English Version
আপডেট : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৯:২৫
সূত্র:

ভোট উৎসবে মাদক ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

ভোট উৎসবে মাদক ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

উৎসবের সঙ্গে মাদক এখন অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। বিয়ে, জন্মদিন, ঈদ বা পূজা, থার্টি ফার্স্ট নাইট বা অন্য যে কোনো উৎসবে আনন্দ-ফুর্তির জন্য মাদকের আশ্রয় নিচ্ছে তরুণরা। সামনে জাতীয় নির্বাচন। সে নির্বাচনী উৎসবকে কেন্দ্র করেও মাদকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনী সভা-সমাবেশ, প্রচারণা, জনসংযোগসহ অন্য কাজকারবারে কর্মিবাহিনী হিসেবে কাজে লাগানো হয় তরুণদেরই। তাদের দৈনন্দিন খরচ জোগান প্রার্থীরা। হাতে আসা নগদ টাকাই মাদক কিনতে উৎসাহ জোগায় কর্মীদের। কর্মীরাও উৎসবমুখর পরিবেশে নিজেদের ‘ফুর্তি’ ও ‘আনন্দের’ জন্য আশ্রয় নেয় মাদকের। আবার কখনো কখনো প্রার্থীরাই টাকা ও মাদকের প্রলোভন দিয়ে ভাড়া করে আনেন ‘বিশেষ’ কর্মিবাহিনী। এ চিত্র দেশের সব নির্বাচনী উৎসবেরই। যদিও মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্মরণকালের সবচেয়ে কড়া অভিযান চলছে সারা দেশে। এরই মধ্যে বেশ কিছু মাদককারবারি মারাও গেছে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’। কিন্তু এরপরও মাদকের বিস্তার থেমে নেই। এ অবস্থায়ই অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ হতে পারে বলেই আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, মাদকের বিস্তার রোধের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এখনকার অগ্রাধিকার জাতীয় নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পূর্ণ শক্তি নিয়োজিত রাখা হয়েছে যে কোনো ধরনের নির্বাচনী সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা রোধে। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ কিছুটা কমে গেছে। এই সুযোগকেই ব্যবহার করতে চায় মাদককারবারিরা। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলেছে, নির্বাচনে মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণও নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যে কোনো কায়েমি দল বা ব্যক্তি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বানচালে দুর্বৃত্তদের ব্যবহার করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিপুল অর্থ ও মাদকের ব্যবহার অনেকটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এ ব্যাপারে সজাগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

খোদ মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উচ্চপদের এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা ভালো নয়। প্রতিটি নির্বাচনেই মাদকের বিস্তার বৃদ্ধি পায়। এবারের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখেও মাদকদ্রব্যের মজুদ বাড়তে পারে। কারণ, মাদককারবারিরা ব্যবসা পরিচালনায় নিত্যনতুন কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। তারা এখন উৎসব-পার্বণেই বেশি সক্রিয়। দেশজুড়ে গড়ে ওঠা মাদককারবারি সিন্ডিকেটও বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে বিপুল মাদক সরবরাহ করে। এদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাদককারবারিদেরও রয়েছে শক্ত যোগাযোগ। বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে দেশে ঢুকছে মাদক। আকাশ, নৌ ও সীমান্ত পথেই মাদকের চালান ঢোকে। আন্তর্জাতিক মাদককারবারিরা বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবেও ব্যবহার করছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে এখন হাত বাড়ালেই মিলছে যে কোনো মাদকদ্রব্য।

পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীকে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়। এ সময় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকাই জমজমাট থাকে। ফলে কোন দিকে নজর রাখবে পুলিশ? আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নাকি মাদক নিয়ন্ত্রণে? এ সময় সহজ অর্থের জোগানই মাদক বিস্তারের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, প্রার্থী বা প্রার্থীদের মনোনীত নেতাদেরই এ ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত-যে তাদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে মাদকসেবীরা যুক্ত হচ্ছেন কি না, কিংবা মাদকের ব্যবহার হচ্ছে কি না।

মাদকের কোনো দল নেই উল্লেখ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের প্রধান মুকুল জ্যোতি চাকমা খোলা কাগজকে বলেন, মাদকের ব্যাপারে আমরা জিরো ট্রলারেন্সে রয়েছি। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া মাদকের ডেরাগুলোকে চিহ্নিত করে সেখানে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এই কর্মকর্তা আরও বলেন, মাদক থেকে যেন কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি নির্বাচনী সুবিধা গ্রহণ করতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা সচেতন। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত সম্পর্কে মুকুল জ্যোতি বলেন, আমরা তালিকা তৈরি করছি। তা ছাড়া বিভিন্ন সোর্সে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি। এ ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।