English Version
আপডেট : ১১ এপ্রিল, ২০২১ ২০:১০

কঠোর লকডাউনের খবরে ‘ঢাকা ছাড়ছে’ মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
কঠোর লকডাউনের খবরে ‘ঢাকা ছাড়ছে’ মানুষ

ঘরে থাকার জন্য লকডাউন নাকি ছুটে বাড়ি পালাবার জন্য লগডাউন! করোনা মহামারি মোকাবিলায় আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ খবর প্রচারের পর রাজধানী ছেড়ে ঘরমুখী হচ্ছে কর্মজীবী মানুষ। সরকারি ঘোষিত চলমান বিধিনিষেধের কারণে ব্ন্ধ রয়েছে আন্ত জেলার সড়ক যোগাযোগ। শুধুমাত্র সিটি করপোরেশন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলাচল করছে গণপরিবহন। এমনি পরিস্থিতিতে অনেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে রাতেও চালাচ্ছে ঢাকার বাইরের দু-একটি বাস। এমন সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

এ দিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার মুন্সগঞ্জের শিমুলিয়াঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড় রয়েছে। রবিবার (১১ এপ্রিল) থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপস্থিতি বেশি থাকলেও দুপুরের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গগামী মানুষের চাপ বাড়তে থাকে।   সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মার শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌ-রুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ফেরিতে করে নদী পারাপার হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকে ট্রলারে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন।

শিমুলিয়া ঘাট সূত্রে জানা গেছে, ঘাট এলাকায় তিন শতাধিক ব্যক্তিগত ও শতাধিক পণ্যবাহী যানবাহন অবস্থান করছে। এসব যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে নৌরুটে বর্তমান ১৪টি ফেরি সচল রয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক প্রফুল্ল চৌহান জানান, সকালের দিকে ১৫টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছিল। তবে দুপুর ১২টার দিকে একটি ফেরি বিকল হয়। বর্তমানে এ রুটে ১৪টি ফেরি চলছে। তিনি বলেন, লকডাউনের আশঙ্কায় যাত্রীরা বাড়ি ফিরছেন। ফলে লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ফেরিতে যাত্রীদের চাপ রয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর ভেতরে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা থাকার কারণে যানবাহনগুলো সরকারি আদেশ মেনে চললেও ঢাকার বাইরে চিত্র ভিন্ন। সরকারের নির্দেশে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর পরও গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। মহানগরে গণপরিবহন চলাচল করার কথা থাকলেও কিছু চালক বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় অধিক ভাড়ায় যাত্রী নিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাং রোড এলাকায় দেখা যায়, মানুষ নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বাস ও লেগুনাগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে ধাক্কাধাক্কি করে উঠছেন। দ্বিতীয় দফায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত এক সপ্তাহের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল সরকার। কিন্তু সেটি মানছে না সাধারণ মানুষ।

উল্লেখ্য,লকডাউনের ১১ এপ্রিল পাড় হবে আজ। আবার ১ সপ্তাহের লকডাউন জারি করেছে সরকার। এরই মাঝে সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা পেয়ে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই পাড়ি জমাচ্ছে নিজ নিজ জেলায় উপজেলায়। ঢাকা ছাড়ছে হাজারো মানুষ।