English Version
আপডেট : ৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০৮:২৮

তফসিল নিয়ে ইসির প্রাথমিক বৈঠক আজ

অনলাইন ডেস্ক
তফসিল নিয়ে ইসির প্রাথমিক বৈঠক আজ

তফসিল ঘোষণা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক বৈঠক আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। গতকাল সন্ধ্যায় কমিশনের বৈঠক শেষে একথা জানান তিনি।

ইসি সচিব বলেন, চলতি সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে। খুব শিগগিরই তফসিল ঘোষণা করা হবে। তফসিল ঘোষণা করার আগেই বিষয়গুলো চূড়ান্ত পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে, কোথাও কোনো সমস্যা রয়েছে কিনা, বৈঠকে এগুলো নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, জনপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) সংশোধনের বিষয়ে গত ৩১ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি যে অধ্যাদেশ জারি করেছেন, তার দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। এর একটি হচ্ছে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল, আরেকটি ইভিএম বিধিমালা। কীভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিধিমালা কমিশন সভায় অনুমোদন হয়েছে। তবে ইভিএম বিধিমালা আলোচনা সম্পন্ন না হওয়ায় বৈঠক মুলতবি করে আগামীকাল (আজ) আবারো বসবে কমিশন।

গতকালের বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে ইসি সচিব বলেন, বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতির কথা কমিশনকে অবহিত করেছি। এরই মধ্যে ৩০০টি আসনে নির্বাচনের জন্য আসন বিন্যাস চূড়ান্ত হয়েছে। ৭৫টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের যে আবেদন ছিল, তা নিষ্পত্তি হয়েছে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। যারা প্রার্থী হবেন, তাদের জন্য সিডি প্রস্তুত করা হয়েছে।

দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকদের নীতিমালা চূড়ান্ত করে তার অনুমোদনও নেয়া হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ের ১১৯ জন পর্যবেক্ষক চূড়ান্ত করা আছে। যেসব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা, সে বৈঠকও এরই মধ্যে হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়কে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অন্যান্য প্রস্তুতির বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ম্যানুয়াল, নির্দেশিকা ও অন্যান্য প্রশিক্ষণের বিষয়ে যে বইগুলো বের হওয়ার কথা, সেগুলো এরই মধ্যে ছাপাখানায় রয়েছে। নতুন আচরণ বিধিমালা এবং নতুনভাবে মনোনয়নপত্র মুদ্রণ করা হয়েছে। এছাড়া যাবতীয় সিল, মার্কারসহ নির্বাচনের অন্য সব ধরনের সামগ্রী কেনা সম্পন্ন হয়েছে। সেই সঙ্গে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল তৈরি করার কাজও চলমান রয়েছে। আমরা এরই মধ্যে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তারা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এসব প্রস্তুতির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে।

তফসিল ঘোষণা না করতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চিঠির বিষয়ে প্রশ্ন করলে ইসি সচিব বলেন, ঐক্যফ্রন্টের চিঠি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। চিঠি এখনো আমাদের হাতে পৌঁছেনি। যেহেতু আগামীকাল আবারো কমিশন সভা বসবে, তাই বিষয়টি সেখানে অবহিত করা হবে।

৪ নভেম্বরের বৈঠকে তফসিল ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, তফসিল কখন ঘোষণা করা হবে। শুধু নির্বাচনের তারিখ নয়, মনোনয়নপত্র দাখিল, তা প্রত্যাহার, বাছাই ইত্যাদি বিস্তারিত বিষয় নিয়ে প্রাথমিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

৪ নভেম্বরের বৈঠকে তফসিল ঘোষণা হচ্ছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, বৈঠক করে বুঝতে পারব, তফসিল চূড়ান্ত হবে কিনা। তবে এ সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করার প্রস্তুতি রয়েছে। তফসিল এ সপ্তাহে ঘোষণা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নির্বাচনের সময় নিয়ে প্রশ্ন করলে ইসি সচিব বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করার একটি প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।

বিএনপির গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে আদালতের পর্যবেক্ষণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু আদালতের একটি পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেহেতু আমরা এটি কমিশন সভায় উপস্থাপন করব, যাতে আদালতের পর্যবেক্ষণ বাস্তবায়ন করা যায়।

বিএনপির গঠনতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করলে ইসি সচিব বলেন, বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধনী আমাদের নথিতে রয়েছে। যেহেতু আদালত এক মাসের সময় দিয়েছে নিষ্পত্তি করতে। ফলে বিএনপি আগের অবস্থাতেই রয়েছে।

ইসিকে ড. কামাল হোসেনের চিঠি: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর চলমান সংলাপ শেষ হওয়ার পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদাকে অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। গতকাল সিইসির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আবারো সংলাপে বসতে আগ্রহী উল্লেখ করে ড. কামাল হোসেন চিঠিতে বলেছেন, সংলাপে সম্ভাব্য সমঝোতা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আনতে পারে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্যাডে ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এ চিঠি ইসিতে পৌঁছে দেন গণফোরামের প্রশিক্ষণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক।

চিঠিতে ড. কামাল হোসেন উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ হয়েছে। বিভিন্ন দলের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত আছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ৮ নভেম্বরের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের বিষয়টি আবারো বিবেচনায় রয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবারো সংলাপে বসতে ইচ্ছুক।

সিইসির উদ্দেশে চিঠিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত্কার শেষে আপনারা জানিয়েছেন, ৪ নভেম্বর কমিশন বৈঠকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আপনারা যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপের বিষয়টি অবগত আছেন ও সেদিকে নজর রাখছেন— সে প্রেক্ষাপটে আমরা মনে করি, তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা করাই শ্রেয়।

এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংলাপ শেষ হওয়ার পর তফসিল ঘোষণার তারিখ নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়ে ড. কামাল হোসেন চিঠিতে আরো উল্লেখ করেছেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তফসিল ঘোষণা দিনক্ষণ নির্ধারণে আপনাদের এমন অপেক্ষা রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তফসিল ঘোষণা নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ উল্লেখ করে ড. কামাল হোসেন চিঠিতে বলেছেন, তফসিল ঘোষণার পরই রাজনৈতিক দলগুলো ও প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করেন। যেকোনো ধরনের নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা হচ্ছেন অন্যতম স্টেকহোল্ডার। তাদের কর্মকাণ্ড ও কর্মসূচিকে আমলে নেয়া নির্বাচন কমিশনের মৌলিক দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতা একাদশ জাতীয় নির্বাচনসহ দেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক গুণগত পরিবর্তন আনতে পারে— যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য আপনাদের প্রচেষ্টাকেও সহায়তা করবে।