বর্ণাঢ্য আয়োজন থাকবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিবশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে ১০ দিনব্যাপী জমকালো অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে সরকার। ঢাকায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আগামী ১৭ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত এসব অনুষ্ঠান হবে। এরমধ্যে বড় দুটি অনুষ্ঠান হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ১৭ মার্চ এবং স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। কারা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মাসখানেক আগে চূড়ান্তভাবে জানা যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আসার বিষয়টি দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ঠিক কবে আসবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
অনুষ্ঠান পরিকল্পনা সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ স্বাধীনতার স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত বিদেশি অতিথিকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এদের মধ্যে অন্যতম ১৯৭১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেডিসন স্কয়ারে বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য আয়োজিত ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর একমাত্র জীবিত শিল্পী নোবেল জয়ি বব ডিলান। বিদেশিদের মধ্যে যারা ঢাকায় আসতে পারবেন না, তাদের ভিডিও বার্তা সংগ্রহ করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রচার করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, অনুষ্ঠান আয়োজনে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠান আয়োজনের খসড়া পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন খুটিনাটি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার জন্য বৈঠক চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
গত বছরের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ছিল। এ কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী মুজিবশতবর্ষের উদ্বোধনসহ বড় অনুষ্ঠানগুলো হয়নি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান আয়োজনের ফলে করোনার ভীতি কাটিয়ে আবার মুখর হতে যাচ্ছে রাজধানী।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের সব জেলা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ১৭-২৬ মার্চ অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশনা পাঠাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ২০১৩ সাল থেকে এই দিনটিকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করছে সরকার। এর আগে ১৯৯৬ সালে প্রথমবার এই দিনটিকে জাতীয় শিশু দিবস ঘোষণা করা হয়। গত বছর মহান স্বাধীনতার স্থপতি এই নেতার জন্মশতবর্ষ স্মরণীয় করে রাখতে ‘মুজিবশতবর্ষ’ পালনের সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার। এদিকে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয়ে চলতি বছরের ২১ মার্চ পর্যন্ত স্বাধীনতার ৫০ বছর অর্থাৎ সুবর্ণজয়ন্তী পূর্ণ করছে বাংলাদেশ। এই দুই মাহেন্দ্রক্ষণের মাঝের সময় নিয়ে সাজানো হয়েছিল অনুষ্ঠান পরিকল্পনা।
আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী মুজিবশতবর্ষে বছরব্যাপী আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা ছিল ২০২০ সালের ১৭ মার্চ। এ আয়োজন চলত স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী চলতি বছরের ২৬ মার্চ পর্যন্ত। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী মুজিবশতবর্ষের উদ্বোধনসহ বড় অনুষ্ঠানগুলো হয়নি। এ কারণে মুজিবশতবর্ষের মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। ১০ দিনের বড় অনুষ্ঠান করে জাতির জনক এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে স্মরণীয় করে রাখতে চাইছে সরকার। এর বাইরে বছরব্যাপী মুজিববর্ষের অন্যান্য অনুষ্ঠানও পালিত হবে।


