English Version
আপডেট : ৪ নভেম্বর, ২০১৯ ১৪:১৬
সূত্র:

যেসব কারণে সরিয়ে দেয়া হলো এসপি হারুনকে

যেসব কারণে সরিয়ে দেয়া হলো এসপি হারুনকে

বিভিন্ন সময় ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদকে নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে নানা কথা। গতকাল প্রভাবশালী এই পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করার পর নারায়ণগঞ্জে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। হারুনের বিদায়ে নারায়ণগঞ্জে অনেকেই ব্যাপক খুশি ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও কেউ কেউ তার বদলিতে মনঃক্ষুণ্নও হয়েছেন। স্থানীয়দের তথ্য মতে, এসপি হারুনের বদলিতে সবচেয়ে খুশি প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবার ও তাদের অনুসারীরা।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাধর সংসদ সদস্য (এমপি) শামীম ওসমানের সঙ্গে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য দ্বন্দ্ব ও বিরোধপূর্ণ বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে আলোচিত হন এসপি হারুন। ক্ষমতাধর এমপি এবং প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তার প্রকাশ্য বিরোধের কারণে নারায়ণগঞ্জে এসপি হারুনকে ‘বাংলার সিংঘাম’ বলেও প্রচার করা হয়েছিল। প্রথমদিকে হারুন নারায়ণগঞ্জের বিতর্কিত ক্ষমতাধর বেশকিছু রাজনৈতিক নেতাকে ‘কুপকাত’ করায় সাধারণ মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এমপি শামীম ওসমানও এক পর্যায়ে এসপি হারুনের সঙ্গে সমঝোতা করতে বাধ্য হন বলেও শোনা যায়।

তবে সম্প্রতি কিছুদিন ধরে নারায়ণগঞ্জকেন্দ্রিক বেশকিছু শিল্প বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে চাঁদাবাজিসহ নানা তৎপরতা চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না পেলেই ওইসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ীকে নাজেহাল করা হতো বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যানের ছেলে আম্বার গ্রুপের কর্ণধার শওকত আজিজ রাসেলের কাছেও আট কোটি টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন বলেও এই ব্যবসায়ী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেন। সেই টাকা না দেওয়ায় গুলশানে রাসেলের বাসায় গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তার স্ত্রী-পুত্রকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় নারায়ণগঞ্জে।

জানা গেছে, ২০১১ সালে ঢাকায় তৎকালীন বিএনপির এমপি জয়নাল আবেদিন ফারুককে পেটানোর মধ্য দিয়ে আলোচিত হন ওই সময়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এডিসি হিসেবে কর্মরত হারুন। এরপর তার পদোন্নতি হলে ডিএমপির ডিসি, পরে গাজীপুরের পুলিশ সুপার থেকে সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়কালে হারুনের বিরুদ্ধে নানা অভযোগ ওঠে। তার বিরুদ্ধে ‘অবৈধভাবে’ বিপুল অর্থ আয়, জমি দখল ও প্রভাব বিস্তারসহ নানা অভিযোগ শোনা গেলেও কোনো অভিযোগেই তার কিছুই হয়নি। বরং বরাবরই প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবেই নিজ বাহিনীতেও ভালো অবস্থান পান তিনি।

নিউজ বাংলাদেশ ডটকম নামে একটি অনলাইন নিউজপোর্টালের সংবাদের সূত্র মতে, ‘পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাশেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলের প্রতিষ্ঠান আম্বার ডেনিমের কাছে ৮ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন এসপি হারুন। দাবি করা টাকা না দেওয়ায় গত শুক্রবার রাতে বাসায় ঢুকে আম্বার গ্রুপের কর্ণধার শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ও পুত্রকে তুলে নিয়ে যান নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশীদ।

এছাড়া ঢাকা ক্লাব থেকে তার ব্যক্তিগত গাড়িটিও জব্দ করে নিয়ে গেছেন এসপি হারুন। সেই গাড়ি থেকেই পরে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করান এসপি হারুন।’ ব্যবসায়ী রাসেলের স্ত্রী ও পুত্রকে নিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করা হয়েছে ওই নিউজপোর্টালে। গুলশান ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী রাসেল সেখানে আরও অভিযোগ করেন, তার কাছে দীর্ঘদিন ধরেই চাঁদা দাবি করে আসছেন এসপি হারুন।

গত ৩ মে সন্ধ্যায় এসআই আজহারুল ইসলামের মাধ্যমে এসপি হারুন আম্বার ডেনিমের স্টোর ম্যানেজার ইয়াহইয়া বাবুর কাছে প্রথমে মোবাইলে এই চাঁদা দাবি করেন। সে সময় আজহার বলেন, এসপি হারুন সাহেব এইমাত্র আমাকে ফোন করেছেন। উনি বলেছেন, আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যানের লোকজনকে ডাকাও। আমার টাকা লাগবে। তাড়াতাড়ি ৮ কোটি টাকা পাঠাও। এরপর গত ৫ মে হারুনের বিরুদ্ধে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন শওকত আজিজ রাসেল। তবে এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য এসপি হারুন, ঢাকার রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এসপি হারুনকে বদলি : রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদকে পুলিশ অধিদফতরের পুলিশ সুপার (টিআর) পদে বদলি/পদায়ন করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।