English Version
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৬:১৮
সূত্র:

রিজার্ভ মানি যথেষ্ট আছে, অরো দুটি বিমান কিনবো: প্রধানমন্ত্রী

রিজার্ভ মানি যথেষ্ট আছে, অরো দুটি বিমান কিনবো: প্রধানমন্ত্রী

‘আমরা তিনটা ৭৭৭-৩০০ ইআর বিমান এনেছি। ৭৮৭-৮ এনেছি চারটা। ড্যাশ বোম্বার্ডিয়ার আসছে আরও তিনটা। আমরা খবর পেয়েছি বোয়িং আরো দুটি বিমান বিক্রি করবে। এখন পর্যন্ত কেউ অর্ডার দেয়নি। সুযোগটা আমরা নেবো। আমাদের রিজার্ভ মানি যথেষ্ট ভালো অবস্থায় আছে। আমার মনে হয় কোনও সমস্যা হবে না।’

মঙ্গলবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দুটো কার্গো বিমান কিনবো, কার্গো ভিলেজ করে দেবো। রফতানি বাড়ানোর জন্য সব পদক্ষেপ নেবো। বাংলাদেশকে উন্নত দেশ করতে আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। কক্সবাজার, সিলেট, রাজশাহী, বরিশালসহ সব বিমানবন্দর আরও উন্নত করার কাজ করছি।’

বিএনপির আমেলে বিমানের অবস্থা মুড়ির টিনের মতো ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগে ঢাকায় একধরনের ঝরঝরা বাস চলত। আমরা এই বাসগুলোকে বলতাম মুড়ির টিন। বিএনপির আমলে বিমানের অবস্থাও এই মুড়ির টিনের মতো ছিল।

তিনি বলেন, ওই সময় আমি বিরোধী দলে ছিলাম। খুব বেশি করার ক্ষমতা আমার ছিল না। বিদেশ যাওয়ার সময় বিমান ব্যবহার করতাম। তখন দেখতাম বিমানগুলো ছিল ঝরঝরা। ছাদ ফুটো ছিল, পানি পড়ত। টিস্যু গুঁজে দিয়ে পানি পড়া থামানো হতো। এখন সেই অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে।

বিমানের উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি সাড়ে তিনবছর মাত্র সময় পেয়েছিলেন। তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে গুছিয়ে আনতে শুরু করেছিলেন। আজকে বিমানের যে লোগো সেটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জয়নুল আবেদীনসহ শিল্পীদের নিয়ে কমিটি করে দিয়েছিলেন। সেখানেই লোগো চূড়ান্ত করা হয়। মাঝে মাঝে আমি অবাক হয়ে যাই, এত অল্প সময়ের মধ্যে তিনি কীভাবে এক অগ্রগতি অর্জন করলেন।’

ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী ড্রিমলাইনার রাজহংসের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এরপর তিনি কেক কাটেন।

এর আগে শনিবার ঢাকায় এসে পৌঁছায় ‘রাজহংস’। ওই দিন সকালে উদ্বোধনের কথা থাকলে রাজহংস দেরিতে আসার কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। পরে আজ উদ্বোধনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও সবশেষ ‘রাজহংস’ আসায় চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ বিমানবহরে যোগ হলো। এর মধ্য দিয়ে সম্পাদিত চুক্তির ১০টি উড়োজাহাজের সবই বুঝে পেল বিমান।

বিমানের ১০টি বোয়িংয়ের মধ্যে আকাশবীণা, হংসবলাকা, গাঙচিল ও রাজহংস নামে চারটি ড্রিমলাইনারের নাম পছন্দ ও বাছাই করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ, রাঙা প্রভাত নামে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর এবং মেঘদূত ও ময়ূরপঙ্খী নামে দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ নামও দেন প্রধানমন্ত্রী।