English Version
আপডেট : ২১ এপ্রিল, ২০২১ ১৪:০০

শামসু তার ছেলেকে খেলোয়াড় সাজিয়ে নিয়ে যান লন্ডনে

অনলাইন ডেস্ক
শামসু তার ছেলেকে খেলোয়াড় সাজিয়ে নিয়ে যান লন্ডনে

হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর মানব পাচার নিয়ে চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো। ‘শামসু তার ছেলেকে খেলোয়াড় সাজিয়ে নিয়ে গেছেন’ শিরোনামে ২০০২ সালের ২২ আগস্ট প্রকাশিত হয় এ প্রতিবেদন। ফুটবলকে ব্যবহার করে হুইপ শামসুল  হকের গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে থাকার তথ্য উঠে আসে প্রতিবেদনে। প্রথম আলোর সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম আবাহনীর সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক চৌধুরী তার ছেলে নাজমুল হক চৌধুরীকে (শারুন) খেলোয়াড় সাজিয়ে লন্ডন নিয়ে গিয়েছিলেন। পাশাপাশি হুইপ শামসুল হকের বিরুদ্ধে অন্তত ১১ জনকে আদম হিসেবে পাচার করার প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের গোপনে লন্ডন যাওয়া দলের তালিকায় ক্লাবের সদস্য সচিব শামসুল হক চৌধুরীর ছেলেও রয়েছে।

ছেলেকে বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে এই কর্মকর্তা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। না হয় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আবদুর রাজ্জাক হাওলাদার স্বাক্ষরিত সরকারি অনুমোদনপত্রে (জিও) নাজমুল হক চৌধুরীর নাম কেন ‘খেলোয়াড়’ হিসেবে দেখানো হলো? আদম পাচার কেলেঙ্কারি উদ্ঘাটনের জন্য পাঁচ সদস্যের চট্টগ্রাম আবাহনীর তদন্ত দলটির অনুসন্ধান এখনো অব্যাহত আছে। কমিটির সদস্যরা গতকাল রাতে (২০০২ সালের ২১ আগস্ট) ক্লাবের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের সঙ্গে দেখা করে আদম পাচারের অন্যতম নায়ক শামসুল হক চৌধুরীকে সদস্য সচিব পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানান। লন্ডনগামী ৩৮ জনের দলে অন্তত ১১ জনকে আদম হিসেবে পাচার করার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা হলেন- ঢাকার মাহাবুবুল আলম, গিয়াস উদ্দিন মিয়াজি, আনিসুর রহমান চৌধুরী, সাহাবুদ্দিন, চট্টগ্রামের এম এন শাকিল, আরিফ মাহমুদ, নূরুল আফসার মিন্টু, চাঁদপুরের শফিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জের বদরুল ইসলাম দৌজা প্রমুখ। তদন্ত কমিটি তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে রেখেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, আদম পাচারের অভিযোগ ছাড়াও ক্লাবের বিপুল অঙ্কের অর্থ কেলেঙ্কারির খবরও ফাঁস হয়েছে। আবাহনীর সদস্য সচিব শামসুল হক চৌধুরীর স্বাক্ষরে ব্যাংকে জমাকৃত ১ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৪০ হাজার টাকা জমা আছে। লিমিটেড কোম্পানির নিয়ম অনুসারে একক কোনো ব্যক্তি ব্যাংকে লেনদেন করতে পারেন না। এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, চট্টগ্রাম আবাহনীকে আনুষ্ঠানিকভাবে লিমিটেড কোম্পানি করা হয়েছে, নাকি কতিপয় কর্মকর্তার মিথ্যা প্রচারণা? উল্লেখ করা হয়েছে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে।