English Version
আপডেট : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২০:২২

ব্যাংকঋণ পরিশোধের সীমা ৬ মাস বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাংকঋণ পরিশোধের সীমা ৬ মাস বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

করোনা মহামারীর বিপর্যস্ত শিল্পোদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে ব্যাংকঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতার সময়সীমা ও ঋণ শ্রেণিকরণ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে গভর্নরকে চিঠি দিয়েছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন।

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরকে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আলমগীর কবির বলেছেন, কোভিড-১৯ প্রকোপের ফলে বিশ্বব্যাপী আকস্মিক মহামারি ও অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। আমরা এখনো জানি না, এ রোগের প্রাদুর্ভাব কখন শেষ হবে। এর বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে এবং এ বাস্তবতা মেনে নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ জরুরি অবস্থা থেকে উত্তরণ ও এর নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনার জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বহুবিধ আর্থিক পদক্ষেপ নিয়েছেন।  

বাংলাদেশ ব্যাংক বিআরপিডি ও ডিএফআইএম সার্কুলারের মাধ্যমে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঋণ শ্রেণিকরণ ও ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তফসিলি ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। বিদ্যমান সব মেয়াদি ঋণ/লিজ/অগ্রীমের বিপরীতে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রদেয় কিস্তিগুলো পরিশোধ না করলেও ঋণের শ্রেণিমান ১ জানুয়ারি ২০২০ যা ছিল তাই বহাল থাকবে। তবে কোনো ঋণমানের উন্নতি হলে তা যথাযথ নিয়মে শ্রেণিকরণ করা যাবে। এ পদক্ষেপের ফলে করোনায় বিধ্বস্ত অর্থনৈতিক মন্দা ব্যবসায়ীরা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছেন। দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে ঋণ পরিশোধে বাধ্যবাধকতার সময়সীমা ও ঋণ শ্রেণিকরণ চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত করলে দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতে মন্দাভাব কাটিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারবে।  

শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন দ্য চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, করোনা মহামারির কারণে বেশিরভাগ ব্যাংকঋণ নেওয়া শিল্পমালিক, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা শঙ্কার মধ্যে আছেন। তাদের দাবি আগামী জুন পর্যন্ত ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতার সময়সীমা ও ঋণ শ্রেণিকরণ বাড়ানো এবং নন ব্যাংকিং ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনের সুদের হার ব্যাংকের মতো নির্ধারণ করা। 

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম চেম্বার থেকেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দিয়েছি। যাতে আমরা বলেছি, বাংলাদেশ ব্যাংক সব তফসিলি ব্যাংকের ঋণের ওপর ৯ শতাংশ সুদ নির্ধারণ করেছে। কিন্তু নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের ওপর ১৩-১৫ শতাংশ হারে সুদ আরোপ করছে, যার ফলে ব্যবসায়ের ব্যয় বাড়ছে-যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সুদের উচ্চহার উদ্যোক্তাদের অতিরিক্ত ঝুঁকিতে ফেলে এবং শিল্পের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত করে। উক্ত নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুদের হার না কমালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না।