English Version
আপডেট : ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০৭:০৮
সূত্র:

রাজস্বের ৩৬ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়

রাজস্বের ৩৬ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়

স্বল্পোন্নত দেশগুলো থেকে প্রতি বছর বিপুল অংকের অর্থ দেশের বাইরে পাচার হচ্ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আঙ্কটাড) প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে যে পরিমাণ রাজস্ব আহরণ হয়, তার ৩৬ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে পাচার হয়।

গতকাল বিশ্বব্যাপী প্রকাশ করা হয়েছে আঙ্কটাডের নিয়মিত প্রতিবেদন ‘দ্য লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রিজ রিপোর্ট’। বৈদেশিক অর্থায়নের বর্তমান প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি এর ওপর মোট ৪৭টি দেশের নির্ভরতা, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সেক্ষেত্রে করণীয় তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। আঙ্কটাডের পক্ষে বাংলাদেশের বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিডিপি) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।

রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব বাংলাদেশ আহরণ করে, তার ৩৬ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। পূর্ব আফ্রিকার দেশ মালাওয়িতেও একই হারে অর্থ পাচার হচ্ছে।

প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের ৮০ শতাংশই হয় আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ফাঁকির মাধ্যমে। বাকিটা অন্যান্য খাতে। উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার যাত্রায় বড় অংকের এ অর্থ পাচার অন্যতম বড় বাধা। এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশের অর্থনীতি তিন ধরনের ঘাটতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এগুলো হলো বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের মধ্যে ঘাটতি, সরকারের আয়-ব্যয়ে ঘাটতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি। এসব ঘাটতি মেটাতে বিদেশী সহায়তার প্রয়োজন আছে ও থাক্বে। তবে বৈদেশিক সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আবার বৈদেশিক সহায়তায় ক্রমেই অনুদানের তুলনায় ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। এ ধরনের সহায়তা বাজেটে কম আসছে। উন্নয়ন কর্মসূচিতে আসছে বেশি। এসব ঋণের প্রয়োজন আছে কিনা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তা পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন সাফল্যের তথ্যও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, এলডিসির অন্যান্য দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) কমছে। এ বাস্তবতার মধ্যেও সাতটি দেশ ৭ শতাংশের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ এ দেশগুলোর অন্যতম। ১৩ বছর ধরে চলতি হিসাব ধনাত্মক। বাংলাদেশের এ অবস্থানের পেছনে প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক সহায়তা অবদান রাখছে।

বৈদেশিক সহায়তানির্ভরতা প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে বিদেশী ঋণ দ্বিগুণ হয়েছে এলডিসির। এ ধরনের সহায়তানির্ভরতায় ১৩টি এলডিসি ঝুঁকিতে আছে। তবে বাংলাদেশের এ নির্ভরতা কম। বাংলাদেশের বিদেশী সহায়তা ২০ শতাংশের নিচে। যদিও বৈদেশিক সহায়তার মধ্যে অনুদানের তুলনায় ঋণের হার বাড়ছে। ২০১৫-১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী মোট বিদেশী সহায়তার মধ্যে ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৬৫ শতাংশ। আগের বছরগুলোয় এ হার ছিল ৪৫ শতাংশের ঘরে।