English Version
আপডেট : ২৯ জানুয়ারি, ২০২১ ০৭:৪৮

ঢাকা-দিল্লি পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠক আজ

অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা-দিল্লি পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠক আজ

পররাষ্ট্র সচিবদের নেতৃত্বে আজ শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ ও ভারত। নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে এ বৈঠকে অভিন্ন নদ-নদীর পানি বন্টন, সীমান্ত হত্যা, যোগাযোগ ও বাণিজ্যের মতো দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলো প্রাধান্য পাবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বৈঠকে অংশ নিতে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছে।

জানা গেছে, বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিবরা দু’দেশের আসন্ন প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের এজেন্ডা নির্ধারণে আলোচনা করবেন। আগামী ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য ঢাকা সফরের সময় দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, পররাষ্ট্র সচিব বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন।

কোভিড মহামারি মোকাবিলায় উপহার হিসেবে ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন ও কেনা ভ্যাকসিনের চালান পাঠানোয় পররাষ্ট্র সচিব ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের পক্ষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন ও বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আগামী মার্চ মাসে ঢাকা সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন গত বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবো। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকের পর যে যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল তা বাস্তবায়নের অগ্রগতিও আমর পর্যালোচনা করবো।’

পররাষ্ট্র সচিব আরো বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে মুজিব বর্ষ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে। বাংলাদেশ আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন করবে।

  পানি বন্টন ইস্যু প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক খবর শুনতে চায়। তিনি আরো বলেন, ‘তিস্তা ইস্যু’র সম্পর্কে এখন ভারতই সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা অবশ্যই এই ইস্যুও সমাধান চাই। আমরা জানি ভারতের বর্তমান সরকার ও রাজ্য সরকার এখনো তিস্তার ব্যাপারে সম্পূর্ণ মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি।’

গত ১৭ ডিসেম্বর দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তা পানি বন্টন নিয়ে শিগগিরই একটি অন্তবর্তী চুক্তিতে স্বাক্ষরের ওপর জোর দেন। ২০১১ সালে মোদি এই সমস্যা সমাধানে আন্তরিক প্রতিশ্রুতি ও অব্যহত প্রচেষ্টার কথা ব্যক্ত করার পর এ ব্যাপারে উভয় দেশ সরকার একমত হয়।

বৈঠকে উভয় প্রধানমন্ত্রী ছয়টি যৌথ নদী— মানু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতি, ধরলা ও দুধকুমারের পানি বন্টনের ওপর অন্তবর্তী চুক্তির কাঠামোর আশু প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।   পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হবে।

এই বৈঠকে দু’পক্ষের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের (এফওসি) আসন্ন সচিব পর্যায়ের বৈঠক ও ঢাকায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর নিয়েও আলোচনা হবে। পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন শনিবার ভারতের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া দিল্লিভিত্তিক রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গেও পররাষ্ট্র সচিবের সাক্ষাতের কথা রয়েছে।