English Version
আপডেট : ২৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০৬:৩২
সূত্র:

নতুন ড্যাপে থাকবে ২৫ বিনোদন পার্ক

নতুন ড্যাপে থাকবে ২৫ বিনোদন পার্ক

রাজধানী ঢাকাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ২০ বছর (২০১৬-৩৫) মেয়াদি ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) প্রণয়ন করছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আবাসিক এলাকায় মিশ্র ব্যবহারকে প্রাধান্য দিয়ে খাল, জলাশয় ও নদী উদ্ধার এবং জোনভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো নতুন ড্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই ড্যাপে কোন কোন খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কি কি বিধিমালা মেনে চলতে হবে তা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন তুলে ধরা হচ্ছে প্রতিদিনের সংবাদে।

প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য একটা নির্দিষ্ট জায়গা থাকা প্রয়োজন। শহরে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র, ক্ষুদ্র এলাকার জলবায়ুর প্রভাব প্রশমন, নগরের বাস্তুসংস্থান পুনরুদ্ধার বা পুনরুজ্জীবন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের পানি ধারণের জন্য অস্থায়ী জলাধার, সর্বস্তরের মানুষের বিনোদনের স্থান ইত্যাদি কাজে ব্যবহার হতে পারে এমন এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ড্যাপে। প্রস্তাবিত নতুন ড্যাপে ২৫টি পার্ক করার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নগরজীবনে একটু বিশুদ্ধ নির্মল বাতাসের স্বাদ নিতে মানুষ ছুটে যায় বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল। সরকারি উদ্যোগে এখন আর বিনোদনকেন্দ্র গড়ে ওঠে না বললেই চলে। অথচ বিশ্বের প্রায় সব উন্নত শহরে এলাকাভিত্তিক রয়েছে বিনোদনকেন্দ্র। রয়েছে পরিবেশবান্ধব নানা ধরনের বিনোদনের জায়গা। আর এগুলো সম্ভব হয়েছে নগর সরকারব্যবস্থা থাকার ফলে। রাজধানীর সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের হাতে থাকলেও বিভিন্ন দফতরের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে না থাকায় পরিকল্পনামাফিক কাজ তারাও করতে পারে না।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, উন্নত শহরে করপোরেশনের হাতে নগর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও ওয়াসার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকে। এর পর স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে করপোরেশন সব ধরনের কাজ সম্পন্ন করে। ১৯৯০ সালে সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত নতুন করে কোনো পার্ক-উদ্যানের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়নি। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা শহর ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বড় আকারের উদ্যান ছাড়াও রাজধানীতে সিটি করপোরেশনের হিসাব মতে পার্ক রয়েছে ৪১টি। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণে ১৯টি, আর উত্তরে ২২টি পার্ক রয়েছে।

এ বিষয়ে ড্যাপ পিডি আশরাফুল ইসলাম বলেন, ব্রিটিশ আমলে ঢাকায় যতগুলো পার্ক ছিল, এখনো তা-ই রয়েছে। নতুন করে একটি পার্কও করা হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ঢাকায় জনসংখ্যা ছিল কয়েক লাখ। আর এখন প্রায় ৩ কোটি। দিন দিন আরো বাড়ছে।

তিনি আরো বলেন, শিশু-কিশোরদের মানসিক-শারীরিক বিকাশ ও সুস্থ বিনোদনের জন্য পার্ক জরুরি। সেজন্য প্রস্তাবিত নতুন ড্যাপে ২৫টি পার্ক করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ড্যাপ কার্যকর করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুন্দর একটি ঢাকা শহর দেখতে পারবে। প্রস্তাবিত পার্কগুলো হলো :

আঞ্চলিক পার্ক

নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পার্ক : নারায়ণগঞ্জ উপ-অঞ্চল-১ এর অন্তর্গত আলীরটেক ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী চরবক্তাবলী এবং গোপচর মৌজায় এই পার্কের অবস্থান।

সাভার আঞ্চলিক পার্ক : সাভার উপ-অঞ্চল-১ এর অন্তর্গত ইয়ারপুর ইউনিয়নের দিয়াখালি এবং তাজপুর মৌজায় এই পার্কের অবস্থান।

রূপগঞ্জ এবং কালীগঞ্জ আঞ্চলিক পার্র্ক : রূপগঞ্জ উপ-অঞ্চল-৫ এর অন্তর্গত কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমগাঁও, পূর্বগাঁও এবং ছাতিয়ান মৌজায় এই পার্কের অবস্থান।

কেরানীগঞ্জ আঞ্চলিক পার্র্ক : কেরানীগঞ্জ উপ-অঞ্চল-৩ এর অন্তর্গত রুহিতপুর ও কলাতিয়া ইউনিয়নের যথাক্রমে মুগারচর এবং চরচামারদাহা মৌজায় এই পার্কের অবস্থান।

গাজীপুর আঞ্চলিক পার্ক : গাজীপুর উপ-অঞ্চল-২ এর অন্তর্গত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড-০৫ এর সারুপাইতালি এবং সুরাবাড়ী মৌজায় এই পাকের্র অবস্থান।

জলকেন্দ্রিক পার্ক

গোড়ান চটবাড়ী পার্ক : ঢাকা কেন্দ্রীয় উপ-অঞ্চল-২ মিরপুর বেড়িবাঁধের পাশে গোড়ান চটবাড়ীতে এই পার্ক অবস্থিত।

শিয়ালবাড়ী (রূপনগর) পার্ক : ঢাকা কেন্দ্রীয় উপ-অঞ্চল-৪ এর অন্তর্গত ডিএনসিসি ওয়ার্ড-৬ এবং ওয়ার্ড-৭ এ এই পার্কটি অবস্থিত। এই খেলার মাঠ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ প্রণীত পরিকল্পনায় চিহ্নিত করা আছে।

কালশী-মাটিকাটা পার্ক : ঢাকা কেন্দ্রীয় উপ-অঞ্চল-২ এর অন্তর্গত মিরপুরের কালশী এবং মাটিকাটা এলাকায় মাটিকাটা রোডের পাশে এই পার্ক অবস্থিত।

আটিবাজার পার্ক : কেরানীগঞ্জ উপ-অঞ্চল-২ এর অন্তর্গত তারানগর ইউনিয়নের ঘাটা চরমৌজায় এই পার্কের অবস্থান।

হেমায়েতপুর পার্ক : সাভার উপ-অঞ্চল-৮ এর হেমায়েত পুরের জামুর মৌজায় এই পার্ক অবস্থিত।

গাবতলী পার্ক : ঢাকা কেন্দ্রীয় উপ-অঞ্চল-৯ এ গাবতলী বাস টার্মিনালের পাশে এই পার্ক অবস্থিত।

বাউনিয়া পার্ক : ঢাকা কেন্দ্রীয় উপ-অঞ্চল-২ এর বাউনিয়া মৌজায় (আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে) এই পার্ক অবস্থিত।

মিরেরগাঁও পার্ক : গাজীপুর উপ-অঞ্চল-১ এর মিরেরগাঁও এলাকায় যথাক্রমে নাওয়ার ভার্তা ও বিপ্রা ভার্তা এবং টেকিবারি মৌজায় এই পার্ক অবস্থিত।

বেগমপুর পার্ক : গাজীপুর উপ-অঞ্চল-২ এর বেগমপুর এলাকায় জয়ারটেক মৌজায় এই পার্ক অবস্থিত।

পাগলা পার্ক : নারায়ণগঞ্জ উপ-অঞ্চল-৫ এর পাগলা মৌজায় এই পার্ক অবস্থিত।

নাসিরাবাদ পার্ক : ঢাকাকেন্দ্রীয় উপ-অঞ্চল-১৫ এর গজারিয়া ও বালুধিতপুর মৌজায় এই পার্ক অবস্থিত।

বেরাইদ পার্ক : ঢাকা কেন্দ্রীয় উপ-অঞ্চল-৭ এর বেরাইদ মৌজায় অবস্থিত।

ইকোপার্ক

গাজীপুর ইকোপার্ক : গাজীপুরের ভাওয়ালবন এলাকায় এই পার্কের অবস্থান।

উত্তরখান ইকোপার্ক : ঢাকা কেন্দ্রীয় উপ-অঞ্চল-৩ এবং উপ-অঞ্চল-৭ এর অন্তর্গত উত্তরখানের স্নানঘাটা, তালনা, ভাতুরিয়া এবং ছোট পলাশিয়া মৌজায় এই পাকের্র অবস্থান।

সাঁতারকুল এবং নাসিরাবাদ ইকোপার্ক : ঢাকা কেন্দ্রীয় উপ-অঞ্চল-৭ এবং উপ-অঞ্চল-১৫ এর অন্তর্গত সাঁতারকুল, নাসিরাবাদ এবং ডেমরা ইউনিয়নে পার্কের অবস্থান।

অন্যান্য পার্ক

বাউনিয়া খেলার মাঠ : ঢাকা কেন্দ্রীয় উপ-অঞ্চল-৪ এর বাউনিয়া মৌজায় (কালশী এলাকায়) এই খেলার মাঠ অবস্থিত। এই খেলার মাঠ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ প্রণীত পরিকল্পনায় চিহ্নিত করা আছে।

সাভার বংশী পার্ক : সাভার উপ-অঞ্চল-৫ এর সাভার পৌরসভার দক্ষিণ দুয়ারিপুর মৌজায় এই পার্ক অবস্থিত।

সাভার পার্ক : সাভার উপ-অঞ্চল-৫ এর সাভার পৌরসভার বাড্ডা মৌজায় এই পার্ক অবস্থিত।

নারায়ণগঞ্জ পার্ক : নারায়ণগঞ্জ উপ-অঞ্চল-৩ এর নারায়ণগঞ্জ মৌজায় এই পার্ক দুটি অবস্থিত।

হাজারীবাগ ট্যানারি এলাকায় জীববৈচিত্র্য পুনঃস্থাপন : ঢাকা কেন্দ্রীয় উপ-অঞ্চল-১৬ এর গজমহল এবং শিবপুর মৌজায় (হাজারীবাগ এলাকায়) অবস্থিত।