English Version
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২০ ১৩:৫৭

ডিএসসিসির ৫ প্রকল্পে করোনার হানা

অনলাইন ডেস্ক
ডিএসসিসির ৫ প্রকল্পে করোনার হানা

করোনাভাইরাসের কারণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পাঁচ উন্নয়ন প্রকল্পে কাজের গতি কমেছে। প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে শুরু হলেও করোনার কারণে গত ছয় মাস তেমন কোনো কাজ করতে পারেননি ঠিকাদাররা। এতে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে কাজের গতি কমে গেলেও এখন পুরোদমে শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নকল্পে পাঁচটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এগুলো হলো—ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল্ড সম্প্রসারণ উন্নয়ন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন নব সংযুক্ত ডেমরা, মান্ডা, নাসিরাবাদ ও দক্ষিণগাঁও এলাকার সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসন নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়ন প্রকল্প।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (মেগা প্রকল্প) চলমান রয়েছে। ১ হাজার ২১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্পটি শুরু ২০১৬ সালের জুনে। ২০১৯ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পটির মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন ও ৫০০ কোটি টাকারও বেশি বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১৩১ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার রাস্তা, ২৫ দশমিক ৪০ কিলোমিটার ফুটপাত, ১৩০ দশমিক ১৬ কিলোমিটার ড্রেন, শান্তিনগর এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে ৯ দশমিক ২৭২ কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়ন, ১১ দশমিক ৪০২ কিলোমিটার ফুটপাত, ১১ দশমিক ৭২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ, ৩৮ হাজার ৯৮টি এলইডি বাতি স্থাপন, নতুন ৭ ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ ও ১৬টি সংস্কার, বাস বে, বাস স্টপেজ, বাম লেন, গার্ড রেল, গ্রিল ফেন্সিং, সড়কদ্বীপ বিউটিফিকেশন, ১৯টি পার্ক ও ১২টি খেলার মাঠ উন্নয়ন, ৪৭টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ১৭টির সংস্কার, ১৬টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন স্থাপন, দুটি আধুনিক জবাইখানা, তিনটি কবরস্থান উন্নয়ন, একটি শিশুপার্ক নির্মাণ, দুটি হাসপাতাল সংস্কার ও ১১টি ক্লিনার কলোনি নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি চলতি বছরের জুন পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ৫৭ শতাংশ।

এ ছাড়া ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মাতুয়াইল স্যানেটারি ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণসহ ভূমি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমান ল্যান্ডফিলের পার্শ্ববর্তী ৮২ একর জমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি হতে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি ৮৭ শতাংশ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আওতাধীন নব সংযুক্ত ডেমরা, মান্ডা, নাসিরাবাদ ও দক্ষিণগাঁও এলাকার সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প। এই প্রকল্পে ৫১৫ কোটি ৫৫ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ৮১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার রাস্তা, ৭ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ, ১২টি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ, ৬১ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও ১১৬ দশমিক ১৮ কিলোমিটার রাস্তায় এলইডি বাতি স্থাপন করা হবে। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হলেও এক বছর বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৭২ শতাংশ।

২৬৮ কোটি ৭৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় তিনটি আধুনিক কমিউনিটি সেন্টার ও দুটি সংস্কার করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। তবে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ।

৭৭৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনসহ নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২৪৩ দশমিক ৪২ কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন, ৫৮ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ, ২৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার ফুটপাত উন্নয়ন, ৫ দশমিক ২৩ কিলোমিটার মিডিয়ান নির্মাণ, ১৬৯ দশমকি ১০ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ এবং ৮৮ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার নর্দমা উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। গত জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৫৫ শতাংশ।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ মো. ইমদাদুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রধান প্রকৌশলী রেজাউর রহমানের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে নেওয়ার জন্য বলেন। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবেন। পরে প্রধান প্রকৌশলীকে মোবাইলে বারবার কল দিলেও ওনি রিসিভ করেননি। তবে এ বিষয়ে মেগা প্রকল্পের পরিচালক ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মুন্সী মো. আবুল হাসেম বলেন, করোনার কারণে ঠিকাদাররা কাজ করতে পারেননি। এরমধ্যে মেগা প্রকল্পে কিছু কাজ হলেও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পে কোনো কাজ হয়নি। ঠিকাদারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, করোনার কারণে সব কর্মী বাড়ি চলে যান। এ কারণে কাজ হয়নি। তবে এখন কাজ শুরু হয়েছে। আশা করি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব।