English Version
আপডেট : ২১ মার্চ, ২০১৯ ১৫:৫২
সূত্র:

ফের রাস্তায় শিক্ষার্থীদের একাংশ

ফের রাস্তায় শিক্ষার্থীদের একাংশ

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মেয়রের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করলেও আরেকটি অংশ ফের সড়কে নেমেছে। বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর নদ্দায় প্রগতি সরণিতে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এআইইউবি) অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী প্রগতি সরণিতে বসুন্ধরা গেইটে জড়ো হলে পুলিশ তাদের চলে যেতে অনুরোধ করে। পুলিশের সঙ্গে কিছু সময় আলোচনার পর যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে রাস্তার পাশে মানববন্ধনে দাঁড়ায় শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা।

এ সময় তারা বলেন, বুধবার মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকের পর একটি অংশ আন্দোলন স্থগিত করলেও তারা এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। তারা বলেন, গত ৯ মাস আগে যে আন্দোলন হয়েছিল, বিভিন্ন আশ্বাসে সে আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু তার কোনটিই বাস্তবায়ন হয়নি। তাই আমরা আশ্বাসে নয়, বাস্তবায়ন দেখতে চাই। আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর জন্য দায়ী বাসচালকের মৃত্যুদণ্ড এবং সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। আমাদের দাবিগুলোর বাস্তবায়ন হলেই রাজপথ ছেড়ে দেবো।

ঢাকা মহানগর পুলিশের বাড্ডা জোনের এডিসি আহমেদ হুমায়ূন বলেন, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করছে। আমরা কোনো বাধা দিচ্ছি না।

বসুন্ধরা গেইটের ওই জায়গাতেই গত মঙ্গলবার সকালে আবরার আহমেদ চৌধুরী নামে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এক ছাত্র নিহত হন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে সারাদিন সড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন। বুধবারও ওই এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ধানমণ্ডি, বাড্ডা নও মহাখালীসহ বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।

পরে বিকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে দাবি পূরণে সাত দিনের সময় দিয়ে আন্দোলন এক সপ্তাহ স্থগিতের ঘোষণা দেন বিইউপির শিক্ষার্থীরা। তাদের ওই ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিআরটিএ’র এক চিঠিতে সুপ্রভাত জাবালে নূর পরিবহনের সব বাস ও মিনিবাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা জানায় বিআরটিএ। গত বছর জুলাইয়ে ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূরের বাসচাপায় দুই কলেজছাত্র নিহত হওয়ার পর ঢাকার রাস্তায় নেমে এসেছিল স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। টানা কয়েকদিন তাদের আন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছিল ঢাকা। এখন এই দুই পরিবহনের সব বাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সেগুলোর কাগজপত্র যাচাইয়েরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআরটিএ।