English Version
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১১:৫৫
সূত্র:

কর্মব্যস্ত রাজধানী এখন অনেকটাই ফাঁকা

কর্মব্যস্ত রাজধানী এখন অনেকটাই ফাঁকা

রাত পোহালেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। এদিন সরকারি ছুটি থাকায় অনেকেই টানা তিনদিনের ছুটি পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলে গেছেন গ্রামের বাড়িতে। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় ফাঁকা হয়ে গেছে রাজধানী। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে অনেকেই গ্রামে ফিরে যাওয়ার কর্মব্যস্ত রাজধানীজুড়ে অনেকটা ঈদের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।   ভোট দেওয়ার জন্য শনিবারও রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ। এর প্রভাব দেখা গেছে রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও রেলওয়ে স্টেশনে।

শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে কমলাপুর রেল স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় কিছুটা কম লক্ষ করা গেছে। কাউন্টারগুলোর সামনে মানুষের ভিড় কম। অন্যদিকে কমলাপুর স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে কয়েকদিন আগেই ট্রেনের নির্ধারিত আসনের টিকিট বিক্রি শেষ হয়েছে। এখন স্টান্ডবাই (দাঁড়ানো) টিকিট নিচ্ছেন যাত্রীরা। যাত্রা নিরাপদ করতেও নেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা।

জানা গেছে, এলাকায় ভোটার হওয়ার কারণে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে অনেকেই আগেভাগে বাড়ি ফিরেছেন। কর্মব্যস্ত শহর তাই ভোটের জন্য দিন দিন ফাঁকা হচ্ছে। এবারের ভোটের দিন পড়েছে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে। ফলে ভোটের আগের দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটিসহ একটানা তিন দিন ছুটি মিলেছে। পরপর তিন দিনের ছুটি ঘরপিপাসু মানুষের জন্য পরিণত হয়েছে ঈদের ছুটিতে। এর সঙ্গে কেউ আগের দুই দিন বুধ ও বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়েছেন। এ ধরনের ব্যক্তিরা বড়দিনের ছুটিসহ ছয়দিন এলাকায় থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। আবার অনেকে তিন দিনের সঙ্গে ভোটের পর আরও কয়েকদিন ছুটি নিয়ে দীর্ঘসময় বাড়ি থাকার ব্যবস্থা নিয়ে গেছেন। ফলে ভোটের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, রাজধানী ততই ফাঁকা হচ্ছে। প্রচণ্ড কর্মব্যস্ত নগর ঢাকা এখন প্রায় ফাঁকা, রাজপথে মানুষের আনাগোনা নেই বললেই চলে। মাঝে মাঝে দু'একটা গণপরিবহন চললেও এগুলো প্রায় যাত্রীশূন্য।

কারণ হিসেবে তারা বলছেন-বিগত নির্বাচনে তারা ১১টা পর্যন্ত যাত্রীসেবা দিতে গিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছিলেন। যাত্রী নামিয়ে গ্যাস বা জ্বালানি তেল ভরতে গিয়ে ফিলিংস্টেশনেই গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটে বাড়ি যেতে বাধ্য করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

রাজধানীর পাশাপাশি শহরতলির গণপরিবহনেরও একই চিত্র। অফিস বন্ধ থাকায় শনিবার সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা চলাচলকারী বন্ধন, উৎসবও শীতল এবং সোনারগাঁও থেকে চলাচলকারী দোয়েল, স্বদেশ ও বোরাক পরিবহনেও একই চিত্র চোখে পড়েছে।

এ ব্যাপারে দোয়েল পরিবহনের চেয়ারম্যান আবদুস সাত্তার জানান, টানা তিন দিনের ছুটি পেয়ে মেঘনা শিল্পাঞ্চলের অনেকেই সপরিবারে বাড়ি চলে গেছে। তাই রাত ১১টা পর্যন্ত যান চলাচলে বাধা না থাকলেও যাত্রী সংকটে আগভাগেই বন্ধ করতে হতে পারে।

  চিরচেনা ব্যস্ত রাজধানীতে সুনসান নীরবতা। শনিবার সকালে রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা গুলিস্তান ও জিরো পয়েন্টেও তেমন কোনো গণপরিবহন চোখে পড়েনি। ছিল না কোনো যাত্রীর চাপও। অনেকে ভোট দিতে এবং ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় সপরিবারে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। বৃহস্পতিবার অফিস শেষ করেই অনেকে বাড়ির পথে রওনা হন।

রাস্তার ওপর রিকশার ঘণ্টার টুংটাং শব্দ, দু-চারটি বাস-গাড়ির শব্দে ছুটে চলা, অল্প কিছু লোকের হেঁটে চলা-এই ছিল শনিবার সকালে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলের চিত্র।

ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, পান্থপথ, মোহাম্মাদপুর, সংসদ ভবন এলাকা, মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগ, রাজারবাগ, ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা, পল্টন, শাহবাগ ও বাংলামটর এলাকা ঘুরে মানুষের ছোটাছুটি লক্ষ্য করা গেছে।

বেশিরভাগ মানুষই নিজ নিজ গ্রামে যাওয়ার গাড়ি কিংবা ট্রেন-লঞ্চের টিকিট সংগ্রহ নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। রেলওয়ে স্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলোতেও সাধারণ দিনের চেয়ে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেশি দেখা যায়।

রাজধানীর সায়েদাবাদ টার্মিনালে কথা হয় চাদঁপুর এলাকার বাসিন্দা আসিফ রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, পরিবারের চারজন ভোটার, তাদের নিয়েই তিনদিনের জন্য বাড়ি যেতে হচ্ছে। ঠিক ঠিকভাবে ভোট দিয়েই ঢাকায় ফেরার ইচ্ছা আছে। তিনি বলেন, পাঁচ বছর পর নাগরিক অধিকারের ভোট দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে এমপি নির্বাচিত করার সুযোগ হারাতে চাই না।

এদিকে, নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে বেশ কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটায় নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তায় জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে এবং সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ তৈরি করতে রাজধানীর রাস্তায় সেনা বাহিনীর সদস্যদেরকে টহল দিতে দেখা গেছে আজ। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে।