English Version
আপডেট : ১৬ মার্চ, ২০২১ ২০:৩২

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত দেশ

অনলাইন ডেস্ক
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত দেশ

মুজিব জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে প্রস্তুত সারা দেশ। এ উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের মহড়া হয়ে গেলো জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে। প্রায় ৫ হাজার দেশি-বিদেশি শিল্পীর অংশগ্রহণে হতে যাচ্ছে ১০ দিনের বর্ণাঢ্য আয়োজন।

আয়োজকরা বলছেন, বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরতেই এ আয়োজন। এদিকে, বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত করা হয়েছে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধও, নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা।

বর্ণাঢ্য এই আয়োজন মুজিব শতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী কে কেন্দ্র করে। ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ২৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে এ রকম বর্ণাঢ্য আয়োজন।

শিশু-কিশোরদের পরিবেশনের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী তুলে ধরার হবে বুধবার সন্ধ্যায়। এতে অংশ নিবেন বাংলাদেশী শিল্পীদের পাশাপাশি ভারতীয় শিল্পীরাও।

ভারতীয় সাংস্কৃতিক দলের প্রতিনিধি চন্দ্রোদয় ঘোষ বলেন, বাংলাদেশকে আমরা অভিন্ন মনে করি না ভারতবর্ষের থেকে। আমাদের ভাষা এক সমস্ত কিছু এক এবং মানুষ হিসাবে আমাদের পরিচিতি শিল্পী। আর শিল্পীর কখনো জাত হয়না, তার কোনো ধর্ম হয়না এবং তার কোনো বর্ণও হয়না।

উপমহাদেশের নৃত্যশিল্পী মমতা শংকর বলেন, নাচ-গান, বাজনা এসবের কোন ভেদাভেদ নেই। তবে প্রত্যেকের এক একটা আলাদা চরিত্র এবং সক্রিয় একটা বৈশিষ্ঠ্য থাকতে পারে কিন্তু কোথায় যেন সুর বা মনের ভাষাটা যেন এক।

দশ দিনের এই আয়োজনে প্রতিদিনই থাকবে ভিন্ন থিমের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রায় ৫০০০ শিল্পী অংশ নিচ্ছেন এই আয়োজনে।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর জানান, প্রতিদিনই কোনো না কোনো বিদেশী শিল্পীদের পরিবেশনা থাকবে। যেমন জাপানের অংশগ্রহণ থাকবে, নেপালের অংশগ্রহণ থাকবে, ভারতের থাকছে দুইদিন।

তাছাড়া ২৬ শে মার্চ পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি নতুন রাগ সৃষ্টি করেছেন এবং সেটি পরিবেশন করবেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানাবেন পাঁচ দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা। এ উপলক্ষে ধুয়েমুছে ও সাজিয়ে তোলা হয়েছে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে এর চারপাশ।

১৭, ২২ ও ২৬ মার্চ তারিখের আয়োজনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং ১৭, ১৯, ২২, ২৪ ও ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন।

প্যারেড গ্রাউন্ডের আয়োজনে ১৭ মার্চ সম্মানিত অতিথি হিসেবে থাকবেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ। এরপর ১৯ মার্চ শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে, ২২ মার্চ নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী, ২৪ মার্চ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং এবং ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যোগ দেবেন।

দশ দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানদের বক্তব্য ও ভিডিও বার্তা ছাড়াও বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনা থাকবে।

২৬ মার্চ বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার প্রধানের উপস্থিতিতে ‘বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধন হবে; যা পরে ঢাকাসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে প্রদর্শন করা হবে।