রাত পোহালেই ভোট
ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। আজ রাত পোহালেই আগামীকাল শনিবার ভোট। কাল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। এ নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নির্বাচন উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
গতকাল শেষ দিনের প্রচার চালিয়েছেন উত্তর সিটির আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম, বিএনপির তাবিথ আওয়াল এবং দক্ষিণ সিটির আওয়ামী লীগের ফজলে নূর তাপস ও বিএনপির ইশরাক হোসেনসহ অন্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ দুই সিটিতে রাজনৈতিক দলের ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবার সব কেন্দ্র ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা মিলে দায়িত্বে থাকছেন লক্ষাধিক সদস্য। ভোট নিয়ে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টা-পাল্টি বক্তব্য দিচ্ছেন। ইসি বলছে সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উত্তর সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তারা ও ইসির যুগ্ম সচিব মো. আবুল কাসেম এবং দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তারা ও যুগ্ম সচিব মো. আবদুল বাতেন জানান, নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, ভোটের ৩২ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (গতকাল) মধ্যরাত থেকে প্রচার বন্ধ। শুক্রবার (আজ) কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছে যাবে। তিনি বলেন, ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তায় বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো ভোটকেন্দ্রে আইনবহির্ভূত কর্মকান্ড হলেই সে কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক ইসরাইল হোসেন জানান, ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন উপলক্ষে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা যন্ত্রচালিত যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মহাসড়ক ছাড়াও আন্তঃজেলা ও মহানগরে প্রবেশ এবং বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক এবং প্রধান প্রধান সংযোগ সড়কে নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে।
কর্মকর্তা আরো জানান, ইসির অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শকের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। কিছু জরুরি কাজ যেমন- অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক ও টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য যানবাহন চলাচলে এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
প্রধান নির্বাচন কশিমনার কে এম নুরুল হুদা বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ ভালো রয়েছে। সব কিছু কমিশনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কোথাও থেকে কোনো আভিযোগ আমরা পাইনি। আওয়ামী লীগের জনসভা নিয়ে সিইসি বলেন বলেন, আজকে সভার বিষয়ে তারা (আওয়ামী লীগ) আগে আমাদের কিছু জানায়নি। পরে ওনারাই (বিএনপি) জানালেন জনসভা হচ্ছে। পরে চেক করে দেখলাম সভা হচ্ছে। সেটা নির্বাচন সংক্রান্ত জনসভা নয়, মুজিববর্ষের প্রস্তুতি নিয়ে সভা হচ্ছে। আমাদের কাছে তারা বলেনি, সেখানে নির্বাচন নিয়ে যদি কিছু না বলে তাতে নির্বাচনের কোড অব কনডাক্ট ভায়োলেট হবে কিনা তা আলাদাভাবে বলা নেই। তবে আমি মনে করি নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সভাটা তাদের করা উচিত হয়নি। আর করার দরকার হলে আমাদের অনুমতি বা পরামর্শ নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু তারা সেটি নেননি, আমরা জানি-ই না।
জানা গেছে, ভোটের দুই দিন আগে ৩০ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার দিনের জন্য দায়িত্ব পালন করছে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স। দুই সিটিতে আইনশৃঙ্খলায় থাকবে পুলিশ মোবাইল টিম ১২৯০ জন, পুলিশ স্ট্রাইকিং ৪৩০, পুলিশ রিজার্ভ ৫২০, র্যাব ১৪৩০ জন, বিজিবি ২২৫০, ভোটকেন্দ্র ফোর্স থাকবে ৪১ হাজার ৯৫৬ জন, মোট ৪৭ হাজার ৮৭৬ জন। এছাড়া নৌপুলিশ থাকবে বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে। এ নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি নিয়োগ করা হয়েছে। সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন করে ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন করে নিরাপত্তা সদস্য নিয়োজিত আছে।
এদিকে আগামীকাল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলোতে পাহারা বসানোর কথা বলেছেন বিএনপি নেতারা। কিন্তু কেন্দ্রে পাহারা বসানোর অধিকার তাদের কে দিয়েছে- এ প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম। গতকাল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন এইচ টি ইমাম।


