের ফলে করোনা সংকট কিছুটা প্রশমিত করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। পৃথিবীর কোন দেশই পারেনি। সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ জনগণকে আশঙ্কার মাঝে আশার আলো দেখাচ্ছে, কিন্তু আশঙ্কা কাটেনি তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। ২০২১-২২ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ সরকারের ২৩তম বাজেট। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৯তম এবং একটানা ১৩তম বাজেট। যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি অনন্য রেকর্ড। ৫০ বছরে বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় ৭৬৬গুণ। প্রথম বাজেটের পর এক হাজার কোটি টাকার বাজেট দিতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ৩ বছর। ১০ হাজার কোটি হতে লেগেছে ১৪ বছর। ২১ বছর পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর এক লাখ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। আর ১০ বছরের মধ্যেই বাজেট ৫ লাখ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকারের ৫০তম বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ কোটি টাকা। টানা তৃতীয় মেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের বাজেট নিত্যনতুন ইতিহাস তৈরি করে যাচ্ছে, এবারও করেছে। আমরা যেভাবেই বলি সকল অর্থে এটা সমৃদ্ধির বাজেট। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য গর্ব ও গৌরবের বিষয়।
অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহা বলেন, প্রথমেই আমি ধন্যবাদ জানাই ভোরের পাতাকে যে এই রকম একটি সুন্দর বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য। কোভিড-১৯:করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি বর্তমান এক কঠিন বাস্তবতা। সারা বিশ্বে এই মহামারি লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়ে যাচ্ছে এবং আক্রান্ত হচ্ছে অগণিত মানুষ। কবে এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে তা কেউ জানে না। এমন পরিস্থিতিতে করোনা মহামারির চলমান সময়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের বাজেটে বিশ্ব অর্থনীতির সাথে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামঞ্জস্যতার নিরিখে বেশ কয়েটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে করোনা মোকাবিলা। আগামী এক-দুই বছর আমাদের দেশে করোনা মোকাবিলা সবচেয়ে জরুরি খাত হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হলে সবার আগে করোনার বিস্তার রোধে মনোযোগ দিতে হবে। এ জন্য টিকা দেওয়ার বিকল্প নেই। আগামী অর্থবছর দেশের সব নাগরিককে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে হবে, সেজন্য টিকা কেনা, দেওয়া, সংরক্ষণ, টিকা দানকারীদের প্রশিক্ষণসহ এই বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ আগামী বাজেটে রাখতে হবে। এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেটের ৭.৪ শতাংশ, জিডিপির ১.৩ শতাংশ। করোনা মহামারিতে মানুষের জীবন রক্ষা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে গিয়ে জীবিকার ওপর আঘাত এসেছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে সংগ্রাম করে চলছেন। এই সংগ্রামে তিনি বেশ সফলতাও পেয়েছেন। ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করেই বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার দারিদ্র্য বিমোচনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। ১২ বছরে বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছিল। ২০০৫ সালে দেশে দারিদ্র্যতার হার ছিল ৪০ শতাংশ ২০২১ সালে এই হার ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। কৃষিঋণে সুদের হার কমাতে হবে। শিক্ষিত-অশিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকাশক্তিগুলোকে সুসংহত করতে হবে। বীজ, সার, কৃষি যন্ত্রপাতির দাম কমানোসহ কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের ওপর জোর দিতে হবে।


