English Version
আপডেট : ১ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:২৯

করোনায় হাসপাতালগুলোতে তৈরি হয়েছে শয্যা সংকট

অনলাইন ডেস্ক
করোনায় হাসপাতালগুলোতে তৈরি হয়েছে শয্যা সংকট

দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ বাড়ায় হাসপাতালগুলোতে তৈরি হয়েছে শয্যা সংকট। নমুনা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভিড় বেড়েছে সক্ষমতার চেয়ে অনেকাংশে বেশি। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করেও কেউ কেউ দিতে পারছেন না নমুনা।

এদিকে হাসপাতালগুলোতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। ৩১ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে করোনা বিশেষায়িত ১০ সরকারি হাসপাতালে ২ হাজার ৫১১টি সাধারণ শয্যার মধ্যে খালি আছে মাত্র ২৬৫টি। আর ১০৮টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে খালি ৫টি।

এক মাস আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে হাসপাতালগুলোর ১৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ শয্যায় রোগী ভর্তি ছিল। বুধবার তা বেড়ে ৪০ শতাংশ হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যেখানে আইসিইউর ২৫ দশমিক ২৬ শতাংশ শয্যা পূর্ণ ছিল, ৩১ মার্চ তা বেড়ে হয়েছে ৬৫ শতাংশ।

এ অবস্থায় হাসপাতালে সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার দ্রুত জোরালো পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীর ডেমরার মো. রুবেল। ৫ দিন ধরে করোনা পরীক্ষা করার জন্য স্ত্রীসহ ঘুরছেন হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে। উপসর্গ থাকলেও তারা এখনো করাতে পারেননি পরীক্ষা।

এদিকে নমুনা পরীক্ষার বুথে লাইনেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। মুগদা- সোহরাওয়ার্দীসহ সরকারি হাসপাতালের বুথগুলোতে দেখা গেছে হাজার হাজার মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে। নমুনা দিতে আসা মানুষের চেয়ে হাসপাতালের পরীক্ষার সক্ষমতা কম হওয়ায় অনেককে ফিরতে হচ্ছে ব্যর্থ হয়ে।

এ অবস্থায় পরীক্ষার বুথ বাড়ানোর দাবি তাদের। এদিকে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মেনে চলার পরামর্শ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সম্প্রসারণ করে মহামারী নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিল সরকার। পরে করোনা রোগী কমে আসায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কয়েকটি হাসপাতালে কোভিড চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে ডিসেম্বরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয় দেশে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক শনাক্তের হার নেমে আসে তিন শতাংশের নিচে।

কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে সংক্রমণ আবার বাড়ছে দ্রুত গতিতে। বুধবার দেশে রেকর্ড ৫ হাজার ৩৫৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে আরো ৫২ জনের। এদিকে সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধিগুলো পরিপূর্ণভাবে মেনে চলার আহবান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। করোনার দ্বিতীয় ঢেউকে অশনি সংকেত হিসেবে অভিহিত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মোকাবিলায় সরকারি হাসপাতালে আড়াই হাজার শয্যা বাড়ানো হচ্ছে।