English Version
আপডেট : ৩১ জানুয়ারি, ২০২০ ১৪:০৯
সূত্র:

করোনাভাইরাস: চীন থেকে ফিরেছে ৫৫০০ নাগরিক

করোনাভাইরাস: চীন থেকে ফিরেছে ৫৫০০ নাগরিক

চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত মানুষের সংখ্যাও। এরমধ্যে করোনাভাইরাস চীনের বাইরে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বব্যাপী সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশও। চীনের এ ভাইরাস যাতে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে থার্মাল স্ক্যানার। তবে রোগটি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে অবরুদ্ধ চীনা নগরী উহানে আটকে পড়া ৩৪১ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট তাদের আনতে চীনের উদ্দেশে রওনা হবে। এ ছাড়া চীনফেরত যাত্রীদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে চীন ফেরত এক বাংলাদেশিকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরে তিনটি থার্মাল স্ক্যানার বসানো হয়েছে। একটি ভিআইপিদের বের হওয়ার পথে, আর দুটি সাধারণ যাত্রীদের জন্য উড়োজাহাজ থেকে ইমিগ্রেশনে যাওয়ার পথে। থার্মাল স্ক্যানার ও ইনফরমেশন কার্ডের মাধ্যমে স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। সাধারণত কারও শরীরের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকলেও থার্মাল স্ক্যানার সংকেত দেয়। সংকেত দিলে ওই যাত্রীকে পরীক্ষা করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এরপর ওই যাত্রীকে বিমানবন্দরে কোয়ারেন্টাইন রুমে রেখে পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হবে। বিমানবন্দরের কর্মকর্তা ও যাত্রীরাও সতর্কতার জন্য মাস্ক ব্যবহার করছেন।

আরও জানা গেছে, যেসব দেশে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে সেই দেশগুলো হচ্ছে- চীন, থাইল্যান্ড, জাপান, হংকং, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকা থেকে আসা যাত্রীরা স্ক্রিনিং না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দর থেকে বের হতে পারছেন। ইতোমধ্যে বিমানবন্দর দিয়ে চীন থেকে দেশে ফিরেছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার নাগরিক। যেসব নাগরিক ফিরেছেন তাদের বিমানবন্দরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর দেশে প্রবেশ করেছে। তাদের মধ্যে কারও জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, শ্বাসকষ্ট, ভাইরাসের কোন লক্ষণ পাওয়া যায়নি।

বিমানবন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, একজন মানুষের শরীরে করোনাভাইরাসের জীবাণু ১৪দিন অবস্থান করে। দেশের বাইরে থেকে যারাই আসবেন বিমানববন্দরে তাদের থার্মাল স্ক্যানার অতিক্রম করে ইমিগ্রেশনের ভেতরে আসতে হবে। কারোনা শরীরের তাপমাত্রা ১শ’ ডিগ্রির বেশি হলেই মনিটরে লাল সংকেত দেখাবে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার বিষয়টি শব্দ করে জানিয়ে দেবে স্ক্যানার।

তিনটি স্ক্যানার বসানোর পাশাপাশি, রাখা হয়েছে রোগ সংক্রামণ কেন্দ্র। সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছেন চিকিৎসকরা জানান তিনি।

এদিকে করোনোভাইরাস মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সারাদেশের হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলোতে আইসোলেশন ইউনিট খোলার নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রণালয়।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার তৌহিদ উল আহসান বলেন, ২১ তারিখ থেকে করোনাভাইরাসের বিষয়ে শাহজালালে প্রস্তুতি নেওয়া হয়। গত নয় দিনে শাহজালাল দিয়ে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার যাত্রী চীন থেকে এসেছে। প্রতিদিন প্রায় ছয় শতাধিক যাত্রী চীন থেকে বাংলাদেশে আসছে। প্রত্যেক যাত্রীকে থার্মাল স্ক্যানার ও ইনফরমেশন কার্ডের মাধ্যমে স্ক্রিনিং করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরের কর্মকর্তাসহ সকল যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যদি কোনো নাগরিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর আমাদের না জানায়, তাহলে সেটি দেশে মারাত্মক আকার ধারণ করবে। এরপরও শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

হটলাইন নম্বর দেয়ার পাশাপাশি ইনফরমেশন কার্ড, প্যাসেঞ্জার লোকেটর ফর্মের মাধ্যমে যাত্রীদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানান তিনি।

করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হেলথ ইমার্জেন্সি বিভাগের প্রধান মাইকেল রায়ান বলেন, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য পুরো বিশ্বকে এখন সতর্ক হওয়া দরকার, প্রস্তুত হওয়া দরকার।

চীনের প্রতিটি অঞ্চলে এ ভাইরাস (২০১৯-এনসিওভি) ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত চীনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৭৭১১ জন। মারা গেছে ১৭০ জন। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসে মালয়েশিয়ায় এক ভারতীয় যুবক মারা গেছেন।

এছাড়া ভারতে একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। চীনের হুয়ানজু প্রদেশ থেকে জ্বর নিয়ে আসা এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।