English Version
আপডেট : ৮ জুলাই, ২০১৯ ১১:৪৭
সূত্র:

'ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি'

'ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি'

ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি দাবি করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি।

“ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের বাইরে এখনও যায়নি এবং খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কমে আসবে। এটাতে (ডেঙ্গু) আতঙ্কিত হবার মতো কোনোই কারণ নেই এবং আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়নি।

রবিবার (০৭ জুলাই) সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মশক নিধন সংক্রান্ত এক সভায় তিনি এ দাবি ও মতামত দেন।

মেয়র বলেন, মশক নিধনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সেমিনার, ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। সচেতনতা বাড়াতে মসজিদে খুতবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চিঠি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এছাড়া টিভি, পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, ডিজিটাল প্রচারণার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জনমনে সচেতনতা বাড়াতে এরইমধ্যে প্রতিটি এলাকা থেকে মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের সাতজন করে নাগরিক নিয়ে ২৮ জনের ‘কমিউনিটি অ্যাম্বাসেডর’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো সমস্যা হলে তা সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ছে।

তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, এবার ডেঙ্গু আগের চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক হয়ে এসেছে। দ্রুত হাসপাতালে না আনলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এল ই ফাতমী বলেছেন, এবার যে ধরনের রোগী আসছে তাদের মধ্যে ডেঙ্গু হেমোরেজিক এবং শক সিনড্রোম বেশি পাচ্ছেন তারা।

ডেঙ্গুসহ বর্ষা মৌসুমে যেসব রোগ বেশি হয় সেগুলোর চিকিৎসা দিতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার সব ওয়ার্ডে আগামী ১৫ জুলাই থেকে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম নামানো হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র খোকন।

তিনি বলেন, “১৫ জুলাই থেকে ৪৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পাড়া-মহল্লাভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে অবস্থান নেবে। তার আগে এলাকাবাসীদের জানিয়ে দেওয়া হবে যদি কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকে বা ডেঙ্গু না হলেও যদি ঠাণ্ডা, কাশি, জ্বরসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন পড়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার মোবাইল টিম থেকে স্বাস্থ্যকর্মী ও ডাক্তাররা বিনামূল্যে তাদের চিকিৎসা দেবেন এবং ওষুধ সরবরাহ করবেন।

“ওই টিম কোনো রোগীকে হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন মনে করলে মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, শিশু হাসপাতালসহ নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করানো হবে এবং চিকিৎসার ব্যয় দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বহন করবে।”

১৫ জুলাই একটি হটলাইন চালু করা হবে জানিয়ে খোকন বলেন, মেডিকেল টিমে গিয়ে কেউ চিকিৎসা নিতে না পারলে হট লাইনে ফোন করলেই স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকরা বাসায় চলে যাবেন।