আবরার হত্যার ২৪ আসামির সবাই ছাত্রলীগের
বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক ও বর্তমান ২৪ জন ছাত্রকে আসামি করে চার্জশিট চূড়ান্ত করেছে পুলিশ। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট আগামী সপ্তাহে আদালতে দাখিল করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইতিমধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক (দক্ষিণ) মো. ওয়াহিদুজ্জামান মামলার তদন্ত শেষ করেছেন। মামলার আসামিদের প্রায় সবাই বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা, কর্মী ও সমার্থক। ঘটনার পর তাদেরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। বুয়েটও আসামিদের বহিষ্কার করেছে।
জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট জমা দেওয়ার আগে তদন্ত তদারকি কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর অনুমতি নিতে চান। আইজিপি বুধবার সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরছেন। তিনি চার্জশিট সম্পর্কে অবহিত হয়ে অনুমতি দিলে আগামী সপ্তাহের যে কোনো দিন আদালতে জমা দেওয়া হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও ১৭তম ব্যাচের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের আবরার হত্যায় সাক্ষী ও আসামিদের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে। এই মামলায় ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা সবাই কারাগারে আছেন। এছাড়া তিনজন পলাতক।
চার্জশিটভুক্ত ২৪ আসামি হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, মো. অনীক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মো. মাজেদুর রহমান, মো. তানভীর আহম্মেদ, মো. মোজাহিদুর, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. জিসান, মো. আকাশ, মো. শামীম বিল্লাহ, মো. শাদাত, মো. তানিম, মো. মোর্শেদ, মো. মোয়াজ, মুনতাসির আল জেমি, ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না, অমিত সাহা, মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাহাত ও এস এম মাহমুদ সেতু। আসামিদের মধ্যে রাসেল বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক, ফুয়াদ সহসভাপতি, অনীক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, রবিন সাংগঠনিক সম্পাদক, সকাল উপ-সমাজসেবা সম্পাদক, মনির সাহিত্য সম্পাদক, জিয়ন ক্রীড়া সম্পাদক, রাফিদ উপদফতর সম্পাদক, অমিত সাহা উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং তানিম, মুজাহিদুর ও জেমি সদস্য।
আবরার হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত তিন আসামি মো. জিসান, মো. মোর্শেদ ও মো. তানিমকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি ডিবি পুলিশ। তবে এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া ২১ জনের মধ্যে ১৬ জন এজাহারভুক্ত।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হচ্ছে আবরার ফাহাদ শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, এই সন্দেহেই তাকে শায়েস্তা করার সিদ্ধান্ত নেন বুয়েট ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করেই তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়। ঘটনার আগে এই হত্যাকান্ডে র সঙ্গে জড়িতরা পরিকল্পনা করেন আবরারকে শায়েস্তা করার। ঘটনার আগে তারা একটি মিটিংও করেন। এর আগে বুয়েট ছাত্রলীগের এক নেতা ফেসবুক গ্রুপে আবরারকে শায়েস্তা করার ঘোষণা দেন। এতে অনেকেই সায় দেন।
৬ অক্টোবর শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে এনে আবরারকে মারধর করা হয়। তাকে কিল-ঘুষি মেরে, স্কিপিং দড়ি দিয়ে ও ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে বেধড়ক পেটান হত্যাকারীরা। মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে পেটানো হয়। পানি পানি বলে চিৎকার করলেও তাকে পানি খেতে দেওয়া হয়নি। তিনি কয়েকবার বমিও করেন। কিন্তু তার চিকিৎসার ব্যবস্থা কেউ করেননি। একপর্যায়ে আবরার মারা যাওয়ার পর তাকে ধরাধরি করে দোতলার সিঁড়ির ওপর ফেলে রাখেন হত্যাকারীরা।
গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন নিহতের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একাধিক ভিডিও ফুটেজও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা সবাই বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তাদেরকে বুয়েট এবং ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।


