English Version
আপডেট : ১৭ মার্চ, ২০২০ ১৫:০০
সূত্র:

নির্দেশনা উপক্ষো, বিদেশফেরতরা ঘুরছেন হাটবাজারে

নির্দেশনা উপক্ষো, বিদেশফেরতরা ঘুরছেন হাটবাজারে

সমগ্র বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাস (কোভিট ১৯)। গত সোমবার দুপুর হতে ইউরোপ থেকে আসা সকল যাত্রীদের জন্য বাংলাদেশের দরজা বন্ধ ঘোষণা করা হলেও তার আগে অনেকেই এসেছেন বাংলাদেশে। বরগুনার বামনা উপজেলাও সম্প্রতি বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরত আসতে শুরু করেছেন প্রবাসীরা। 

গত সোমবার সন্ধ্যায় বামনা উপজেলা বিভিন্ন হাটবাজারে অনেক প্রবাসীকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। আবার কেউ কেউ দেশে এসে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ। বিদেশফেরতদের তথ্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে দিলেও প্রবাসফেরতরা মানছে না হোম কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, বামনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রবাসফেরতদের তথ্য পাওয়ার পর তাদের ফোন করে হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেন। অনেক প্রবাসী এর মধ্যে সশরীরে হাসপাতালে এসেছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরা অথচ তথ্য পাওয়ার পরে স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের বাড়িতে যাওয়ার কথা। তবে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি অস্বীকার করেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী জানান, আজ মঙ্গলবার সকালে সৌদিফেরত রুহিতা গ্রামের হালিম হাওলাদারের ছেলে আনোয়ার হাওলাদার নিজে বাড়ি থেকে হাসপাতালে এসে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে দেখা করেন। 

বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বিদেশফেরত কোনো ব্যক্তিকে হাসপাতালে আসতে বলা হয়নি। এদের তথ্য পাওয়া মাত্র তার বাড়িতে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা ছুটে যাচ্ছেন। তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং সার্বক্ষণিক তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিচ্ছেন। 

বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত দুজন মালেয়শিয়াফেরত প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তারা হলেন, উপজেলার দক্ষিন আমতলী গ্রামের আশ্রাব আলীর ছেলে মো. ইউনুস মিয়া ও দক্ষিণ গুদিঘাটা গ্রামের আ. আজিজ এর ছেলে রাজা মিয়া। এরা দুজনেই মালেয়শিয়া থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। 

বামনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা তথ্য রেজিস্ট্রার থেকে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরো সাতজন প্রবাস ফেরত রয়েছেন। তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেকের তথ্য সংগ্রহ করতে মেডিক্যাল টিম তাদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। প্রত্যেককে অন্তত ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। তবে এদের মধ্যে কেউ হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন না। এরা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ শওকাতুল আলম সগির জানান, বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরো ৬৩ জন বিদেশফেরতের তথ্য তিনি পেয়েছেন। তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। 

এদিকে সরকার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোচিং ও প্রাইভেট বন্ধ ঘোষণা করলেও উপজেলার অনেক স্থানে ১০-১২ জনের অধিক শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সুলতানা বলেন, আমরা নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি সম্প্রতি বিদেশফেরত কোনো ব্যক্তি ১৪ দিনের আগে হাটবাজারে যাওয়া দূরের কথা নিজের পরিবারের কারো সাথে থাকতে পারবে না। যদি কেউ এ নিয়ম মানতে রাজি না হয় তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের জানালে আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।