English Version
আপডেট : ৮ মার্চ, ২০২০ ১৪:৩৩
সূত্র:

ঢাকায় এসে তিনটি জিনিস দিয়ে যাবেন মোদি

ঢাকায় এসে তিনটি জিনিস দিয়ে যাবেন মোদি

ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে আগামী ১৭ মার্চ দুদিনের সফরে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুধু মুজিববর্ষের কারণে নয়, নানা কারণেই এই নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে যখন নাগরিকত্ব আইন এবং নাগরিকপঞ্জী নিয়ে ভারতের টালমাটাল অবস্থা চলছে এবং বাংলাদেশ এনিয়ে অস্বস্তিতে ভুগেছ, যখন সীমান্তে নানা রকম সহিংসতার ঘটনা ঘটছে এবং বাংলাদেশিদের আটক করা হচ্ছে বা হত্যা করা হচ্ছে এবং সর্বোপরি তিস্তার পানি চুক্তি নিয়ে অমিমাংসিত বিষয়গুলো ঝুলে আছে তখন মোদির সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, নরেন্দ্র মোদি এই সফর বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময় যে অস্থিরতার কালো মেঘ, সেই মেঘকে সরিয়ে দেবেন বলেই মনে করছেন ভারতের থিংক ট্যাংকরা। মোদি এই সফরে বাংলাদেশে এসে দুদেশের সম্পর্ককে আবার নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটা নতুন বার্তা দেবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। আর এ কারণেই নানা রকম শঙ্কা, আশঙ্কা সত্বেও বাংলাদেশে মোদির সফর নিয়ে আগ্রহ তৈরী হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, নরেন্দ্র মোদির সফর চূড়ান্ত করতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধণ শ্রিংলা বাংলাদেশে এসেছিলেন। বাংলাদেশে এসে তিনি যে বার্তাগুলো দিয়েছেন, তাতে মোদির সফরের ব্যাপারে একটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর মোদির সফরের কর্মসূচী এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য কাজ করছে। এই কাজ থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে মোদির সফর যে স্বস্তির আবহ দেবে তা বোঝা যাচ্ছে।

দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, মোদি বাংলাদেশ সফরে এসে আনুষ্ঠানিক ভাষণ দেবেন মুজিববের্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। সেই ভাষণে তিনি বাংলাদেশ- ভারত সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিতে পারেন। এটা নিয়েই পররাষ্ট্র দপ্তর কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

প্রথমত; নাগরিকত্ব আইন এবং নাগরিকপঞ্জী নিয়ে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশকে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেবেন। তিনি জানিয়ে দিতে পারেন এই আইন ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এই আইনের ফলে বাংলাদেশ কোনভাবে আক্রান্ত হবে না। এটাই হবে ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য।

দ্বিতীয়ত; বাংলাদেশ সরকারের যে নীতি এবং কর্মসূচী ও ভারত- বাংলাদেশ সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের যে অবস্থান তার প্রতি সংহতি জানাবেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেবেন যে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক অটুট এবং অব্যাহত থাকবে। এর ফলে দুদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের যে গুঞ্জন এবং অস্বস্তিগুলো রয়েছে সেগুলো কেটে যাবে বলে ধারণা করছে কূটনৈতিক মহল।

তৃতীয়ত; নরেন্দ্র মোদি তিস্তার পানি চুক্তিসহ বিভিন্ন নদীর পানিবন্টন চুক্তি নিয়ে যে অনিশ্চয়তা রয়েছে তা দূর করার জন্য তিনি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন। তার ঘোষণার পর স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এই চুক্তিগুলো হবে বলেও জানা গেছে। এছাড়াও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক অনেকগুলো বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় যেটা হলো; মোদির এই সফরে দুই দেশ অভিন্নভাবে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ মোকাবিলার জন্য যে প্রত্যয়, সেই প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করবে। ভারত- বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেকগুলো ইতিবাচক দিক স্বাক্ষরিত হবে বলে জানা গেছে।

ভারতের কূটনৈতিকরা বলছেন, মোদি একজন জাত রাজনীতিবিদ। তিনি ভালোমতোই অবগত আছেন দিল্লীর ঘটনা এবং নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বাংলাদেশে একটি ভারত বিরোধী মনোভাব তৈরী হয়েছে। সেই মনোভাব দূর করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন সেটাই নরেন্দ্র মোদি করবেন। এটা করার জন্য মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদানের চেয়ে ভালো কোন সুযোগ ছিল না। মুজিববর্ষের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত রাখার বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত রাখার একটি নতুন বার্তা দেবে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।