ডেঙ্গু শনাক্তকরণ: ১শ’ টাকার কিট ৩শ’ টাকায় বিক্রি
দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু। হাসপাতালগুলোয় ডেঙ্গু রোগীর উপচে পড়া ভিড়। সাধারণ মানুষ একটু জ্বর অনুভব করলেই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে ভিড় করছেন হাসপাতালগুলোতে।
এমন অবস্থায় বাজারে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট ও রিএজেন্টের সংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানীর দু-একটি দোকানে কিট পাওয়া গেলেও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।
৮০-১০০ টাকার কিট ৩০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার নির্ধারিত মূল্যের বেশি টাকায় কিট বিক্রি করায় একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।
সরেজমিন রাজধানীর তোপখানা রোডে মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল ইকুইপমেন্ট মার্কেট ঘুরে ও বিক্রিতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মার্কেটে কিট ও রিএজেন্ট যা ছিল, তা ১০ দিনে বিক্রি হয়ে গেছে। তবে দু-একটি দোকানে লুকিয়ে চড়া মূল্যে কিট বিক্রি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।
জানতে চাইলে মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল ইকুইপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিব জাহিদ যুগান্তরকে বলেন, বাজারে এখন রিএজেন্ট নেই। কিট যা-ও আছে, তা আজ-কালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। নতুন করে এসব পণ্য আমদানি করছে আমদানিকারকরা। তবে ভ্যাট-ট্যাক্সের কারণে আমদানিকারকরা বিচ্ছিন্নভাবে অল্প পরিমাণে আনার চেষ্টা করছেন, যা আসতে আরও কয়েকদিন লাগবে।
তিনি আরও বলেন, বাজারে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। মাইক দিয়ে বারবার বলা হচ্ছে, যাতে কেউ বেশি দাম না রাখে। আমাদের কাছে প্রমাণসহ এলে আমরা এর ব্যবস্থা নেব। কারণ দেশে এখন ডেঙ্গু মহামারী পর্যায়ে রয়েছে।
হাবিব জাহিদ বলেন, সরকার যদি এ পণ্য দুটি আমদানিতে ভ্যাট-ট্যাক্স ছাড় দেয়, তাহলে এই পণ্য দেশের বাজারে আনতে কোনো ধরনের ঝামেলা পোহাতে হবে না। আর বাজারে সরবরাহ থাকলে দাম তুলনামূলক আরও কমে আসবে। এতে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যয় আরও কমে যাবে বলে আমি আশা করি।
এদিকে অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে ২০-৩০ হাজার পিস কিট ও রিএজেন্টের চাহিদা রয়েছে। আর গত ১০ দিনে এই চাহিদা ২-৩ লাখে এসে ঠেকেছে। যার কারণে বাজারে ১০ দিনের মাথায় এ দুই পণ্য বিক্রি শেষ হয়ে গেছে।
তোপখানা রোডে মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল ইকুইপমেন্ট মার্কেটের সার্জিক্যাল হাউসের মালিক মো. আমিন যুগান্তরকে বলেন, হাতেগোনা দু-একটি দোকানে এখন কিট পাওয়া যাচ্ছে, যা আজকের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। ১০ দিনে কিট ২০০-২৫০ টাকায়, কেউ কেউ ৩০০ টাকায় বিক্রি করেছে।
একই মার্কেটের আইবিএম হেলথের মালিক সাজিদ মামুন যুগান্তরকে বলেন, বাজারে এ দুটি পণ্য নেই। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লোকজন এসে ঘুরে যাচ্ছেন। সরবরাহ না থাকায় বিক্রেতারা বিক্রি করতে পারছে না। তিনি জানান, তবে কয়েকটি দোকানে আছে, যারা স্টক করে বেশি দামে বিক্রি করে মুনাফা লুটছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার এই মার্কেটে অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের বিশেষ তদারকি সেল। সেলের সদস্যরা বেশি দামে কিট বিক্রির প্রমাণ পেয়েছেন। মার্কেটের মোস্তফা সার্জিক্যালে ৮০ টাকার প্রতি পিস কিট বিক্রি হচ্ছিল ১২০-১৩০ টাকায়। নির্ধারিত মূল্যের বেশি টাকায় বিক্রি করায় এ প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধিদফতরের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, বাজারে কিট ও রিএজেন্টের সংকট দেখা দিয়েছে। এ সুযোগে একশ্রেণির অসাধু বিক্রেতা স্টক করে কিট বেশি দামে বিক্রি করছে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ ছিল ২৫০-৩০০ টাকায় কিট বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তার স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে রাজধানীর একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদেরও অনেক বেশি দামে কিট ও রিএজেন্ট কিনতে হয়েছে। মোহাম্মদপুর ইনসাফ জেনারেল হাসপাতালের অফিস সহকারী ডলি আক্তার যুগান্তরকে বলেন, বাজারে কিট ও রিএজেন্ট নেই। যে সংখ্যক কিট ও রিএজেন্ট কিনে রাখা হয়েছিল, সেগুলো দিয়ে টেস্ট করানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ৮০-১২০ টাকার কিট ৩০০-৩৫০ টাকা দিয়েও কিনতে হয়েছে। সুযোগ বুঝে দেশের এই খারাপ সময়ে একশ্রেণির অসাধু বিক্রেতা এই কিটের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।


