‘সব ব্যথা চেপে রেখে দেশের জন্য দিনরাত কাজ করছি’
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, জীবনের সব ব্যথা, সবকিছু মুখে চেপে রেখে আমি দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি শুধু একটা কারণে, আমি চাই দেশটা যেন এগিয়ে যায়। বাংলাদেশের মানুষ, মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনকারী মানুষ যেন বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলতে পারে। আমি কারো প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে চলি না বা প্রতিশোধ নিতেও যায়নি। যেখানে অন্যায় হয়েছে ন্যায় করার চেস্টা করেছি।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ জাতীয় সংসদের ৬ষ্ঠ অধিবেশনের সমাপনি বক্তব্য ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যখনই বাংলাদেশের মানুষ একটু সুখের মুখ দেখতে শুরু করল তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাকে নির্মমভাবে হত্যা করল। বাংলাদেশের মানুষ হারিয়েছে তাদের নেতাকে, আমরা হারিয়েছি আমি ও আমার বোন বাবাকে। শুধু আমরা না ১৫ আগস্টে আমরা যারা আপনজন হারিয়েছি, স্বজন হারা অনেকেই রয়েছেন। শুধু হত্যা করা হয়নি। খুনিদের বিচার পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি। বিচারের হাত থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সামরিক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, খুনিদের সবাই তো উৎসাহিত করেছেন। খালেদা জিয়া ভোট চুরি করে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন করে কর্ণেল রশিদকে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার আসনে বসায়। জেনারেল এরশাদ খুনি ফারুককে পার্টি করতে দেয়, ফ্রিডম পার্টি করে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দিয়েছিল।
সংসদ নেতা বলেন, কি যন্ত্রণা নিয়ে আছি। তারপরেও সব ব্যাথা সব কষ্ট সহ্য করে একটা জিনিসই শুধু চিন্তা করেছি, আমার বাবা দেশটা স্বাধীন করেছেন যে মানুষের জন্য, সেই সাধারণ মানুষের জীবনটা যেন সুন্দর হয়। সেজন্য নিজের জীবনের সব ব্যাথা সবকিছু মুখে চেপে রেখে আমি দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি শুধু একটা কারণে, আমি চাই দেশটা যেন এগিয়ে যায়। বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনকারী মানুষ যেন বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলতে পারে।
তিনি বলেন, আমি কারো প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে চলি না বা প্রতিশোধ নিতেও যায়নি। যেখানে অন্যায় হয়েছে ন্যায় করার চেস্টা করেছি। সেজন্য ১৯৭৫ সালের খুনিদের বিচার করেছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে সক্ষম হয়েছি। সন্ত্রাস দুর্নীতিবাজ মাদকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি চালিয়ে যাব। দেশটা যাতে সুন্দরভাবে গড়ে ওঠে তার জন্য সর্বাত্নক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ধর্ষকরা পশুরও অধম উল্লেখ করে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা শিশু-কিশোরীদের ধর্ষণ করে তারা মানুষ নামে পশু, এরা পশুরও অধম। তাদেরও তো মা-বোন-মেয়ে আছে। এমন জঘন্য চরিত্রের মানুষ কীভাবে হতে পারে? জঙ্গীবাদ-মাদক-ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। দেশবাসীও যেন এদের ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা করেন তার জন্য দেশবাসীর প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা এদের দেখলে ধরিয়ে দেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রমজান আসলেই অনেকে অনেক খেলার চেষ্টা করে। কেউ যেন গুজবে আতঙ্কে না পড়েন। আমরা এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।
তিনি বলেন, চীন থেকে যে সমস্ত কাঁচামাল আসছে সেগুলোর ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সর্তক। চীনে সৃষ্ট সমস্যার কারণে বিকল্প পথ খুঁজছি, তাই আতঙ্কের কিছু নেই।
মশার উপদ্রব নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে বলেন, আবার বর্ষা আসছে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে, বাড়িঘর পরিস্কার রাখতে হবে। প্রত্যেকের নিজ নিজ ঘরবাড়ি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, নিজ ঘরবাড়ি পরিস্কার রাখতে পারলে মশা থাকবে না। পরিস্কার না রাখতে পারলে মশা তো মুখে ঢুকবেই।
ব্যাংকে টাকা নেই বিরোধী দলীয় নেতার এমন বক্তব্যের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, আমাদের এই মুহুর্তে ব্যাংকে রিজার্ভ ৩২ বিলিয়নের উপরে, কাজেই চিন্তা নাই। ব্যাংকে টাকা রিজার্ভ রাখা হয় দুর্যোগকালীন সময়ে যেন অন্তত ৩ মাসের খাদ্য সংগ্রহ করা যায়। আমাদের যা আছে ৬ মাসের খাদ্য আনতে পারব, আরও বেশি খাদ্য আনতে পারব। টাকার কোন অসুবিধা নাই, সেটা বলতে পারি। এখন পর্যন্ত ১৮ বিলিয়ন রেমিটেন্স এসেছে। টাকা যদি নাই থাকে এই কাজ কিভাবে করছি। অনেক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েছি।
সংসদ নেতা বলেন, দেশে প্রচুর বিনিয়োগ হচ্ছে। বাংলাদেশে বিনেয়াগ করতে অনেকেই আসছে। বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জায়গা। বাংলাদেশ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে অনেক এগিয়ে গেছে।
বাংলাদেশ কিভাবে সিঙ্গাপুর, বিরোধী দলীয় নেতার এমন প্রশ্নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই এখন সিঙ্গাপুরের থেকে অর্থণৈতিকভাবে অনেক এগিয়ে আছি এটা দাবি করতে পারি। আমাদের অনেক বড় দেশ, সিঙ্গাপুর ছোট একটি দেশ, বিরোধী দল নেই, শৃঙ্খলার মধ্যে চলে, রাজনৈতিক পরিবেশ ভাল। আমাদের দেশে সন্ত্রাস অগ্নি সন্ত্রাস খুন খারাপি হয় অনেক কিছুই মোকাবেলা করতে হয়।
সংসদ নেতা বলেন, এরশাদের আমালে ১৯৮৮ সালে আমার ওপর হামলা হয়েছিল, সেখানে ২০ জন মারা যায়। খালেদা জিয়ার আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করা হয়।


